ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বন্দে মাতরমকে জাতীয় সংগীত না করায় নেহরুকে তোপ মোদীর

ডয়চে ভেলে

প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:১৩ পিএম
বঙ্কিমচন্দ্র, নরেন্দ্র মোদী এবং জওহরলাল নেহরু। সংগৃহীত ছবি

লোকসভায় নরেন্দ্র মোদী বললেন, বন্দে মাতরমের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে এবং সেটা করেছে নেহরুর নেতৃত্বে কংগ্রেস। বন্দে মাতরমের দেড়শ বছরে লোকসভায় বিশেষ আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বঙ্কিমচন্দ্রকে চারবার বঙ্কিমদা সম্বোধন করলেন। প্রধানমন্ত্রী বললেন, মহাত্মা গান্ধী ১৯০৫ সালে লিখেছিলেন, বন্দে মাতরম লোকের মুখে মুখে ফিরছে তা জাতীয় সংগীত হয়ে গেছে। কিন্তু তারপরেও মুসলিম লিগের দাবির কাছে নতিস্বীকার করেন জওহরলাল নেহরু।

চিঠি লিখে নেহরু বলেন, তিনি জিন্নার ভাবনার সঙ্গে সহমত, আনন্দমঠের পৃষ্ঠভূমি মনে রাখলে বন্দে মাতরম মুসলিমদের ইরিটেট করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কলকাতায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বন্দে মাতরমকে টুকরো করা হলো। বন্দে মাতরম এত মহান হওয়া সত্ত্বেও কেন তার প্রতি অন্যায় করা হলো, কেন বিশ্বাসঘাতকতা করা হলো, কোন শক্তি যার ইচ্ছা পূজ্য বাপুর ভাবনাকেও বাতিল করে দিলো। কংগ্রেস বন্দে মাতরমকে বাতিল করে দিলো। তুষ্টীকরণের রাজনীতি করলো। তাই কংগ্রেসকে ভারতের বিভাজনও মেনে নিতে হয়েছে।

কংগ্রেসের নীতি সেরকমই আছে, আজও কংগ্রেস বন্দে মাতরমের বিরোধ করে যাচ্ছে। বঙ্কিমদা বলে সম্বোধন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তার ভাষণে বার চারেক বঙ্কিম চন্দ্রকে বঙ্কিমদা বলে সম্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্কিমদা যখন বন্দে মাতরম লিখলেন, তখন তা দেশের স্বর হয়ে উঠলো। একাধিকবার বঙ্কিমদা বলার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায় বলেন, অন্ততপক্ষে বঙ্কিমবাবু বলুন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, আমি আপনার ভাবনাকে সমর্থন করি। বঙ্কিমবাবু বলছি। তারপর তিনি বলেন, আমি আপনাকে তো দাদা বলি। সেটা বলব তো। নাকি তাতেও আপনি আপত্তি করবেন?

বঙ্কিমচন্দ্র বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক অভ্র ঘোষ বলেছেন, এরকম ধৃষ্টতা কী করে হয়? বঙ্কিমচন্দ্রকে কেউ কখনো বঙ্কিমদা বলেছেন বলে শুনিনি। অরবিন্দ ১৯০৫ সালে প্রথমে বলেন ঋষি বঙ্কিম। তারপর থেকে অনেকেই তাকে ঋষি বঙ্কিম বলেন, বঙ্কিমদা কেউ বলেননি।

