ভারতে বিক্ষোভ কর্মসূচি দমাতে পুলিশের বিতর্কিত কৌশল অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের দাবি, মুম্বাই পুলিশ বিক্ষোভ না করার জন্য একদল শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে। এমনকি আন্দোলনকারীদের মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে পুলিশ।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতির অভিযোগে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের নাম এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে আন্দোলন সামাল দিতে দেশটির রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তরে বৃহস্পতিবার(২৩ জুলাই) সকাল থেকে শিক্ষার্থী ও যুবদের জমায়েত আরও বেড়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ যোগ দেওয়ায় বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে বিশাল গণজমায়েতে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাজধানী জুড়ে নিরাপত্তা সতর্কতা হিসেবে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
এর আগে বুধবার (২২ জুলাই) রাতে যন্তরমন্তর চত্বরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে থমথমে ভাব বজায় থাকলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়ছে। নিরাপত্তাজনিত নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ওই দিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দিল্লির ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন।
অন্যদিকে, আন্দোলনের ধারা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন প্রধান আন্দোলনকারী সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত প্রতিবাদের কর্মসূচি চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আন্দোলনটি ৩৪তম দিনে গড়ায় এবং বিশিষ্ট আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুকের অনশন ২৬তম দিনে পদার্পণ করে। তবে শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন সহ-আন্দোলনকারীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশবাসীকে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের উন্নয়ন ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে ন্যায়বিচারের আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।
আরটিভি/এআর




