ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মতুয়ারা কি এবার ভোট দিতে পারবেন

ডয়চে ভেলে

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর্ব শেষে মতুয়ারা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। সুপ্রিম কোর্ট কি তাদের স্বস্তি দিল?

পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভিন্ন রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন। এই রাজ্যে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক মতুয়া জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকারে প্রশ্নচিহ্ন পড়েছে। এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতে মামলা সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হলে ভোটাধিকার পাওয়া যাবে না। সিএএ-তে নাগরিকত্বের আবেদন করা মতুয়াসহ বাংলার বহু আবেদনকারীর ভোটাধিকার এখন অনিশ্চিত।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন অনুযায়ী যোগ্য হলেও যাদের আবেদন এখনও বিবেচনায় রয়েছে, তাদের ভোটদানের সুযোগ দিতে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আত্মদীপ শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছিল। এসআইআরের পরে প্রকাশিত সংশোধিত ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করারও অনুরোধ জানানো হয়। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়ারও আর্জি ছিল সংস্থাটির।

আত্মদীপের পক্ষে আইনজীবী করুণা নন্দী সওয়াল করলেও আদালত ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, নাগরিকত্ব মঞ্জুর হওয়ার আগে ভোটাধিকার সম্ভব নয়। আবেদন বিচারাধীন থাকা মানেই আবেদনকারী এখনো ভারতীয় নাগরিক নন। ফলে ভোটার তালিকায় তাদের নাম ওঠার প্রশ্নই নেই।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ থাকলে কেউই ভোটার তালিকায় থাকতে পারেন না।

কমিশনের আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী বলেন, নাগরিকত্ব নির্ধারণে নির্বাচন কমিশনের কোনও ভূমিকা নেই। সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রকে এক সপ্তাহের মধ্যে মত জানাতে নোটিস দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আগামী সপ্তাহেই শুনানি হবে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র যদি দ্রুত নাগরিকত্ব প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং তা ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ হয়, তবে আবেদনকারী নাগরিকত্ব পাওয়ার পরে ভোট দিতে পারবেন। তবে তার জন্য নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়াই প্রধান শর্ত। কত নাম বাদের আশঙ্কা তফসিলি জাতি-উপজাতি ও মতুয়া মিলিয়ে রাজ্যের প্রায় ৩০, ৪০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছে শিডিউল কাস্ট ফেডারেশন, মতুয়া ধর্ম মহাসংঘ।

তাদের দাবি, দেশভাগের সময়ে ও পরে উৎপীড়নের কারণে ওপার বাংলা থেকে আসা বহু মানুষের কাছে বৈধ নথি নেই। সেই নথি ছাড়া এসআইআরের ফর্ম জমা দেয়া সম্ভব নয়। ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার সংকটে পড়তে পারে।

সংগঠনের সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় মল্লিক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন, ২০০২ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত যারা ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছেন, তাদের ভোট সুরক্ষিত রাখতে হবে। পরিবারের অন্য সদস্যের নাম তালিকায় থাকলেও সেই ভোটারকে অযোগ্য চিহ্নিত করা উচিত নয়। নির্বাচন কমিশনের দাবি মতো ১২টি নথি অনেকেরই নেই। নদী ভাঙন-সহ নানা কারণে বহু মানুষ নথিপত্র হারিয়েছেন।

