ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্প-হ্যারিস লড়াই: কার জয়ে বাংলাদেশের কী হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ১২:৩৫ এএম
ফাইল ছবি

কমালা হ্যারিস না ডোনাল্ড ট্রাম্প-যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

বিশেষ করে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি টুইটকে ঘিরে সেই আলোচনা আরো জোরালো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে অতীতে মার্কিন রাজনীতিকদের, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট নেতাদের সাথে ভালো সম্পর্ক দেখা গেছে।

বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকারের মত বিষয়গুলোতে জোর দেয় ডেমোক্র্যাট প্রশাসন। কমালা হ্যারিস বা ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে ব্যবসা-বাণিজ্য, সহযোগিতার জায়গাগুলো বাংলাদেশের জন্য সহজ থাকার সুযোগটা বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং লেখক মাইকেল কুগেলম্যানের মতে, কমালা হ্যারিস জয়ী হলে বর্তমান সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও সামঞ্জস্য বজায় থাকবে, কিন্তু ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দেশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে দু’দেশের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলে মত লেখক ও বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যানের। তিনি বলেন, আমার মনে হয় না ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান সম্পর্কের কাঠামোকে সমর্থন করবেন, যেখানে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে উন্নয়ন, সংস্কার ও অন্যান্য সহায়তা বা সমর্থন করছে। ট্রাম্প ও তার প্রশাসন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা প্রদানের উপর জোর দেয়ার মত সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী হবে না।

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে বিশ্বজুড়েই আমেরিকার মানবিক সহযোগিতার জায়গা কমে আসতে পারে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির।

সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য অনিশ্চয়তার জায়গা হিসেবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে দেখছেন তিনি, কারণ জাতিসংঘের মাধ্যমে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য যে সহায়তা আসে, তার একটা বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

আমেরিকার ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঠিক প্রথাগত মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখা যায়নি। তিনি যেভাবে বৈদেশিক নীতির জায়গাগুলো বিবেচনা করেন, সেটি ঘিরে অনিশ্চয়তাও থাকে।

সাধারণত আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট বদল হলেও বৈদেশিক নীতিতে খুব বড় পরিবর্তন হয় না। এর পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা বা কাঠামোগুলোর একটা শক্তিশালী ভূমিকা থাকে বলে উল্লেখ করেন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এঅ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহনাজ মোমেন।

কিন্তু ট্রাম্পকে আমরা দেখেছি কিছু প্রচারণায় ইনস্টিটিউশনকে বদলে দেয়ার কথা বলছেন। সেটা হলে একটা বড় পরিবর্তন হতে পারে, বলেন মিজ. মোমেন। যদিও বিষয়টি আদৌ কতদূর সম্ভব হবে বা পররাষ্ট্র নীতির জায়গায় প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংখ্যালঘু নির্যাতন সংক্রান্ত একটি টুইট আলোচনা সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশে। তবে বিশ্লেষকেরা এটিকে ভবিষ্যৎ নীতির চেয়ে নির্বাচনে আমেরিকার হিন্দু ভোটার টানার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই দেখছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জায়গা থেকে তারা ধারণা করছেন, কিছু লবি গ্রুপ হয়তো বা এটাকে ইনফ্লুয়েন্স করতে চেয়েছে এবং সেই আলোকেই তার এই স্টেটমেন্টটা এসেছে।

লবি গ্রুপ বলতে আওয়ামী লীগ অথবা ভারতকে বোঝানো হয়েছে, এমন আলোচনাও রয়েছে।

বাংলাদেশে বিগত নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আমেরিকা প্রথমে শক্ত অবস্থানে থাকলেও পরবর্তীতে বাংলাদেশের সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থনই একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এখানে ভারত আগেও ভূমিকা পালন করেছে, ট্রাম্পের যে টুইট সেখানেও যে তাদের একটা ভূমিকা আছে সেটা আমরা মোটামুটি আন্দাজ করতে পারি, বলছিলেন সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির।

