
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের হান্টসভিল হাসপাতালে অসুস্থতার মধ্যেও বিয়ের স্বপ্ন পূরণ করেছেন ৭৯ বছর বয়সী এক যুগল। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের বেডেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন জন কোমো ও তার বাগদত্তা ডায়ান। চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক সহযোগিতায় অপ্রত্যাশিত এই দিনটিই তাদের জীবনের স্মরণীয় এক মুহূর্তে পরিণত হয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর বিয়ের সনদে নোটারি করার জন্য বের হয়েছিলেন জন ও ডায়ান। কিন্তু পথেই জনের চিকিৎসকের কাছ থেকে ফোন আসে। রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেছে জানিয়ে দ্রুত তাকে হান্টসভিল হাসপাতালে যেতে বলা হয়।
বিয়ের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় মন খারাপ করে হাসপাতালে পৌঁছান তারা। সেখানে জরুরি বিভাগের নার্স বেথ গেটস জানতে পারেন, জনের হঠাৎ অসুস্থতার কারণে তাদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার বিয়েটি আর হচ্ছে না।
বেথ গেটস বিষয়টি জানতে পেরে তাদের হতাশ হতে দেননি। তিনি হাসপাতালের নিরাপত্তা কার্যালয়ে কর্মরত লাইসেন্সপ্রাপ্ত নোটারি শয়না আলেকজান্ডারকে খুঁজে বের করেন। সব কাজ ফেলে শয়না ছুটে আসেন জরুরি বিভাগের সি-২৯ নম্বর কক্ষে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কক্ষটি পরিণত হয় তাদের বিয়ের আসরে।
হাসপাতালের গাউন পরা জন এবং সাদা প্যান্টস্যুট পরা ডায়ান সেখানেই বিয়ের সনদে স্বাক্ষর করেন। পাশে থাকা আরেক রোগী সামান্থা কাগজ দিয়ে তৈরি হলুদ আংটি বানিয়ে দেন। সেই আংটি বদল করে একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করেন তারা।
এরপর হাসপাতালের বেডে থাকা অবস্থায় সামান্য ঝুঁকে স্ত্রী ডায়ানকে চুম্বন করেন জন। হাসপাতালের উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার পরিবেশ মুহূর্তেই আনন্দে ভরে ওঠে।
হাসপাতালের কর্মীরা তাদের বিয়ের আয়োজন আরও সুন্দর করে তুলতে নানা ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসার সরঞ্জাম ও স্যালাইনের নল যেন আনন্দের মুহূর্তে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়। লাইসেন্সপ্রাপ্ত নার্স কেরিয়া লাইটফুট ফুল, কাপকেক, প্লাস্টিকের শ্যাম্পেনের গ্লাস ও ঝলমলে আঙুরের রসের ব্যবস্থা করেন। জরুরি বিভাগের কর্মী নোলান বেয়ার্ডেন তৈরি করে আনেন ‘সদ্য বিবাহিত’ লেখা একটি প্ল্যাকার্ড।
এই ঘটনায় আপ্লুত জন কোমো বলেন, চরম বিপদের দিনেও হাসপাতালের কর্মীদের এমন আন্তরিকতা তাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
পরে অবসরপ্রাপ্ত এই সেনা কর্নেলকে হাসপাতালের ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি বাড়ি ফেরেন।
প্রায় এক বছর আগে ৪০ বছরের দাম্পত্য জীবনের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর ডায়ানের সঙ্গে জনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের পরিচিত ডায়ানকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের কর্মীদের সহযোগিতায় এমন এক স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে এখন দারুণ উচ্ছ্বসিত জন কোমো।
আরটিভি/জেএমএ