তাদের বক্তব্য, শরণার্থীদের মধ্যে অনেককে মাওবাদী এলাকা বা অন্য রাজ্যে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছিল। তাদের অনেকেরই নথি অসম্পূর্ণ। মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি সাম্প্রতিক অতীতের একাধিক নির্বাচনে মতুয়াদের সমর্থন বিজেপির পক্ষে গিয়েছে বলে ভোট বিশ্লেষকদের মত। বিভিন্ন এলাকায় মতুয়াদের উপস্থিতি ও ভোটের ফল বিশ্লেষণ করে অনেকে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে বিজেপির দিকে ঝুঁকে পড়েন মতুয়ারা। ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এটাই উঠে আসে। মতুয়াপ্রধান লোকসভা কেন্দ্র উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ ও নদিয়ার রানাঘাটে বড় ব্যবধানে জিতেছিল বিজেপি। বনগাঁয় শান্তনু ঠাকুর জেতেন এক লক্ষের বেশি ভোটে। রানাঘাটে জগন্নাথ সরকারের জয়ের ব্যবধান ছিল দু’লক্ষেরও বেশি। বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ ও রানাঘাট লোকসভার অধীন ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট নির্ণায়ক। এ ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর, হাবরা, সন্দেশখালি, পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর, কালনা, রায়নাতেও এই জনগোষ্ঠীর মানুষরাই ফলাফল ঠিক করে দেন। রাজ্যে এমন আসন সংখ্যা কমবেশি ৩০।

আরও পড়ুন

সীমিত হলেও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি আসনে মতুয়াদের প্রভাব আছে। তাই মতুয়াদের মন পেতে প্রধান দুই শিবিরের চেষ্টার অন্ত নেই। ইতিমধ্যে এসআইআর নিয়ে তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর আমরণ অনশন কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ঠাকুরবাড়ির আর এক সন্তান, বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের অভিযোগ, এটি ভোটব্যাংকের রাজনীতি এবং অনশন মঞ্চে প্রকৃত মতুয়া নয়, অন্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা বেশি সংখ্যায় উপস্থিত ছিলেন। এই মঞ্চে দেখা গিয়েছে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকেও। চলতি নিবিড় সংশোধনের প্রক্রিয়াকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে বিজেপি। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় যদি মতুয়ারা ভোটদানে বঞ্চিত হয়, তাহলে বিজেপি চাপে পড়তে পারে বলে অনেক পর্যবেক্ষকের মত।

সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য বলেন, মতুয়ারা কোনোমতেই ভোট দিতে পারবেন না। এবার মতুয়ারা যদি সিএএ ফর্মে আবেদন করেন, তাহলে ওরা মুক্ত থাকবেন নাকি অসমের মতো ওদের বিজেপি জেলে ভরবে, সেটা আমরা এখনো জানি না। এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, মতুয়াদের নিয়ে বিজেপি যা যা বলেছে এখন অবধি, সেটা সম্পূর্ণ ভুল। যদি কেউ সিএএ ফর্মের প্রথম ধারাটা দেখেন, সেখানে লেখা আছে যে আমি নিজেকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ঘোষণা করছি। এই ঘোষণা করে দেওয়ার পরে, কেন্দ্রের বর্তমান সরকার আমাকে জেলে পাঠাবে, না বাইরে রাখবে, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। অন্তত অসমের অভিজ্ঞতা থেকে নেই। এটা মতুয়াদের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।

বিজেপি নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিমলশঙ্কর নন্দ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মতুয়ারা দাবি করেছিল, ওদের বৈধ নাগরিকত্ব দিতে হবে। এ দেশে আসা এবং নাগরিক হয়ে ভোটার লিস্টে নাম তোলা বৈধ নাগরিকত্ব নয়। বৈধ নাগরিকত্ব তখনই হয়, যখন আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে নাগরিক হতে হয়। মতুয়ারা দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি করে আসছিলেন। সেটা নিয়ে বড়মা বীণাপাণি দেবী একবার ধর্মতলায় বড় সভাও ডেকেছিলেন। সব রাজনৈতিক দল গিয়ে তাকে কথা দিয়ে এসেছিল যে, নাগরিকত্বের জন্য সবাই চেষ্টা করবে। কোনো রাজনৈতিক দল কথা রাখেনি, বিজেপি কথা রেখেছে।

নাগরিকত্বের পরে ভোট?

