ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ঋণের চাপে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এয়ারলাইনস বেচে দিচ্ছে পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫৩ এএম
ফাইল ছবি

ঋণের চাপে নিজেদের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব এয়ারলাইনস পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসকে (পিআইএ) বিক্রির জন্য নিলামে তুলছে পাকিস্তান। আগামী ২৩ ডিসেম্বর এ নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।

নিলামের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পাকিস্তানের সব গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। খবর দ্য ডনের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোকসান কমাতে ও অর্থসংস্থানের লক্ষ্যে পিআইএ’র ৫১ থেকে ১০০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৭ বিলিয়ন অর্থাৎ ৭০০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তির শর্ত হিসেবে নেওয়া এই উদ্যোগকে গত প্রায় ২০ বছরের মধ্যে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে নিলামে অংশগ্রহণের জন্য চারটি বেসরকারি কোম্পানিকে যোগ্য হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। সেগুলো হলো- লাকি সিমেন্ট কনসোর্টিয়াম, আরিফ হাবিব করপোরেশন কনসোর্টিয়াম, ফৌজি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ও এয়ার ব্লু লিমিটেড।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, দেশের পতাকাবাহী এই বিমান সংস্থার ‘হারানো সম্মান’ ফিরিয়ে আনতে ও আধুনিক মানে রূপান্তর করতে প্রক্রিয়াটি বাধা ছাড়ায় এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে খুব শিগগিরই পিআইএ তাদের ‘গ্রেট পিপল টু ফ্লাই উইথ’ স্লোগানের ঐতিহ্য ফিরে পাবে।

একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বেসরকারিকরণে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

যদিও গত সেপ্টেম্বরে একটি সংসদীয় কমিটি জানিয়েছিল, নভেম্বরের মধ্যেই পিআইএ বেসরকারিকরণ হতে পারে, তবে নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ হয়নি। গত সপ্তাহে নিলাম প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য স্পষ্ট সময়সীমা চেয়েছিল জাতীয় পরিষদের বেসরকারিকরণ সংক্রান্ত কমিটি।

একসময় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এয়ারলাইন পিআইএ ইউরোপে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে। নিরাপত্তাজনিত কারণে এয়ারলাইনসটির ওপর চার বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