আরও পড়ুন

প্রবীণ সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র বলেছেন, হয়তো প্রধানমন্ত্রী একটু বেশি বাঙালি হতে চেয়েছেন। কী বলেছেন মোদী? প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বন্দে মাতরমের ১৫০ বছরের যাত্রা অনেক পর্বের মধ্যে দিয়ে গেছে। এই গান যখন লেখা হয়, তখন দেশ পরাধীন ছিল। এই গান লেখার একশ বছর যখন পূর্ণ হলো, তখন দেশ জরুরি অবস্থার শিকলে বন্দি ছিল। তখন সংবিধানের গলা চেপে ধরা হয়েছিল। দেশভক্তির জন্য যারা বাঁচতেন, মারা যেতেন, তাদের জেলে বন্দি করি হলো। দুর্ভাগ্য, বন্দে মাতরমের একশ বছরে এই কালখণ্ডও ইতিহাসে ঢুকে গেল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দে মাতরম কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতার মন্ত্র ছিল না, তার থেকে আরো বেশি কিছু ছিল। দেশবাসীর গর্ব হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, জওহরলাল নেহরুর উচিত ছিল, জিন্নার আধারহীন বক্তব্যের কঠোর জবাব দেওয়া, নিন্দা করা। কিন্তু তিনি জিন্নার ভাবনার সঙ্গে সহমত হলেন। কংগ্রেস মুসলিম লিগের সামনে হাঁটু মুড়ে বসলো।

মোদীর দাবি, বন্দে মাতরম রাস্তা তৈরি করেছে, তাই আমরা এখানে এসেছি। বন্দে মাতরম আমাদের প্রেরণা। প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর বক্তব্য প্রিয়াংকা প্রশ্ন করেন, আজ এই বিতর্কের প্রয়োজন কী? বন্দে মাতরম তো দেশের সর্বত্র মানুষের মনে আছে। আমাদের জাতীয় গান নিয়ে কীসের বিতর্ক? তাও এনিয়ে যে আলোচনা হচ্ছে তার প্রথম কারণ, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন আসছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার নিজের ভূমিকা পালন করতে চান।

দ্বিতীয় কারণ, একটা পুরনো উদ্দেশ্য, যারা স্বাধীনতার লড়াই লড়েছে, তাদের বদনাম করা। দেশের জ্বলন্ত সমস্যার থেকে মানুষের নজর ঘোরানো।

প্রিয়াংকা গান্ধী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মহাপুরুষদের অপমান করেছেন। সংবিধান সভাকে অপমান করেছেন। তিনি যতদিন প্রধানমন্ত্রী আছেন, ততদিন নেহরু জেলে ছিলেন। এরপর ১৭ বছর ধরে তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। নেহরু দেশের জন্য বেঁচেছেন, দেশের সেবা করতে করতে মৃত্যু হয়েছে। এর থেকে ভালো হবে, স্পিকার সময় ঠিক করে দিন। যতক্ষণ তিনি শান্ত না হচ্ছেন, আমরা কথা বলব। নেহরু, ইন্দিরা, রাজীব, পরিবারবাদ নিয়ে তার যা বলার একবারে বলে দিন। তারপর বিষয়টি ক্লোজ করুন।

তারপর বেকারি, মূল্যবৃদ্ধি ইত্যাদি নিয়ে কথা বলুন। নারীদের অবস্থা নিয়ে কথা বলুন। মহুয়া মৈত্র যা বললেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, যখন বেকারি ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, দিল্লিতে বায়ুদূষণের পরিমাণ ৮০০ ছাড়িয়েছে, বিরোধী রাজ্যগুলিতে একশ দিনের কাজ, গরিবদের জন্য বাড়ি ও জলের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না, যখন লাখ লাখ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, বিরোধীরা সংসদে জাতীয় বিষয়গুলো তুলতে পারছে না, তখন সরকার কেন বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনা এতটা জরুরি ও এতটা গুরুত্বপূর্ণ মনে করলো।

দুই সপ্তাহ আগে রাজ্যসভার বুলেটিন বলেছে, বন্দে মাতরম, জয় হিন্দ ও অন্য স্লোগান দেয়া যাবে না। সরকার মনে করছে বন্দে মাতরম স্লোগানও নন সিরিয়াস।

মহুয়া বলেন, বিজেপি আইটি সেলের কেউ হয়ত পরামর্শ দিয়েছে, বন্দে মাতরম কার্ড ঠিকভাবে খেললে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে বিজেপি-র সুবিধা হবে। আমরা খুশি, আমরা দেখাতে পারব, তোমরা বাংলার আত্মা, মানসিকতা থেকে বহুদূরে আছ।, আমাদের মা কখনো তোমাদের হাতে বন্দি হবে না।