১৯৫৫-র নাগরিকত্ব আইনে সংশোধন আনা হয়েছে ২০১৯ সালে। সেই অনুযায়ী ২০১৪-র ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে যে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, জৈন, ইত্যাদি অ-মুসলিম ধর্মের মানুষ ভারতে এসেছিলেন, তাদের প্রত্যেককে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়া চললেও আবেদনকারীরা কি ভোটাধিকার পাবেন, এ প্রশ্ন উঠছে।
সুমনের মতে, তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া যাক, ভোটাধিকার নিয়ে পরে চর্চা হবে, আপাতত মতুয়ারা সিএএ পাবে। ধরে নেওয়া যাক, অবনীচন্দ্র দাস কলকাতা থেকে সিএএতে অ্যাপ্লাই করলেন, তার ছেলে গুয়াহাটিতে একটা চাকরি পেলেন।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কি কোনো বাংলাদেশ থেকে ঢুকে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকার করবেন? অসম তো বলেই দিয়েছে তারা সিএএ মানে না। সেই বাঙালিকে তো কোথাও যেতে হবে। যাবেন কোথায়? অন্য রাজ্যে গিয়ে যদি গ্রেপ্তার হয়ে যান, তার দায়িত্ব কে নেবে? অসমের অভিজ্ঞতা এটাই।

মেঘালয়, অরুণাচলের মুখ্যমন্ত্রীও বলে দিয়েছেন সিএএ মানবেন না। সুমনের বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিমলশঙ্কর বলেন, সিএএ আবেদনের ফর্মে অবৈধ শব্দটা দেখিনি। বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য। সেখানে অবৈধ শব্দ নেই। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল ভুল বোঝানোয় এ নিয়ে অনেকে ভুল বুঝেছিলেন, তারা কেউ কেউ হয়তো সিএএতে আবেদন জানাননি। পরবর্তীকালে তারা বুঝতে পেরেছেন যে কাজটা ভুল হয়ে গিয়েছে, শাসক দল তাদের ভালো চায় না, ভালো করতে চায় না। তারা চায় ওদের চিরদিনের জন্য একটা ভয়ে রেখে ভোট ব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করতে।

সুমনের বক্তব্য, ছয় বছর আগে সিএএ কার্যকর হয়েছে। এখনো অবধি মাত্র আটজন এই আইন অনুযায়ী ভারতের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আরটিআই করে এটাই জানা গিয়েছে। তাহলে কতজন ভারতের নাগরিকত্ব পাচ্ছেন সিএএ আইনে? এটা তো কেন্দ্রীয় সরকারকে বলতে হবে। মতুয়াদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে তারা কাকে ভোট দেবে। অন্তত বিজেপিকে ভোট দেওয়া উচিত নয়, এটা পরিষ্কার। ভুলে যাবেন না যে, শান্তনু ঠাকুরের দেওয়া পরিচয়পত্র নিয়ে যারা মহারাষ্ট্রে গিয়েছিলেন, তারা সে রাজ্যের জেলে আছেন। শান্তনু সপরিবার লন্ডন বেড়াচ্ছেন।

বিমলশঙ্করের মতে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তারা এখন একে একে নাগরিকত্ব অর্জন করছেন। অসংখ্য কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে তারা আবেদন করতে পারছেন। এবং অতি দ্রুত তারা সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেট পেয়েও যাচ্ছেন। যদি তাই, মানে, তাদের ভয় পাওয়ার কোন কারণ নেই। তারা অবশ্যই ভোট দিতে পারবেন এবং সেইটা দেখিয়ে ভোটার লিস্টে নাম তুলতে পারবেন। চলতি প্রক্রিয়ায় তাদেরই সমস্যা হবে, যাদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না। তারা নাম তুলতে গেলে ফর্ম ফিল আপ করবেন। কাউকে যদি ডাকে, তখন তারা সিটিজেনশিপ সার্টিফিকেট দেখাবেন। তারপরে ভোটার তালিকায় নাম উঠবে। সুতরাং, নিজেকে অবৈধ ঘোষণা করার প্রশ্নটাই বা আসছে কোথায়? পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল এখনো কেন মিথ্যাচার করে যাচ্ছে? লাভ কি তৃণমূলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের মন্তব্য, মতুয়াদের যদি আগে থেকে ভোটার তালিকায় নাম না থাকে, তাহলে তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা এ দেশের নাগরিক। সেটা প্রমাণ করতে গেলে সিএএ-র অধীনে তাদের আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সঠিক কথা বলেছে, কেস-টু-কেস দেখতে হবে।

