
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নানটাকেট দ্বীপে ভয়াবহ ঝড়ের পর সমুদ্রসৈকতে ভেসে উঠেছে প্রায় ১৪২ বছর আগে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজের কাঠের অংশ। ইতিহাসবিদদের ধারণা, কাঠের এই অংশটি ‘ওয়ারেন সয়্যার’ নামের একটি তিন মাস্তুলের পালতোলা জাহাজের ধ্বংসাবশেষ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
১৮৬৯ সালে নির্মিত জাহাজটি ১৮৮৪ সালের ২২ ডিসেম্বর নানটাকেট দ্বীপের কাছে ডুবে যায়। ওই সময় জাহাজটি নিউ অরলিন্স থেকে বোস্টনের দিকে যাচ্ছিল। এতে এক হাজার ১১৫টির বেশি তুলার গাঁট এবং ২৮ টন লোহার ভাঙা অংশ ছিল।
ম্যাসাচুসেটসের পানির নিচের প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ বিষয়ক সংস্থার পরিচালক ও প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক ডেভিড রবিনসন জানান, উনিশ শতকে পণ্য পরিবহনের জন্য জাহাজটি ব্যবহৃত হতো। সে সময় এটি অনেকটা বর্তমান সময়ের বড় পণ্যবাহী যানবাহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।
সাম্প্রতিক ঝড়ের পর নানটাকেটের সমুদ্রসৈকতে পচে যাওয়া কাঠের তক্তা ও কাঠামোর বেশ কিছু অংশ দেখা যায়। এসব কাঠের অংশে এখনও অসংখ্য পেরেক রয়েছে। ঢেউয়ের আঘাতে ধ্বংসাবশেষগুলো বারবার নড়াচড়া করছিল।
স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, একই এলাকায় ২০২২ ও ২০২৩ সালেও ওই জাহাজের আরও কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। ফলে এবারের পাওয়া কাঠের অংশটিও ‘ওয়ারেন সয়্যার’-এর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
১৮৮৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে জাহাজটির দুর্ঘটনার ভয়াবহ বিবরণও প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে জাহাজটির পেছনের একটি বড় অংশ ভেঙে যায় এবং সাগরের প্রচণ্ড ঢেউয়ের সামনে জাহাজের ভেতরের অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
নানটাকেটকে ঐতিহাসিকভাবে ‘আটলান্টিকের জাহাজকবরস্থান’ বলা হয়। উনিশ শতকে প্রতিদিন শত শত জাহাজ এই ছোট দ্বীপটির পাশ দিয়ে চলাচল করত। ঝড় ও সমুদ্রের অগভীর বালুচরের কারণে দ্বীপটির আশপাশের পানিতে প্রায় ৭০০টি জাহাজডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে নানটাকেট জাহাজডুবি ও জীবনরক্ষা জাদুঘর।
আরটিভি/জেএমএ


