
ইতালির ভেনিসের কাছে একটি পুরো ব্যক্তিগত দ্বীপ বিক্রি হচ্ছে ৫৫ লাখ ইউরোতে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ক্রেভান নামের দ্বীপটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নেপোলিয়ন আমলের একটি পুরোনো দুর্গ। পরে দুর্গটি সংস্কার করে আবাসিক ভবনে রূপ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে ইউরোনিউজ।
ভেনিসের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় সাড়ে ৭ কিলোমিটার দূরে ভেনিস লেগুনে অবস্থিত ক্রেভান দ্বীপটির আয়তন ৫ হাজার ৭০০ বর্গমিটার। সবুজ গাছপালায় ঘেরা দ্বীপটি থেকে আশপাশের ভেনিসীয় দ্বীপগুলোর বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়।
দ্বীপটির বর্তমান আবাসিক ভবনটি ২১৫ বর্গমিটারের। এতে রয়েছে চারটি শোবার ঘর ও তিনটি বাথরুম। নৌকা ভেড়ানোর জন্য রয়েছে দুটি জায়গা এবং একটি ডক বা নৌঘাট। দ্বীপটিতে যেতে হলে নৌপথ বা হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে হয়।
ক্রেভানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপনা হলো নেপোলিয়ন আমলে নির্মিত দুর্গটি। পরে পুরোনো দুর্গের কাঠামো ধরে সংস্কার করে সেটিকে আবাসিক ভবনে রূপ দেওয়া হয়।
দ্বীপটির বিক্রির দায়িত্বে থাকা লিওনার্ড লাক্সারি রিয়েল এস্টেটের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী দিমিত্রি কর্টি বলেন, ভেনিসে ক্রেভান এমন একটি সুবিধা দিচ্ছে, যা দিন দিন বিরল হয়ে উঠছে। শহরের খুব কাছে থেকেও এখানে প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন ও নিরিবিলি পরিবেশ উপভোগ করা যায়।
কর্টির ভাষ্য, দ্বীপটি প্রকৃতি দিয়ে ঘেরা এবং সেখান থেকে বুরানো ও তোরচেল্লো দ্বীপের দৃশ্য দেখা যায়। প্রকৃতি, ব্যক্তিগত পরিসর ও ইতিহাসের সমন্বয়ে ক্রেভান বিশেষ হয়ে উঠেছে।
ক্রেভানের কাছেই রয়েছে ভেনিসের অন্যতম পরিচিত দ্বীপ বুরানো। রঙিন বাড়িঘরের জন্য দ্বীপটি ‘ভেনিসের সবচেয়ে রঙিন দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত। ঐতিহ্যবাহী লেস ও কাচের কাজের জন্যও এর পরিচিতি রয়েছে।
আরেক প্রতিবেশী দ্বীপ তোরচেল্লোতে বাস করেন মাত্র প্রায় এক ডজন মানুষ। তুলনামূলক নিরিবিলি এই দ্বীপে স্থানীয় ইতিহাস ও কিংবদন্তির নানা নিদর্শন রয়েছে। এর মধ্যে ‘আত্তিলার সিংহাসন’ নামে পরিচিত একটি রহস্যময় মার্বেল আসনও রয়েছে।
দিমিত্রি কর্টি বলেন, ক্রেভানের নতুন মালিক শুধু একটি বাড়ির নয়, ভেনিস লেগুনের ইতিহাসের একটি অংশেরও মালিক হবেন।
সূত্র: ইউরোনিউজ
আরটিভি/এসকে