অগাস্ট মাসে নরেন্দ্র মোদী ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সংখ্যালঘু প্রসঙ্গে উদ্বেগের কথা জানালেও সেটি তেমন গুরুত্ব পায়নি। কমালা হ্যারিস নিজে ভারতীয় বংশোদ্ভূত হলেও এক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাট শিবিরের অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে নরেন্দ্র মোদীর সম্পর্ক বেশ ভালো। এবছর সেপ্টেম্বর মাসেও মোদীকে একজন ‘চমৎকার মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্প জয়ী হলে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ভারত ভূমিকা পালন করতে চাইবে বলে মনে করছেন মি. কবির। সেক্ষেত্রে ভারতের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক না হলে সেখানে ভারতের দিক থেকে এক ধরণের নেতিবাচক উপাদান থাকার একটা শঙ্কা থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে বিশ্বে অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশকে ভারতের চোখে দেখার প্রবণতার কথা উল্লেখ করেন অনেকে। ট্রাম্প যেভাবে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সম্পর্কে বিশ্বাসী, তাতে করে ভ্লাদিমির পুতিনের মত নরেন্দ্র মোদীকেও তিনি সমর্থন করবেন বলে মনে করছেন মেহনাজ মোমেন। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হলে ভারতের প্রভাব বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।

অবশ্য কমালা হ্যারিস জিতলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে সুসম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মতভেদ বাড়ার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন মাইকেল কুগেলম্যান।

সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়েছেন যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট, দুই পার্টির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভালো সম্পর্ক থাকায় এবং দুই শিবিরেই তার বন্ধু থাকায় এই নির্বাচনের ফলাফলে দুই দেশের সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে না।

সরকারের তরফ থেকে বাংলাদেশ-আমেরিকার সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না বলা হলেও, ট্রাম্প ক্ষমতায় এলে বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করেন মি. কুগেলম্যান।

ইউনূস অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন ২০১৬ সালে যখন ট্রাম্প নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তাদের রাজনৈতিক আদর্শ বা মতাদর্শের জায়গা ভিন্ন, বিবিসিকে বলছিলেন তিনি।

ফ্রান্সের এইচইসি প্যারিস নামের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬ সালে বক্তব্য রাখার সময় ড. ইউনূস ট্র্যাম্পের জয়কে ‘সূর্যগ্রহণ’ বা অন্ধকার সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে হেকের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া সেসময় আরেকটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে তিনি কী বলতে চাইবেন জিজ্ঞেস করা হলে, তখন ‘দেয়াল’ তৈরি না করে ‘সেতু’ নির্মাণ করে দৃষ্টিভঙ্গি উদার করার কথা এনবিসি নিউজকে বলেছিলেন ড. ইউনূস।

মি. কুগেলম্যানের মতে, কমালা হ্যারিস জিতলে ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের সম্পর্কের জন্য একটা সম্পদ হবেন, কারণ বাইডেন প্রশাসনের মত হ্যারিসের ক্ষেত্রেও একটা স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা থাকবে। তবে ট্রাম্প জয়ী হলে সে সম্পর্ক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।

হ্যারিস বা ট্রাম্প, যেই প্রেসিডেন্ট হোক না কেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে একটা নির্ভরযোগ্যতার জায়গা প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলে উল্লেখ করেন মিজ. মোমেন।

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সামনের নির্বাচন দেরিতে হলেও কবে হবে, কীভাবে হবে, ধাপগুলো কী হবে, অর্থাৎ একটা রোডম্যাপ তুলে ধরতে হবে বলেন তিনি। এটা বর্তমান সরকারের বৈধতার ইমেজ এবং সমর্থনের জায়গা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

অবশ্য বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকার জন্য বাংলাদেশ নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামানোর সুযোগ হবে বলে মনে করছেন না হুমায়ুন কবির ও মেহনাজ মোমেন।

কারণ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ, এই বড় বিষয়গুলি নিয়েই আমেরিকার অনেক বেশি মনোযোগ থাকবে। এই দুই যুদ্ধের কারণে পুরো বিশ্বই একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া চীন অথবা ইরানের ইস্যুও রয়েছে। সেসবের সামনে বাংলাদেশ নিয়ে ভাবার সুযোগ হবে বলে মনে করেন না তারা।

বরং আমেরিকা সব দিকেই নিজেদের স্বার্থ বা প্রয়োজনের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেবে বলে ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।