অভ্র ঘোষ বলেছেন, গান্ধীজী একসময় বন্দে মাতরম জাতীয় সংগীত হওয়া উচিত বলেছিলেন। ১৯৩৭ সালে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের পর প্রাদেশিক সরকার তৈরির জন্য নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সে সময় বিভিন্ন প্রাদেশিক বিধানসভা তৈরি হলো, সেখানে বন্দে মাতরম গান গাওয়া হতো। কংগ্রেসের অধিবেশনেও হতো। কিন্তু মুসলিমপ্রধান রাজ্যগুলি এই গান গাইতে অস্বীকার করে।

আরও পড়ুন

তারা বলে, এর মধ্যে পৌত্তলিকতা আছে। গোলমালের সূচনা হলো। আনন্দমঠে যেহেতু এই গান ব্যবহার হয়েছে, তাই এনিয়ে মুসলিমদের অসন্তোষ ছিল ও আছে।

অভ্র ঘোষ বলেছেন, ১৯৩৭ সালে কলকাতায় আনন্দমঠ পোড়ানো হয়। সেসময় নেহরু কংগ্রেসের মনোভাব কী হবে তা নিয়ে রবীন্দ্রনাথকে চিঠি দিলেন। সুভাষচন্দ্রও পরামর্শ করলেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে।

কবি বললেন, বন্দে মাতরমের ইতিহাস আছে, আন্দোলনে ব্যবহার হচ্ছে। আবার মুসলিমদের বিদ্বেষের সংগত কারণ আছে। কারণ, এর মধ্যে পৌত্তলিকতা আছে। গোঁড়া ব্রাক্ষ্মরাও মানতে পারবেন না। রবীন্দ্রনাথ নেহরুকে লেখা চিঠি প্রকাশের জন্য কাগজে দেন। সুভাষচন্দ্রকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চিঠি দেন।

রবীন্দ্রনাথের পরামর্শ, বন্দে মাতরমের ঐতিহাসিক মূল্য আছে, তার প্রথম স্তবক ব্যবহারযোগ্য, এখানে পৌত্তলিকতা নেই। এখানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্য অর্ধসত্য। অনেকে যেমন এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করেছিলেন, অনেকে করেননি। গান্ধীজী এখানে রবীন্দ্রনাথের মত মেনে নিয়েছিলেন।

তিনি মনে করেন, আবার হয়তো বন্দে মাতরমকে জাতীয় সংগীত করার চেষ্টা হতে পারে।

শুভাশিস মৈত্র মনে করেন, বিজেপি একটা রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে, একটা ন্যারেটিভ তৈরি করতে চাইছে। কংগ্রেস এর বিরুদ্ধে লড়তে পারছে না। তবে এত করেও বিজেপি-র ভোট ৩৭ শতাংশ পার হচ্ছে না। ১৯৮৪ পর্যন্ত কংগ্রেস ৪৫ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছে। ১৯৭৭ সালেও তারা ৩৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