এর আগে, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি ব্লু ওয়ার্ল্ড সিটির দেওয়া ৩৬ মিলিয়ন ডলারের বিড ৩০৫ মিলিয়ন ডলারের ন্যূনতম মূল্যসীমার অনেক নিচে থাকায় পিআইএ বিক্রির একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রতিষ্ঠানটির ঋণ, কর্মীসংখ্যা ও সীমিত নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা, এসব বিষয়ও তখন উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভারতকে টেক্কা দিতে ৪০টি অত্যাধুনিক ‘জে-৩৫’ যুদ্ধবিমান পাচ্ছে পাকিস্তান
দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্য বদলে দিতে এবার বড় চাল চালল চীন। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীকে শক্তিশালী করতে দেশটিকে ৪০টি পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক জে-৩৫ স্টেলথ ফাইটার জেট সরবরাহের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেইজিং। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই এই খবর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খবর আনন্দবাজারের।  পেন্টাগনের ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের সামরিক ও নিরাপত্তা উন্নয়ন-২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সামরিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে বেইজিং ইসলামাবাদের হাতে এই ঘাতক যুদ্ধবিমান তুলে দিচ্ছে। চীনের এই পদক্ষেপকে মার্কিন বিশেষজ্ঞরা ‘কৌশলগত’ এবং ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ বলে বর্ণনা করেছেন। বিশেষ করে ভারতীয় বিমান বাহিনীর রাফাল যুদ্ধবিমানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই পাকিস্তান তড়িঘড়ি করে চীনের এই পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও পড়ুন নতুন বছরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগতে পারে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে থাকা ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানগুলো সাড়ে চার প্রজন্মের। অন্যদিকে চীনের জে-৩৫ হলো পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান, যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে সক্ষম। পেন্টাগনের দাবি, ভারত যখন রাফাল মোতায়েন শুরু করে, তখনই পাকিস্তান এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীনের সাথে যোগাযোগ বাড়ায়। চীনের তৈরি এফসি-৩১ এর উন্নত সংস্করণ হলো এই জে-৩৫, যা সক্ষমতার দিক থেকে মার্কিন এফ-৩৫ এর কাছাকাছি বলে দাবি করেন সামরিক বিশ্লেষকরা। পেন্টাগনের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, চীন বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। পাকিস্তানের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়া সত্ত্বেও চীন তাদের এই বিশাল প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ঝুঁকি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন মূলত পাকিস্তানের বাজারকে ব্যবহার করে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে চায়। জে-৩৫ ছাড়াও চীন পাকিস্তানকে জে-১০সি এবং যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার সরবরাহ করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীকে পুরোপুরি ‘চীনা নির্ভর’ করে তুলছে। ভারতের জন্য এই খবরটি বিশেষ উদ্বেগের কারণ এই যে, ভারতীয় বিমান বাহিনী বর্তমানে নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ করছে, যা হাতে পেতে এখনো বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে। এদিকে পাকিস্তান যদি দ্রুত এই ৪০টি স্টেলথ জেট হাতে পায়, তবে আকাশযুদ্ধের শক্তিতে তারা সাময়িকভাবে ভারতের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। পেন্টাগন জানিয়েছে, পাকিস্তানের পাইলটরা ইতোমধ্যে চীনে গিয়ে এই বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ শুরু করেছেন, যা থেকে স্পষ্ট যে সরবরাহ প্রক্রিয়া খুব দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে। আরটিভি/এআর 
ভারতকে টেক্কা দিতে ৪০টি অত্যাধুনিক ‘জে-৩৫’  যুদ্ধবিমান পাচ্ছে পাকিস্তান
খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে আসছেন পাকিস্তানের স্পিকার
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে ঢাকা আসছেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের (পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ) স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামীকাল বুধবার ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিতব্য জানাজায় তিনি নিজ দেশের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার তার পোস্টে লিখেছেন, আগামীকাল ঢাকায় বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার অংশগ্রহণ করবেন।  এর আগে, দুপুরে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছিল খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় যোগ দিতে ঢাকায় আসবেন সে দেশের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। উল্লেখ্য, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।  বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। আরটিভি/এআর   
খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে আসছেন পাকিস্তানের স্পিকার
খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেবেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। মঙ্গলবার(৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের একটি সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তান হাইকমিশনের সূত্রটি বলেছে, খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ইসহাক দারের আগামীকাল বুধবার ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।  এর আগে, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন খালেদা জিয়া, কারাভোগ করেছেন। চিকিৎসার সুযোগও দেওয়া হয়নি। ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেগম জিয়া। এরপর করোনার কারণে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দিলেও গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় বন্দি রাখা হয়।  আওয়ামী লীগের শাসনামলে চিকিৎসা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয় খালেদা জিয়ার। এরমধ্যে ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা সংস্কার আন্দোলন দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হয় আন্দোলন, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের আন্দোলনে গড়ায়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।  এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন লন্ডনে অবস্থান শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন। তার স্বাস্থ্যের অনেকটা উন্নতি হয়েছিল। তবে নানা রোগে জটিলতা ও শরীর–মনে ধকল সহ্য করে তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। বয়সও ছিল প্রতিকূল। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তেন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো।  সবশেষে গত ২৩ নভেম্বর তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। আরটিভি/এআর   
খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ঢাকা-দিল্লির বর্তমান সম্পকর্কে যেভাবে দেখছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় গ্রহণের পর থকেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। সাম্প্রতিক সময়ে; বিশেষত বাংলাদেশের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে ভয়াবহ রকমের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে দু-দেশের মধ্যে। হাদির সমর্থক ও সহানুভূতিশীলদের অভিযোগ, ভারতের ইন্ধনেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ অবস্থায় দুদেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সম্পর্কের অবনতির চিত্রটা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।  শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের সম্পাদকীয়তে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। সম্পাদকীয়তে ডন বলেছে, চলতি সপ্তাহে হিন্দুত্ববাদী মব নয়া দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনের হামলার চেষ্টা করে। এছাড়া ভারতের অন্যান্য শহরের বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতেও আক্রমণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ভারতীয় হিন্দু পরিষদের (বিএইচপি) মতো ভারতের চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো ময়মনসিংহে এক হিন্দুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে ঢাকার মিশনগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে আরও বলা হয়, ভারতে থাকা মিশনগুলোতে এসব হামলার প্রতিবাদ জানাতে বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকারে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করেছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতও দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ভারতে নিযুক্ত তার দেশের শীর্ষ কূটনীতিক হত্যার হুমকি পেয়েছেন। যদিও ভারত কর্তৃপক্ষ এসব ঘটনাকে ছোট করে দেখার চেষ্টা করছে। ডনের সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ ছিল। কিন্তু, গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব তৈরি হয়। অনেকেই দিল্লিকে হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের সমর্থক হিসেবে দেখেন। গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মুখে হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা সেই মনোভাবকে আরও শক্ত ভিত্তি দেয়। এরই মধ্যে সম্প্রতি ওসমান হাদির হত্যাকারী ভারতে পালিয়েছে—এমন তথ্য সেই ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ডনের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, সম্ভবত উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কের এ অবনতির মূল কারণ প্রতিবেশীদের প্রতি ভারতের আধিপত্যবাদী মনোভাব। দিল্লির উচিত হাদির হত্যাকারীকে ধরতে ঢাকাকে সাহায্য করা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় ইন্ধন দেওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত দিল্লির।  পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমটির মতে, বাস্তবতা হলো দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করতে হবে। কোনো দেশকেই আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারকারী হিসেবে কাজ করা উচিত না। একই সঙ্গে অন্যদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা এবং মাতব্বরি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আরটিভি/এসএইচএম
ঢাকা-দিল্লির বর্তমান সম্পকর্কে যেভাবে দেখছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম
আফ্রিকার এক দেশে বিপুল অস্ত্র সরবরাহের চুক্তি করল পাকিস্তান
আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ৪ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রির বিশাল এক চুক্তি সম্পন্ন করেছে পাকিস্তান। লিবিয়ার প্রভাবশালী সশস্ত্র বাহিনী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) কাছে এই অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির একটি বিশাল চুক্তি সম্পন্ন করেছে দেশটি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি পাকিস্তানের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি। তবে লিবিয়ার ওপর জাতিসংঘের দীর্ঘকালীন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায় এই চুক্তিটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে পূর্ব লিবিয়ার বেনগাজিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান এবং এলএনএর ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ সাদ্দাম খলিফা হাফতারের মধ্যে এক গোপন বৈঠকের পর এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। চুক্তির খসড়া নথিতে যেসব গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের তৈরি ১৬টি জেএফ–১৭ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান এবং বৈমানিকদের প্রশিক্ষণের জন্য ১২টি সুপার মুশাক প্রশিক্ষণ বিমান কেনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।  চুক্তিতে কেবল আকাশপথের সরঞ্জামই নয়, বরং আগামী আড়াই বছরের মধ্যে স্থল ও নৌবাহিনীর ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও পড়ুন আল্লাহ পাকিস্তানকে মক্কা ও মদিনার রক্ষক হওয়ার সম্মান দিয়েছেন: আসিম মুনির প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ৪ থেকে ৪.৬ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে। এলএনএর সরকারি মিডিয়া চ্যানেল আল-হাদাথ টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে সাদ্দাম হাফতার এই উদ্যোগকে ‘কৌশলগত সামরিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর মাধ্যমে কেবল অস্ত্র ক্রয়ই নয়, বরং যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দাপ্তরিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়া কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার পশ্চিম অংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও, হাফতারের নেতৃত্বাধীন এলএনএ নিয়ন্ত্রণ করছে পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলীয় তেলসমৃদ্ধ এলাকা। এই বিভক্ত পরিস্থিতিতে একটি বেসরকারি সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে বিশাল অংকের অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পাকিস্তান কীভাবে এই সরঞ্জাম সরবরাহ করবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। আরটিভি/এআর 
আফ্রিকার এক দেশে বিপুল অস্ত্র সরবরাহের চুক্তি করল পাকিস্তান
আরও পড়ুন
খালেদা জিয়ার বাসভবনে পাকিস্তানের স্পিকার ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতার দাবি চীনের
তারেক রহমানকে সহমর্মিতা জানালেন পাকিস্তানের স্পিকার
গাঁজা চাষে লাইসেন্স ফি কমাল যে দেশ