ব্যবসা বাণিজ্য, কৌশলগত, ভূরাজনৈতিক, এমন নানা দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের একটা সম্পর্কে আগ্রহের জায়গা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদেরকে বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে এই অঞ্চলে মনোযোগটা বাড়াচ্ছে ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেখানে বাংলাদেশ কিন্তু একটা বড় জনগোষ্ঠীর দেশ যারা বেশ সক্রিয়, বলছিলেন মি. কবির।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে এশিয়ার সংযোগস্থল এবং বঙ্গোপসাগরের সাথে থাকায় সেখানে ভূরাজনৈতিক একটা আগ্রহ থাকে।

সম্প্রতি সামরিক দিক থেকেও কিন্তু ডাইভার্সিফিকেশনের চিন্তা আমরা করছি। সেক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র-শস্ত্র বিক্রি করতে আগ্রহী হবে ফলে সেটাও একটা আগ্রহের জায়গা বলে উল্লেখ করেন মি. কবির।

বাংলাদেশকে ‘উঠতি বাজার’ বিবেচনায় ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের জায়গা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সরঞ্জাম, বোয়িং বিমান, গ্যাস বা এলএনজির কথা উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া বাংলাদেশের বহু মানুষ আমেরিকায় বসবাস করেন, পড়াশোনা করতে যান। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বের জায়গা রয়েছে, প্রযুক্তিগত দিক দিয়েও ক্রেডিট কার্ড বা কম্পিউটার ব্যবহার করতে গেলেও তাতে কোনও না কোনওভাবে যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হয়।

বৈদেশিক নীতিতে সাধারণত বিশ্বের অন্যান্য দেশ বা প্রতিবেশী দেশের সাথে স্বার্থের সমীকরণ গুরুত্ব রাখে। তবে আমেরিকার জন্য বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এবার নতুন সমীকরণের জায়গা অধ্যাপক ইউনূসের সাথে সম্পর্ক। এসব নানাবিধ ফ্যাক্টর মিলেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কটা নির্ধারণ হবে। -বিবিসি