শুভাশিস মনে করেন, আরএসএসের একশ বছর উপলক্ষে মোদী হয়তো তাড়াহুড়ো করছেন।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চলন্ত গাড়িতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়
ভারতে নারী নিরাপত্তার কঙ্কালসার রূপটি আবারও উন্মোচিত হলো হরিয়ানার ফরিদাবাদে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে এক ২৮ বছর বয়সী নারীকে চলন্ত গাড়িতে তুলে নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে দুই যুবক। পৈশাচিক এই নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। বর্বরোচিত এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। খবর এনডিটিভির।  পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী রাতে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুই যুবক তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভ্যানগাড়িতে তোলে। কিন্তু গাড়িটি গন্তব্যে না গিয়ে গুরগাঁও সড়কের নির্জন পথে চলতে শুরু করে। চলন্ত গাড়ির ভেতর আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে পাশবিক নির্যাতন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। আরও পড়ুন ‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী রাত ৩টার দিকে ফরিদাবাদের এসজিএম নগরের কাছে চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় অভিযুক্তরা। এতে ওই নারীর মুখ ও শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ওই অবস্থায় তিনি কোনোমতে তার বোনকে ফোন করলে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর জখম হওয়ায় তার মুখে ১০-১২টি সেলাই দিতে হয়েছে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী তিন সন্তানের জননী এবং পারিবারিক কলহের কারণে বর্তমানে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছেন। ঘটনার রাতে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে এক বান্ধবীর বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন তিনি। পথে এই ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন তিনি। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত জবানবন্দি গ্রহণ ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। ভারতে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও দেশটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, রাতের রাস্তায় নারীরা এখনো কতটা অসুরক্ষিত। আরটিভি/এআর 
চলন্ত গাড়িতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়
‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে এক বিস্ফোরক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি হিন্দু দম্পতিদের কেবল একটি সন্তানে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্তত দুই অথবা তিন সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তার বার্তা হলো—তারা যেন সাত-আট সন্তান না নেয়। মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।  মঙ্গলবার(৩০ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হিমন্ত শর্মা দাবি করেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জন্মহার অস্বাভাবিক বেশি, বিপরীতে হিন্দুদের মধ্যে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হিন্দুরা যদি সন্তান সংখ্যা না বাড়ায়, তবে ভবিষ্যতে তাদের ঘর ও সম্পদ দেখভাল করার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। আসামের জনমিতি বা জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।  আরও পড়ুন নতুন বছরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগতে পারে মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলমানদের জনসংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তিনি তার ছাত্র রাজনীতির সময়কার কথা উল্লেখ করে বলেন, এক সময় তাদের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২১ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ৩১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। হিমন্ত শর্মার আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে ভূমিপুত্র অসমীয়াদের জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে যাবে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের প্রভাব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ওরা (বাংলাদেশ) প্রায়ই বলে উত্তর-পূর্ব ভারত আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। এর জন্য যুদ্ধ করার দরকার নেই, জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ পেরোলে তা আপনা-আপনি হয়ে যাবে।  হিমন্ত শর্মা তার বক্তব্যে বিরোধী দল কংগ্রেসকেও একহাত নেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের ভেতর থেকে মুসলমানদের জন্য ৪৮টি আসন সংরক্ষণের দাবি তোলা হচ্ছে এবং দলটির ‘ইকোসিস্টেম’ পুরোপুরি সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।  আরটিভি/এআর 
‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামীকাল বুধবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ এই নেতার অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল ভারত নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রামের স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সুসম্পর্কের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও মন্ত্রীরা তাকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকায় আসছেন। ইতোমধ্যেই তাদের আগমনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠেয় এই জানাজায় দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বিশ্বমঞ্চে যে শোকের ছায়া নেমেছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর তারই এক জোরালো প্রতিফলন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে প্রটোকল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।  বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। আরটিভি/এআর 