আরও পড়ুন

অর্থাৎ একজনকে নাগরিকত্ব দিয়ে দিলাম প্রভিশনাল, এরকম তো হয় না। নাগরিকত্ব প্রভিশনাল হয় না। নাগরিকত্ব যাচাই করতে হবে। আবেদনকারী কতদিন ভারতে আছেন, তিনি আদৌ বাংলাদেশ থেকে এসেছেন কিনা, অন্য কোন জায়গা থেকে এসেছেন, কবে এসেছেন এগুলো খতিয়ে না দেখে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের অধীনে একজনকে প্রভিশনাল নাগরিকত্ব দেওয়া যায় না। তাহলে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করবার জন্য প্রত্যেকটা ইউনিক কেসে একটা শুনানি করতে হবে। সেটা চূড়ান্ত হতে যে সময় লাগবে, তার মধ্যে ভোট হয়ে যাওয়ার কথা। অন্তত ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার কথা। ফলে সন্দেহের জায়গা থেকেই যাচ্ছে।

তিনি বলেন, একসঙ্গে বসলাম আর ৫০ হাজার লোকের একটা শুনানি নিয়ে তাদের প্রত্যেককে নাগরিকত্ব দিলাম, এটা তো হতে পারে না। সুতরাং সুপ্রিম কোর্ট যেটা বলেছে, সেটা ঠিক কথা কেস বাই কেস ভেরিফিকেশন করতে হবে, শুনানি করতে হবে, তারপর স্থির করতে হবে। প্রভিশনাল নাগরিকত্ব নয়, স্থায়ী নাগরিকত্ব দিলে তবেই একমাত্র কেউ ভোটাধিকার পাবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সিটিজেনশিপ ডিপার্টমেন্ট, হোম ডিপার্টমেন্টের একটা বিরাট বেঞ্চ বসিয়ে শুনানি যদি করিয়ে নিতে পারে, তাহলে হতে পারে। আর যদি সেটা না করতে পারে, তাহলে ১৬ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার আগে, এই দুই মাসের মধ্যে কী করে হবে, এটা বুঝতেই পারছি না।

এই নাগরিকত্ব, ভোটাধিকার নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি যে লড়াই করছে, তাতে আখেরে ফায়দা কার হবে?​অধ্যাপক ভট্টাচার্য ব্যাখ্যা করেন, আখেরে ফায়দা হবে তৃণমূলের। কারণ মতুয়াগড়টা অনেকটাই বিজেপির হাতে চলে গেছে। সেই জায়গাতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল এবার বোঝাতে সক্ষম হবে যে এসআইআর করা, মতুয়াদের বারবার করে সিএএ-র অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে বলা, এর মধ্যে আসলে অভিসন্ধি হচ্ছে এদের বাদ দেওয়ার।

