ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলার সন্দেহে প্রেমিকাকে কাঁচি দিয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

অন্য পুরুষের সঙ্গে প্রেমিকা কথা বলতেন এমন সন্দেহ থেকেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ভারতের আসামের এক যুবক। পরে হোটেলের কক্ষে ধারালো কাঁচি দিয়ে ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকাকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে আসামের কামরূপ গ্রামীণ জেলার রাঙ্গিয়া এলাকায়। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগে ২২ বছর বয়সী অভিজিৎ কিন্ডোকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত তরুণীর নাম মালিনী গুরিয়া। তিনি সোনিতপুর জেলার হুগ্রাজুলি এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত অভিজিৎ উদালগুড়ি জেলার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, রাঙ্গিয়া রেলস্টেশনের কাছে একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন অভিজিৎ ও মালিনী। রোববার সকালে হোটেলের একটি কক্ষ থেকে মালিনীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। একই কক্ষ থেকে আহত অবস্থায় অভিজিৎকে আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিজিৎ জানিয়েছেন, মালিনী তার সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে তার সন্দেহ ছিল। তিনি অন্য পুরুষদের সঙ্গে কথা বলতেন এমন সন্দেহ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, আগের রাতে চেন্নাই থেকে আরও দুই নারীর সঙ্গে রাঙ্গিয়ায় এসেছিলেন মালিনী। তাদের নিতে রেলস্টেশনে গিয়েছিলেন অভিজিৎ। পরে তারা একই হোটেলে ওঠেন। মালিনীর বন্ধুদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, অভিজিৎ প্রথমে নিজের জন্য আলাদা একটি কক্ষ বুক করেছিলেন। তবে গভীর রাতে তিনি মালিনীর কক্ষে গিয়ে অবস্থান করেন।

পুলিশের হেফাজতে সাংবাদিকদের অভিজিৎ বলেন, সে আমার সঙ্গে প্রতারণা করছিল, অন্যদের সঙ্গে কথা বলত। সে আসার আগেই আমি তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলাম।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিজিৎ কাঁচি ও একটি টেস্টার দিয়ে মালিনীকে আঘাত করেন। পরে মালিনীকে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

রাঙ্গিয়া রেলস্টেশনের এক কর্মকর্তা বিষয়টি জানতে পেরে ভোরে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিজিৎকে আটক করে।

এদিকে, সকালে মালিনীর বন্ধুদের ফোন করে অভিজিৎ জানান, তিনি মালিনীকে হত্যা করেছেন এবং নিজেও আত্মহত্যা করবেন।

ঘটনার পর গুয়াহাটি থেকে ফরেনসিক দলের সদস্যরা হোটেলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি মালিনীর পরিবারের সদস্যদেরও জানানো হয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
খুনের মামলা এড়াতে এআই দিয়ে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজালেন যুবক, অতঃপর...
ভারতের উত্তরপ্রদেশে হত্যা মামলার বিচার এড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নিজের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ছবি তৈরি করে ভুয়া মৃত্যুর নাটক সাজিয়েছিলেন রাজকুমার রাজভর (৩৮) নামে এক যুবক।
খুনের মামলা এড়াতে এআই দিয়ে নিজের মৃত্যুর নাটক সাজালেন যুবক, অতঃপর...
চাচার সোনা চুরি করে গাড়ি কিনে উদ্বোধনে তাকেই ডাকলেন ভাতিজা
চাচার বাড়ি থেকে স্বর্ণের গহনা চুরি করে সেই টাকায় মাহিন্দ্রা থার গাড়ি কিনে সেই চাচাকেই নিমন্ত্রণ জানিয়েছেন সমর চ্যাভান নামের ১৯ বছরের এক তরুণ। ভারতের মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার এক গ্রামে এই অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সমরের চাচা উমেশ মারুতি চ্যাভানের বাড়িতে নতুন গাড়ির পূজার প্রস্তুতি চলছিল। এমন সময় সিন্দুক খুলে দেখা যায়, উমেশের স্ত্রীর প্রায় ১৫০ গ্রাম স্বর্ণের গহনা নেই। পরিবারের সবাই অবাক। বাড়ির ভিতরের খবর বাইরের কেউ জানার কথা নয় বলে সন্দেহ ঘনীভূত হয় পরিচিতদের ওপর। অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামেন উপপুলিশ সুপার শ্রীকান্ত ঠিকানে ও তার দল। তদন্তকালে পুলিশের নজরে আসে সমরের হঠাৎ করে দামি গাড়ি কেনার বিষয়টি। ১৯ বছরের এক যুবকের হাতে এত টাকা কোথা থেকে এল এই প্রশ্ন থেকেই সন্দেহের তীর সমরের দিকেই যায়। জিজ্ঞাসাবাদে একপর্যায়ে সমর চুরির কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, চাচার বাড়ি থেকে স্বর্ণের গহনা চুরি করে বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ রুপি পেয়েছেন। সেই টাকায়ই নতুন গাড়ি কেনেন। গল্পের সবচেয়ে চমকপ্রদ অংশ হলো গাড়ির পূজা। যে চাচার স্বর্ণ চুরির অভিযোগ উঠেছে, সেই চাচাকেই নতুন গাড়ির পূজায় নিমন্ত্রণ করেছিলেন সমর। তবে আনন্দ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তদন্ত শেষে পুলিশ সমরকে গ্রেফতার করেছে। চুরি করা স্বর্ণ কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণকারকেও আটক করা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি আরটিভি/এসআর  
চাচার সোনা চুরি করে গাড়ি কিনে উদ্বোধনে তাকেই ডাকলেন ভাতিজা
বাংলাদেশিদের গুলি করে মারার হুমকি বিজেপি বিধায়কের
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী এবং ভারতের কোচবিহারের মেখলীগঞ্জ সীমান্তের সানিয়াজান নদীতে পাথর ও বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটে, সেটাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বিজেপি স্থানীয় বিধায়ক দধিরাম রায়। জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সীমান্তে গুলি বা স্টান গ্রেনেড ছুড়েছে। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের বিএসএফ সচেষ্ট রয়েছে। কোনো বাংলাদেশি জিহাদি হোক আর যে-ই হোক, ইন্ডিয়ার মাটিতে পা রাখলেই তাদের গুলি করে দেওয়া হবে। কালকে কিছুটা তার প্রমাণ দেওয়া হয়েছে এবং এরপর থেকে বিএসএফ আরও সতর্ক।’ এছাড়া, তিনি দ্রুত জমি অধিগ্রহণ করে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং জিরো পয়েন্টে কড়াকড়ি আরোপের কথাও জানান। ওই ঘটনাী স্থানীয় বাংলাদেশি গ্রামবাসীদের দাবি, তারা নিজেদের ভূখণ্ডের সীমানার ভেতরে থেকেই নদীতে কাজ করছিলেন। উল্টো বিএসএফ মাঝেমধ্যেই জিরো লাইন বা নো-ম্যানস ল্যান্ডের কাছাকাছি এসে অযাচিতভাবে শক্তি প্রদর্শন করে এবং সাধারণ বাংলাদেশিদের ওপর চড়াও হয়। এ ঘটনায় বিজিবি-এর পক্ষ থেকে সীমান্তে কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি সূত্র ও সীমান্ত এলাকার দায়িত্বশীলরা জানান, ভারতীয় বাহিনীর এ ধরনের আগ্রাসী আচরণ এবং বিজেপি নেতার ‘গুলি করে মারার’ মতো প্রকাশ্য হুমকির বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। বিজিবি স্পষ্ট জানিয়েছে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত এলাকার নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে সীমান্তে টহল ও সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। আরটিভি/এসআর  
বাংলাদেশিদের গুলি করে মারার হুমকি বিজেপি বিধায়কের
‘স্কুলে বোমা আছে’ জানিয়ে হঠাৎ ছাত্রীর ইমেইল, অতঃপর... 
ভারতের দিল্লিতে একটি স্কুলে বোমা রাখার হুমকি দিয়ে ইমেইল পাঠানোর অভিযোগে ১৬ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ।
‘স্কুলে বোমা আছে’ জানিয়ে হঠাৎ ছাত্রীর ইমেইল, অতঃপর... 
বিমানে শৌচাগারের আয়নায় লেখা ছিল ‘ভেতরে বোমা আছে’, অতঃপর...
থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের কলকাতায় আসা একটি বিমানের শৌচাগারের আয়নায় ‘বিমানের ভেতরে বোমা আছে’ লেখা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন কেবিন ক্রুরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের পর এই ঘটনা ঘটে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ তল্লাশির পরও বিমানে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, লেখাটি নজরে আসার পরই কেবিন ক্রুরা তাৎক্ষণিকভাবে পাইলট এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান। এরপর দ্রুত বিমানটিকে আইসোলেশন বে-তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।  পরে সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (সিআইএসএফ), বম্ব স্কোয়াড ও বিমানবন্দর পুলিশের যৌথ দল বিমানে তল্লাশি চালায়। তবে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পরও ভেতর থেকে কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু উদ্ধার হয়নি। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, কেবল আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যেই কেউ এই ভুয়া হুমকি দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে বিমানের যাত্রী তালিকা ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগে শুক্রবারও কলকাতা বিমানবন্দরের ২৩ নম্বর গেটের কাছে নারীদের শৌচাগারে বোমা রাখার হুমকির একটি চিরকুট পাওয়া গিয়েছিল। পরপর দুই দিন এমন বোমাতঙ্কের ঘটনায় ওই বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আরটিভি/এসআর
বিমানে শৌচাগারের আয়নায় লেখা ছিল ‘ভেতরে বোমা আছে’, অতঃপর...