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এবার ‘চীনা সন্দেহে’ ভারতে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী দেহরাদুনে এবার ‘চীনা সন্দেহে’ হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ত্রিপুরার এক মেধাবী শিক্ষার্থী। গত ৯ ডিসেম্বর কেনাকাটা করতে গিয়ে একদল যুবকের বর্ণবিদ্বেষী গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় ২৪ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেল চাকমাকে। টানা ১৪ দিন ভেন্টিলেটরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহত অ্যাঞ্জেলের বাবা একজন বিএসএফ জওয়ান; যিনি সীমান্তে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।  নিহত অ্যাঞ্জেল চাকমা (২৪) দেহরাদুনের জিজ্ঞাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ এর শিক্ষার্থী ছিলেন।  আরও পড়ুন ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) অ্যাঞ্জেলের মরদেহ তার নিজ শহর আগরতলায় আনা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্ব ভারতসহ পুরো দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। পরিবারের অভিযোগ, শুধুমাত্র চেহারার কারণে তাদের সন্তানদের ‘চীনা’ বলে অপমান করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল উগ্র যুবক। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অ্যাঞ্জেল তার ছোট ভাই মাইকেল দোজের সাথে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন যুবক তাদের গতিরোধ করে এবং ‘চীনা’ বলে গালিগালাজ শুরু করে। অ্যাঞ্জেল শান্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা চীনা নই, আমরা ভারতীয়। আমাদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করার জন্য কি কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে হবে? এই তর্কের মাঝেই অভিযুক্তরা ধারালো ছুরি দিয়ে অ্যাঞ্জেলের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে আঘাত করে। মাইকেলকেও গুরুতর জখম করা হয়।  এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে দুইজন নাবালক। তবে মূল অভিযুক্ত যজ্ঞ অবাস্থি এখনও পলাতক। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নেপালে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ তার সন্ধান দিতে পারলে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্মিলিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছাত্র সংগঠনগুলো রাজপথে নেমে এসেছে। তারা জাতিগত ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর জাতীয় আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।  তিপ্রা মোথা পার্টির প্রধান প্রদ্যুৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তর-পূর্বের মানুষ দেশের সীমান্ত রক্ষা করে, অথচ তাদেরই নিজ দেশে ‘চীনা’ বলে অপমানিত হতে হয়। এটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয় বরং দেশের ঐক্যের ওপর বড় আঘাত। উল্লেখ্য, অ্যাঞ্জেল চাকমার এই হত্যাকাণ্ড সম্প্রতি ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে শ্রমিকদের ওপর চলা নির্যাতনের বীভৎস স্মৃতিকে পুনরায় সামনে এনেছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্রেফ সন্দেহের বশে অনেককে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।   আরটিভি/এআর 
এবার ‘চীনা সন্দেহে’ ভারতে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব
বিশ্বজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা বারবার আলোচনায় এলেও, ভারত সরকার প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভিসা জালিয়াতি এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের কারণেই এই বহিষ্কারের ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।  রিয়াদের ভারতীয় মিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার বছরে সৌদি আরব থেকে কয়েক হাজার ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২১ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ জন, ২০২২ সালে ১০ হাজার ২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৮৬ জন এবং ২০২৪ সালে ৯ হাজার ২০৬ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯ জনে। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, কাজের অনুমতি ছাড়া চাকুরি করা এবং নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আরও পড়ুন তাজমহল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীর সৌদি আরবের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বহিষ্কারের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ওয়াশিংটন ডিসি মিশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪১৪ জন ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বাড়লেও সৌদি আরবের সংখ্যার ধারেকাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহর যেমন সান ফ্রান্সিসকো, নিউ ইয়র্ক বা শিকাগো থেকে বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল মাত্র দুই বা তিন অংকের ঘরে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাবে আরও দেখা যায় যে, শুধুমাত্র সৌদি আরব বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ৫৯১ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ১ হাজার ৪৬৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৮৫ জন এবং বাহরাইন থেকে ৭৬৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও কয়েকশ ভারতীয় নাগরিক বহিষ্কৃত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের উদ্ধার এবং নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে ভারতীয় মিশনগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রম আইন নিয়ে ভারতীয় কর্মীদের সচেতনতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে নয়াদিল্লি। আরটিভি/এআর 
ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব
আরও পড়ুন
নরেন্দ্র মোদিকে বিএনপির ধন্যবাদ
ছাগলের গাড়িতে মোদির জনসভায় হাজির চা বিক্রেতা, ভিডিও ভাইরাল
মোদীকে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের বাপ উল্লেখ করে যা বললেন কঙ্গনা
পারমাণবিক ইস্যুতে পাকিস্তানকে মোদির হুমকি