এই বিষয়টা নিয়ে বহুদিন আগে থেকেই বিজেপির সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের বলা উচিত ছিল যে, এখানে তাদের যে গড়, সেইখানে যারা এখনো নাগরিকত্ব পাননি, তাদের কোনোভাবে নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা। সেটা যখন করেনি, তখন লাভ তো আখেরে তৃণমূলের হবে।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চলন্ত গাড়িতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়
ভারতে নারী নিরাপত্তার কঙ্কালসার রূপটি আবারও উন্মোচিত হলো হরিয়ানার ফরিদাবাদে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে এক ২৮ বছর বয়সী নারীকে চলন্ত গাড়িতে তুলে নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে দুই যুবক। পৈশাচিক এই নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। বর্বরোচিত এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। খবর এনডিটিভির।  পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী রাতে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুই যুবক তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভ্যানগাড়িতে তোলে। কিন্তু গাড়িটি গন্তব্যে না গিয়ে গুরগাঁও সড়কের নির্জন পথে চলতে শুরু করে। চলন্ত গাড়ির ভেতর আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে পাশবিক নির্যাতন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। আরও পড়ুন ‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী রাত ৩টার দিকে ফরিদাবাদের এসজিএম নগরের কাছে চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় অভিযুক্তরা। এতে ওই নারীর মুখ ও শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ওই অবস্থায় তিনি কোনোমতে তার বোনকে ফোন করলে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর জখম হওয়ায় তার মুখে ১০-১২টি সেলাই দিতে হয়েছে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী তিন সন্তানের জননী এবং পারিবারিক কলহের কারণে বর্তমানে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছেন। ঘটনার রাতে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে এক বান্ধবীর বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন তিনি। পথে এই ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন তিনি। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত জবানবন্দি গ্রহণ ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। ভারতে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও দেশটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, রাতের রাস্তায় নারীরা এখনো কতটা অসুরক্ষিত। আরটিভি/এআর 
চলন্ত গাড়িতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়
‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে এক বিস্ফোরক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি হিন্দু দম্পতিদের কেবল একটি সন্তানে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্তত দুই অথবা তিন সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তার বার্তা হলো—তারা যেন সাত-আট সন্তান না নেয়। মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।  মঙ্গলবার(৩০ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হিমন্ত শর্মা দাবি করেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জন্মহার অস্বাভাবিক বেশি, বিপরীতে হিন্দুদের মধ্যে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হিন্দুরা যদি সন্তান সংখ্যা না বাড়ায়, তবে ভবিষ্যতে তাদের ঘর ও সম্পদ দেখভাল করার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। আসামের জনমিতি বা জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।  আরও পড়ুন নতুন বছরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগতে পারে মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলমানদের জনসংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তিনি তার ছাত্র রাজনীতির সময়কার কথা উল্লেখ করে বলেন, এক সময় তাদের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২১ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ৩১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। হিমন্ত শর্মার আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে ভূমিপুত্র অসমীয়াদের জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে যাবে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের প্রভাব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ওরা (বাংলাদেশ) প্রায়ই বলে উত্তর-পূর্ব ভারত আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। এর জন্য যুদ্ধ করার দরকার নেই, জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ পেরোলে তা আপনা-আপনি হয়ে যাবে।  হিমন্ত শর্মা তার বক্তব্যে বিরোধী দল কংগ্রেসকেও একহাত নেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের ভেতর থেকে মুসলমানদের জন্য ৪৮টি আসন সংরক্ষণের দাবি তোলা হচ্ছে এবং দলটির ‘ইকোসিস্টেম’ পুরোপুরি সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।  আরটিভি/এআর 
‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামীকাল বুধবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ এই নেতার অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল ভারত নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রামের স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সুসম্পর্কের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও মন্ত্রীরা তাকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকায় আসছেন। ইতোমধ্যেই তাদের আগমনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠেয় এই জানাজায় দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বিশ্বমঞ্চে যে শোকের ছায়া নেমেছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর তারই এক জোরালো প্রতিফলন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে প্রটোকল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।  বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। আরটিভি/এআর 
