
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাত ফেডারেল বিচারকের বিরুদ্ধে বিচারিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। গত শীতের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদমাধ্যমে তাদের দেওয়া বক্তব্যের জেরে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এই অভিযোগ করা হয়।
বিচার বিভাগের অভিযোগ, বিচারকেরা নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গত শীতের ‘মেট্রো সার্জ’ অভিযানের সময় আদালতে তৈরি হওয়া চাপ এবং অভিবাসনসংক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মামলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারকই রয়েছেন।
বিচার বিভাগের দাবি, চলমান বা আদালতের সামনে থাকা মামলাগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা এবং রাজনৈতিক বা নীতিগত বিষয়ে বিচারকদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিক বিধিনিষেধ রয়েছে। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে বিভাগটি।
বিচার বিভাগ মিনেসোটার ওই সাত বিচারককে অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছে।
মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ দাবি করেছেন, সংবাদমাধ্যমে বিচারকদের বক্তব্যে পক্ষপাতের প্রকাশ ঘটেছে। তাঁর মতে, এ কারণে ওই বিচারকদের সংশ্লিষ্ট মামলায় বিচারক হিসেবে থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগটি অষ্টম ফেডারেল আপিল আদালতের প্রধান বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা বিচারকদের মধ্যে প্যাট্রিক শিল্টজের বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। গত জানুয়ারিতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ প্রায় ১০০টি আদালতের আদেশ মানেনি।
একটি রায়ে শিল্টজ বলেছিলেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পরে নিউইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলেন, গত শীতে মিনেসোটার ফেডারেল আদালতে যা ঘটেছে, তা আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছিল। শিল্টজকে সাবেক রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ বিচারক হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।
তবে মিনেসোটা ফেডারেল আদালতের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আইন বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সময় বিচারকেরা তাদের ওপর প্রযোজ্য নৈতিক বিধির মধ্যেই ছিলেন।
শিল্টজও নিজের বক্তব্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার মন্তব্য কোনো নৈতিক বিধি লঙ্ঘন করেনি। তাঁর দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিচারিক আচরণবিধি–সংক্রান্ত একটি পরামর্শে বলা হয়েছে, বিচারকেরা আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারেন। তিনি ঠিক সেটিই করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেডারেল আদালতের সঙ্গে বিচার বিভাগের টানাপোড়েন এর আগেও দেখা গেছে। প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু পদক্ষেপ আদালত স্থগিত করেছে। আবার কিছু উচ্চপর্যায়ের ফৌজদারি মামলাও আদালতে বাধার মুখে পড়েছে।
মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে কিছু বিচারককে ‘প্রশাসনের নীতির পথে বাধা’ হিসেবে সমালোচনা করে আসছে। তবে সমালোচিত কিছু সিদ্ধান্ত আবার ট্রাম্প ও অন্যান্য রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের মনোনীত বিচারকদের কাছ থেকেও এসেছে।
নতুন অভিযোগের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ফেডারেল বিচার বিভাগের মধ্যে চলমান টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এসেছে।
সূত্র: দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)
আরটিভি/জেএমএ