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। স্থানীয় সময় রোববার (২৯ ডিসেম্বর) জিমি কার্টার সেন্টার এক বিবৃতি এই তথ্য জানিয়েছে। খবর এনবিসি নিউজের। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট ছিলেন কার্টার। কার্টার এক মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জর্জিয়ায় নিজ শহর প্লেইনসে জীবনের শেষ সময়ের সেবাযত্নে ছিলেন। এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, জিমি কার্টারই প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি তার ১০০তম জন্মদিনে পৌঁছেছিলেন।  যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিদিন বাঁচা প্রেসিডেন্ট কার্টার। ২০০২ সালে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য শান্তিতে নোবেল পেয়েছিলেন তিনি। কার্টারের যাত্রা শুরু হয়েছিল জর্জিয়ার প্লেইন্সের ছোট্ট শহরে। তিনি সেখানে ১ অক্টোবর, ১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের পারমাণবিক সাবমেরিন বহরের উন্নয়নে সহায়তা করেছিলেন। নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পরকার্টার পারিবারিক চিনাবাদাম চাষের ব্যবসা চালানোর জন্য ১৯৫৩ সালে তার নিজ শহরে ফিরে আসেন। তিনি ১৯৬০-এর দশকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যের ৭৬তম গভর্নর হওয়ার আগে জর্জিয়ার বিধায়ক হিসাবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্টার, একজন ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান ক্ষমতাসীন জেরাল্ড ফোর্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যিনি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে রিচার্ড নিক্সন পদত্যাগ করার পরে রাষ্ট্রপতির পদে অভিষিক্ত হন। কার্টার ফোর্ডকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হন। আরটিভি/একে
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন
হঠাৎ আমেরিকান এয়ারলাইনসের পরিষেবা বন্ধ 
প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বিশ্বের বৃহত্তম এয়ারলাইনস অপারেটর আমেরিকান এয়ারলাইনসের পরিষেবা হঠাৎ করেই বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্রিসমাসের প্রাক্কালে অজ্ঞাত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। আমেরিকান এয়ারলাইনস এক বিবৃতিতে বলেছে, আমাদের টিম যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান করার জন্য কাজ করছে। গ্রাহকদের অসুবিধার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যাত্রীরা যখন ফ্লাইটে ওঠার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন বিমানবন্দরে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এয়ারলাইন যাত্রীদের জানাচ্ছে, তারা প্রতি ১৫ মিনিটে একটি আপডেট দেবে এবং তাদের জানাবে কী ঘটছে...আমাদের সিস্টেমটি ডাউন হয়েছে যার ফলে আমরা কোনো ক্রু বা যাত্রীকে এতে রাখতে পারি না। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) এর একটি নোটে বলা হয়েছে, সংস্থাটি সমস্ত ফ্লাইট গ্রাউন্ডিংয়ের (নামানোর) জন্য অনুরোধ করেছে। আরটিভি/একে/এস
হঠাৎ আমেরিকান এয়ারলাইনসের পরিষেবা বন্ধ 
হাসপাতালে ভর্তি বিল ক্লিনটন 
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে ওয়াশিংটন ডিসির মেডস্টার জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়।  সিএনএনকে বিল ক্লিনটনের কার্যালয়ের উপপ্রধান কর্মকর্তা অ্যাঞ্জেল ইউরেনা জানিয়েছেন, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণের জন্য সোমবার বিকালে প্রেসিডেন্ট ক্লিনটনকে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। তার শারিরীক অবস্থার বিষয়ে ইউরেনা জানিয়েছেন, তিনি ভালো আছেন। তাকে অন্তত একরাত হাসপাতালে থাকতে হবে। তবে আশাবাদী বড়দিনের আগেই তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন। কারণ- এখানে (হাসপাতালে) তিনি ভালোই আছেন এবং খুবই চমৎকার সেবা পাচ্ছেন। এ জন্যও সেবাদাতাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতাও জানান। ৭৮ বছর বয়সী ক্লিনটনকে চলতি বছরে বেশ কয়েকবার শারীরিক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এর আগে, ২০২১ সালের অক্টোবরে রক্তের সংক্রমণে কারণে ক্লিনটনকে পাঁচ রাত হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়েছিল। এছাড়া ২০০৪ সালে ৫৮ বছর বয়সে তার হৃৎপিণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর থেকে তাকে জীবনযাপনের ধারা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। সবশেষ ২০২২ সালের নভেম্বরে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন এই মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ছিলেন। সূত্র: সিএনএন ও বিবিসি
হাসপাতালে ভর্তি বিল ক্লিনটন 
ফিরে দেখা ২০২৪ / ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে শেষ হাসি ট্রাম্পের
৩৬৫ পাতার একটা বই, নাম ২০২৪। পড়তে পড়তে আমরা সবাই প্রায় এর শেষের দিকে। আর মাত্র কয়েকটি পৃষ্ঠা ওল্টালেই নতুন বই ২০২৫-এর প্রকাশনা উৎসব। সেই নতুন বইয়ের মনপাগল করা ঘ্রাণ নেওয়ার আগে ২০২৪ নামক বইয়ে কী কী ছিল, তা হয়তো অনেকেই ভুলতে বসেছেন। বছর সায়াহ্নে এসে স্মৃতির ঝাঁপি খুললে কেমন হয়? ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচক নানা ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। পুরো বিশ্বের চোখ ছিল দেশটির দিকে। সবার মুখেই ছিল এক প্রশ্ন, কে বসতে যাচ্ছে ক্ষমতার মসনদে? ডেমোক্রেট প্রার্থী কমলা হ্যারিস? নাকি রিপাবলিক নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্প? কমলার কথা এজন্যই আলোচনায় ছিল যে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌঁড়ে ট্রাম্পকে ভালোই টক্কর দিচ্ছিলেন। অনেকটা বলতে গেলে ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলার মতো।  এর পেছনে থাকা অনেকগুলো কারণের মধ্যে নারী প্রার্থিতা অন্যতম। কারণ, ১৭৭৬ থেকে ২০২৪। দেখতে দেখতে প্রায় ২৫০ বছর পার হলেও এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র কোনো নারী প্রেসিডেন্ট পায়নি। তাই দেশের একটা অংশের সমর্থন ছিল এই ডেমোক্রেট প্রার্থীর প্রতি। তবে গত ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রথম মার্কিন নারী প্রেসিডেন্ট হয়ে কমলা জয়ের হাসি হাসতে পারেননি, গড়তে পারেননি কোনো অনন্য রেকর্ডও। ১৩২ বছরের রেকর্ড ভেঙে ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট। এ যেন এক রাজকীয় প্রত্যাবর্তন। আর এ প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অধিকাংশ দেশের নেতারা দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় ট্রাম্পকে শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত করেন। রিপাবলিক প্রার্থীর এমন ঐতিহাসিক জয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি তো বটেই, বৈশ্বিক রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়া একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের আভাস দেয়। বিশেষ করে অর্থনীতি ও অভিবাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন ভোটারদের মধ্যে তার শক্তিশালী আবেদন লক্ষ্য করা গেছে এবার।   অপরদিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক নিবন্ধে বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের বক্তৃতা ছিল উসকানিমূলক ও প্রতিশোধপরায়ণ। তবে, অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে তার মনোযোগ বহু ভোটারকেই অনুপ্রাণিত করেছিল। এখন দেখার বিষয় কেমন হয় যুক্তরাষ্ট্রের আগামীর পথচলা। ডোনাল্ড ট্রাম্প কী কমলার ওপর বিশ্বাস হারানো জনগণের মনের আশা পূরণ করতে পারবেন, নাকি ব্যর্থ হবেন? তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, দমে যাওয়ার পাত্র নন ট্রাম্প। যেভাবেই হোক নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাবেনই তিনি।
ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে শেষ হাসি ট্রাম্পের
ভুলে নিজেদের যুদ্ধবিমানই ভূপাতিত করল মার্কিন বাহিনী
লোহিত সাগরে রণতরী থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ভুলক্রমে নিজেদের যুদ্ধবিমানই ভূপাতিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বিমানটি বিধ্বস্ত হলেও এর দুই পাইলটকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।  বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের আকাশে দৃশ্যত ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ারে’ আমেরিকান একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমান এফ/এ-১৮ হর্নেটের উভয় পাইলটই নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে একজন সামান্য আহত হয়েছেন। একইদিন ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র গুদাম এবং কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার লক্ষ্য করে ইয়েমেনে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনার পরপরই লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়া গেলো। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছে, লোহিত সাগরের আকাশে হুথিদের একাধিক ড্রোন ও জাহাজ-বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করা হয়েছে।  বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মার্কিন রণতরী ইউএসএস গেটিসবার্গ থেকে ভুলক্রমে ছোড়া গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র নৌবাহিনীর একটি এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে। ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটি আরেক রণতরী ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যানের ক্রুরা পরিচালনা করছিলেন। ভূপাতিত যুদ্ধবিমানটি ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে চালানো সামরিক অভিযানের অংশ নিয়েছিল কি না, তা পরিষ্কার নয়। এর আগে, সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছিল, হুথিদের কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত এবং হামলার সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্যে শনিবার ভোরের দিকে সানায় হামলা করা হয়েছে। দক্ষিণ লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব এবং এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে হুথিদের হামলার সক্ষমতা হ্রাস করাই ছিল এই হামলার লক্ষ্য। গাজা উপত্যকায় গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার জবাবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নভেম্বর থেকে লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছে হুথি বিদ্রোহীরা। প্রথম দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজগুলোতে হামলা চালালেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালাচ্ছে গোষ্ঠীটি। হুথিদের একের পর এক জাহাজে হামলার জবাবে মার্কিন ও ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীও প্রায়ই হুথিদের অবস্থানে হামলা চালাচ্ছে।  আরটিভি/এসএইচএম/এআর  
ভুলে নিজেদের যুদ্ধবিমানই ভূপাতিত করল মার্কিন বাহিনী
আরও পড়ুন
জিমি কার্টারের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ড. ইউনূসের চিঠি
ইতিহাস গড়ার লড়াইয়ে শেষ হাসি ট্রাম্পের
এবার ইইউ’র ২৭ দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের 
হাসান আরিফের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা-রাষ্ট্রপতির শোক