
এআই চ্যাটবটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ওপর গুলি চালানোর পরিকল্পনার কথা লেখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকো (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত নাথানিয়েল যে সার্না এলিমেন্টারি স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, সেটি তার বাসার পাশেই অবস্থিত।
আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ১১ আগস্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের চ্যাটবট 'ক্লড'-এ একাধিক হুমকিমূলক বার্তা লেখেন কারাসকো। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দ্রুত একটি আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করে স্কুলে ঢুকে শিশুদের ওপর হামলা চালানোর কথা বলেন। এমনকি ওই কথোপকথনে তিনি স্কুলে আহত বা মৃত শিশুদের ছবি খুঁজে দেওয়ার অনুরোধও করেছিলেন।
কারাসকোর এই কথোপকথনের বিষয়ে গত ২৮ আগস্ট সান অ্যান্টোনিও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর 'ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশনস সেকশন'। তথ্য পাওয়ার পর তদন্তকারীরা টি-মোবাইল, চার্টার কমিউনিকেশনস ও গুগলের কাছ থেকে জরুরি ডেটা সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে ওই এআই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কারাসকোর ফোন নম্বর, আইপি ঠিকানা ও বাসার অবস্থান মিলিয়ে নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এরপর ২৯ আগস্ট রাত ১১টার পর সান অ্যান্টোনিও পুলিশ কারাসকোকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তৃতীয়-শ্রেণীর গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য। বর্তমানে তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে বেক্সার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে এই ঘটনায় কোনো হামলা কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া কারাসকোর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেছে কি না বা তিনি বাস্তবে হামলার চেষ্টা করেছিলেন কি না—সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি। আইনগতভাবে তিনি এখনো কেবল অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত হননি।
এদিকে ঘটনাটির নিরাপত্তা ও তথ্য প্রকাশ সম্পর্কিত আরেকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সার্না এলিমেন্টারি স্কুলের অধ্যক্ষ জেনিফার লোমাস জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ শুরুতে হুমকিটির পূর্ণ বিবরণ জানতে পারেনি। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশিত হওয়ার পর, গত ৩১ আগস্ট তিনি অভিভাবকদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
উল্লেখ্য, অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব নীতিমালায় গুরুতর সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে বলা আছে, জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে এমন জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ব্যবহারকারীর তথ্য হস্তান্তর করা সম্ভব। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক স্বচ্ছতা প্রতিবেদনেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন জরুরি তথ্যের অনুরোধে সাড়া দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আরটিভি/এসএস


