
গরু কেনার সময় দাবি করা হয়েছিল, দিনে ৮ থেকে ১০ লিটার দুধ দেবে। কিন্তু বাছুর প্রসবের পর দুধ মিলছে মাত্র ৩ লিটার। এমন অভিযোগ নিয়ে সটান থানায় হাজির হলেন গো-পালক লক্ষ্মণ যাদব। শেষ পর্যন্ত পুলিশের মধ্যস্থতায় ২ হাজার টাকা ফেরত পেয়ে থানা ছাড়েন তিনি। সোমবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর সদর ব্লকের গুড়গুড়িপাল থানায় ঘটে এই ঘটনা।
লক্ষ্মণ যাদব মেদিনীপুর সদর ব্লকের গুড়গুড়িপালের সনকাডাঙার বাসিন্দা। পেশায় কৃষক হলেও পাশাপাশি গরু পালন করেন তিনি। বাড়ি বাড়ি দুধ বিক্রি করেই চলে তার সংসার। সম্প্রতি উপরডাঙা গ্রামের এক বাসিন্দার কাছ থেকে ৩২ হাজার টাকা দিয়ে একটি অন্তঃসত্ত্বা গরু কেনেন লক্ষ্মণ।
লক্ষ্মণের অভিযোগ, গরুটি কেনার সময় বিক্রেতা জানিয়েছিলেন, সেটি দিনে ৮ থেকে ১০ লিটার দুধ দেয়। কিন্তু গরুটি বাচ্চা প্রসব করার পর দেখা যায়, দিনে দুধ দিচ্ছে মাত্র ৩ লিটার। তার দাবি, গর্ভবতী গরুর যত্ন ও খাবারের ক্ষেত্রেও কোনও খামতি রাখেননি তিনি। তা সত্ত্বেও প্রত্যাশামতো দুধ না পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন।
সমস্যার সমাধান চেয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন লক্ষ্মণ। সোমবার রাতে গুড়গুড়িপাল থানায় গিয়ে এক পুলিশ আধিকারিকের সামনে হাত জোড় করে তিনি বলেন, ‘স্যর, গরু কম দুধ দিচ্ছে। কিছু একটা ব্যবস্থা করুন।’
এমন অভিযোগ শুনে প্রথমে কার্যত হতবাক হয়ে যান থানার আধিকারিকেরা। সাধারণত চুরি, ছিনতাই কিংবা অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ শুনতেই অভ্যস্ত পুলিশ। সেখানে গরু কম দুধ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে থানায় হাজির হওয়ায় কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন তাঁরা।
প্রথমে লক্ষ্মণকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। এমনকি, পরিস্থিতি সামাল দিতে কেউ কেউ রসিকতাও করেন। কিন্তু নিজের দাবিতে অনড় ছিলেন লক্ষ্মণ। সমস্যার সমাধান না করে তিনি থানা ছাড়তে রাজি হননি।
শেষ পর্যন্ত গরুর বিক্রেতাকে থানায় ডেকে পাঠায় পুলিশ। দু’পক্ষের সঙ্গে কথা বলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর পরামর্শ দেন আধিকারিকেরা। আলোচনার পর লক্ষ্মণকে ২ হাজার টাকা ফেরত দিতে রাজি হন বিক্রেতা।
এরপর ফেরত পাওয়া টাকা হাতে নিয়ে থানা ছাড়েন লক্ষ্মণ যাদব। আর অদ্ভুত এই অভিযোগের নিষ্পত্তি হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন পুলিশকর্মীরাও।
আরটিভি/এসকে