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এবার ‘চীনা সন্দেহে’ ভারতে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী দেহরাদুনে এবার ‘চীনা সন্দেহে’ হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ত্রিপুরার এক মেধাবী শিক্ষার্থী। গত ৯ ডিসেম্বর কেনাকাটা করতে গিয়ে একদল যুবকের বর্ণবিদ্বেষী গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় ২৪ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেল চাকমাকে। টানা ১৪ দিন ভেন্টিলেটরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহত অ্যাঞ্জেলের বাবা একজন বিএসএফ জওয়ান; যিনি সীমান্তে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।  নিহত অ্যাঞ্জেল চাকমা (২৪) দেহরাদুনের জিজ্ঞাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ এর শিক্ষার্থী ছিলেন।  আরও পড়ুন ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) অ্যাঞ্জেলের মরদেহ তার নিজ শহর আগরতলায় আনা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্ব ভারতসহ পুরো দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। পরিবারের অভিযোগ, শুধুমাত্র চেহারার কারণে তাদের সন্তানদের ‘চীনা’ বলে অপমান করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল উগ্র যুবক। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অ্যাঞ্জেল তার ছোট ভাই মাইকেল দোজের সাথে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন যুবক তাদের গতিরোধ করে এবং ‘চীনা’ বলে গালিগালাজ শুরু করে। অ্যাঞ্জেল শান্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা চীনা নই, আমরা ভারতীয়। আমাদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করার জন্য কি কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে হবে? এই তর্কের মাঝেই অভিযুক্তরা ধারালো ছুরি দিয়ে অ্যাঞ্জেলের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে আঘাত করে। মাইকেলকেও গুরুতর জখম করা হয়।  এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে দুইজন নাবালক। তবে মূল অভিযুক্ত যজ্ঞ অবাস্থি এখনও পলাতক। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নেপালে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ তার সন্ধান দিতে পারলে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্মিলিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছাত্র সংগঠনগুলো রাজপথে নেমে এসেছে। তারা জাতিগত ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর জাতীয় আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।  তিপ্রা মোথা পার্টির প্রধান প্রদ্যুৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তর-পূর্বের মানুষ দেশের সীমান্ত রক্ষা করে, অথচ তাদেরই নিজ দেশে ‘চীনা’ বলে অপমানিত হতে হয়। এটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয় বরং দেশের ঐক্যের ওপর বড় আঘাত। উল্লেখ্য, অ্যাঞ্জেল চাকমার এই হত্যাকাণ্ড সম্প্রতি ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে শ্রমিকদের ওপর চলা নির্যাতনের বীভৎস স্মৃতিকে পুনরায় সামনে এনেছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্রেফ সন্দেহের বশে অনেককে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।   আরটিভি/এআর 
এবার ‘চীনা সন্দেহে’ ভারতে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব
বিশ্বজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা বারবার আলোচনায় এলেও, ভারত সরকার প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভিসা জালিয়াতি এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের কারণেই এই বহিষ্কারের ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।  রিয়াদের ভারতীয় মিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার বছরে সৌদি আরব থেকে কয়েক হাজার ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২১ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ জন, ২০২২ সালে ১০ হাজার ২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৮৬ জন এবং ২০২৪ সালে ৯ হাজার ২০৬ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯ জনে। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, কাজের অনুমতি ছাড়া চাকুরি করা এবং নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আরও পড়ুন তাজমহল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীর সৌদি আরবের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বহিষ্কারের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ওয়াশিংটন ডিসি মিশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪১৪ জন ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বাড়লেও সৌদি আরবের সংখ্যার ধারেকাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহর যেমন সান ফ্রান্সিসকো, নিউ ইয়র্ক বা শিকাগো থেকে বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল মাত্র দুই বা তিন অংকের ঘরে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাবে আরও দেখা যায় যে, শুধুমাত্র সৌদি আরব বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ৫৯১ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ১ হাজার ৪৬৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৮৫ জন এবং বাহরাইন থেকে ৭৬৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও কয়েকশ ভারতীয় নাগরিক বহিষ্কৃত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের উদ্ধার এবং নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে ভারতীয় মিশনগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রম আইন নিয়ে ভারতীয় কর্মীদের সচেতনতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে নয়াদিল্লি। আরটিভি/এআর 
ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব