ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বদলে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নাম ও প্রতীক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নাম হলো ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক হলো ‘খাম’।

আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীদের এই প্রতীক এবং এই দলের নামেই নির্বাচনে লড়াই করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আদেশে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও ত্রিপুরা এই তিন রাজ্যে উভয় গোষ্ঠীকেই স্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই সিদ্ধান্তের আগে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন একটি অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছিল। দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধের মধ্যে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আসন্ন উপনির্বাচনে কোনো গোষ্ঠীকেই মূল দলের নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এর মধ্যে ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনও রয়েছে। সাম্প্রতিক আদেশে চলমান নির্বাচনে ইতিমধ্যে জমা দেওয়া মনোনয়ন নিয়েও সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন বলেছে, রেজিনগর, নন্দীগ্রাম ও নাগাঁওয়ে দুই গোষ্ঠীর অনুমোদিত প্রার্থীদের নিজ নিজ নতুন দলীয় নাম ও প্রতীকের অধীনেই বিবেচনা করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন (Representation of the People Act, 1951)-এর ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, এই নাম ও প্রতীক বরাদ্দ ‘সাময়িক।’ নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের মূল বিষয় হলো দলের সাংগঠনিক কর্তৃত্ব, ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির বৈধতা এবং দলীয় পদাধিকারীদের নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি।

অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত গোষ্ঠীর সমর্থন পেয়েছে। তারা বিদ্যমান ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, এই কমিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এই প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্য, প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবি এবং দলীয় পদাধিকারীদের নির্বাচন দলের সংবিধানের পরিপন্থী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যগুলোর মধ্যে সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের বক্তব্যও রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দলের সংবিধানে সংশোধন এনে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি এবং অন্যান্য সাংগঠনিক সংস্থার মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়েছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ওই সংশোধনগুলোর বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বৃহস্পতিবারের আদেশে বলা হয়েছিল, কোন গোষ্ঠী স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করছে, তা নির্ধারণের জন্য ‘Election Symbols (Reservation & Allotment) Order, 1968 ’-এর ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সেই সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত উভয় গোষ্ঠীকে নিজেদের পছন্দের তিনটি করে নাম এবং অবাধ বা ফ্রি প্রতীক জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আজ শুক্রবারের নতুন আদেশে সেই প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করা হলো।

আরটিভি/এমএ


আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী মুরুগান
  ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগান। একই সঙ্গে রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন তিনি।  মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান মুরুগান। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তামিলনাড়ুতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে দলের ভিত আরও মজবুত করতে পুরো সময় দিতে চান এই বিজেপি নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে মুরুগান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতমাতা ও তামিলনাড়ুর সেবা করার সুযোগ পাওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান। তিনি আরও বলেন, দিনমজুর পরিবারের সন্তান হিসেবে জীবন শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কাজ করার সুযোগ পাওয়া তার কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। মুরুগান জানিয়েছেন, এবার তিনি দলের তৃণমূল পর্যায়ে ফিরে যেতে চান। তামিলনাড়ুতে বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। এর আগে তামিলনাড়ুতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এল মুরুগান। পরে মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০৩০ সালে রাজ্যসভায় তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পদত্যাগপত্রে তিনি অবিলম্বে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস আরটিভি/ এসকেডি
ভারতের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী মুরুগান
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির রাজপথে পুলিশের ব্যারিকেড, ধরপাকড় আর তরুণদের প্রতিবাদ—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন
একইসঙ্গে মসজিদের মাইকও জব্দ করে নিয়ে গেছে পুলিশ। সেইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এক বিট কনস্টেবলকেও।
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন 
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন নিষিদ্ধ করে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। সেইসঙ্গে ব্যাতিক্রমী আরেক উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে— বিক্ষোভ ও সভা-সমাবেশের জন্য দিল্লিতেই ঠিক করে দেওয়া হয়েছে তিনটি জায়গা।  
দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, বিকল্প জায়গা ঠিক করে দিলো পুলিশ
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলায় দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির ধাক্কায় স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কোচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে নেদুম্বাসেরিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী গাড়িচালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে পুলিশ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের প্রশ্নের জবাবে চালক ‘বাবা সামলে নেবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দুর্ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে তার রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত তিনজন হলেন দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ। তাদের মধ্যে দেবিকার বাড়ি কেরালার ওয়েনাড জেলায়, গোপিকা পালাক্কাডের বাসিন্দা এবং ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শিক্ষার্থী। এ সময় দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি মিনি কুপার গাড়ি তাদের স্কুটারে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনেরই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুহাইল দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার ভাষ্য, তিনি শুধু বিয়ার পান করেছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার শরীরে অ্যালকোহল বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাব ছিল কি না, তা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার পেছনে চালকের ভূমিকা এবং গাড়ির ভেতরে কোনো নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য গাড়িটির ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত মিনি কুপার গাড়িটি সুহাইলের বাবার নামে নিবন্ধিত। তবে সুহাইলের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স রয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর চালকের ওপর হামলার অভিযোগও তদন্ত করছে পুলিশ। চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য সুহাইলকে হাসপাতালে নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল থেকে তাকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে মাথায় আঘাত করা হয় বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ এসেছে। পরে পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ, চালকের মাদক গ্রহণের বিষয়টি এবং তার ওপর হামলার ঘটনা—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তথ্যসূত্র: ইন্ডিয়া টুডে আরটিভি/এসকে
গাড়ির চাপায় তিন শিক্ষার্থী নিহত, চালক বললেন ‘বাবা সামলে নেবে’
আরও পড়ুন
ভারতের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন প্রতিমন্ত্রী মুরুগান
এবার মোদির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, উত্তাল রাজপথ
ভারতে উচ্চস্বরে আজান দেওয়ায় কারাগারে মুয়াজ্জিন
ভারতীয় গরু নিয়ে বিজিবির সঙ্গে চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ, গুলিতে ইজারাদারের মৃত্যু