
জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, অস্ত্রের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতাসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মামলা নিয়ে নতুন অধিবেশন শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার (৪ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির পাশাপাশি ভোটাধিকার ও ধর্মীয় অধিকার নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি নিউজ জানিয়েছে, চলতি অধিবেশনের বেশ কয়েকটি মামলার রায় দেশটির নীতি ও আইন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
অধিবেশনের শুরুতেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হবে। জ্বালানি কোম্পানিগুলো এমন কয়েক ডজন মামলা বন্ধ করতে চায়, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের দায়ী করার চেষ্টা করা হয়েছে।
কলোরাডোর বোল্ডারের একটি মামলায় কয়েকশ কোটি ডলারের বিষয় জড়িত থাকতে পারে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় বাড়তে থাকা ব্যয়ের একটি অংশ জ্বালানি শিল্পকেও বহন করা উচিত।
জ্বালানি কোম্পানি সানকর ও এক্সনমোবিল বলছে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সমস্যা মোকাবিলার উপায় আদালতে মামলা করা নয়। ট্রাম্প প্রশাসনও কোম্পানিগুলোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, এসব মামলা মূলত জ্বালানি নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আদালতের মাধ্যমে ক্ষমতা ব্যবহারের চেষ্টা।
প্রায় এক ডজন অঙ্গরাজ্য এআর-১৫-এর মতো আধা-স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিষিদ্ধ করেছে। এসব অস্ত্রকে প্রায়ই হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অঙ্গরাজ্যগুলোর যুক্তি, গণগুলিবর্ষণের ঘটনায় এসব অস্ত্র তুলনামূলক বেশি ব্যবহৃত হয়। তাই এগুলো নিষিদ্ধ করলে বন্দুক সহিংসতা কমানো সম্ভব।
তবে নিষেধাজ্ঞার বিরোধীরা বলছেন, এসব আইন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে দেওয়া অস্ত্র রাখার অধিকার লঙ্ঘন করে। তাঁদের দাবি, এআর-১৫ ও একই ধরনের অস্ত্র দেশটির সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে।
রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ত্র রাখার অধিকার আরও বিস্তৃত করেছে। চারজন বিচারপতি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এআর-১৫-এর মতো অস্ত্র নিষিদ্ধের বিষয়টি আদালতের সামনে আসা শুধু সময়ের ব্যাপার। ডিসেম্বর মাসে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপের ওপরও সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বড় প্রভাব পড়তে পারে। এ নিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হবে।
প্রথম মামলাটি এমন অভিবাসীদের নিয়ে, যাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়। ট্রাম্প প্রশাসন গোপনীয় বা অপ্রকাশিত বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে এমন হাজারো অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠাচ্ছে, যেসব দেশের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই।
নিম্ন আদালতের আদেশে এসব অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে আপত্তি জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট সেই আদেশ বাতিল করবে কি না, তা বিবেচনা করবে। এর মধ্যে আদালত এসব দেশে অভিবাসীদের পাঠানোর বিমান চলাচল অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছে।
দ্বিতীয় মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করা অভিবাসীদের বাধ্যতামূলকভাবে আটক রাখার নীতি নিয়ে। এমনকি কেউ বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তাঁকে জামিনের শুনানির সুযোগ ছাড়াই আটক রাখা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, জামিনের শুনানি ছাড়াই এসব ব্যক্তিকে আটক রাখার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে এ বিষয়ে মামলা শুনেছে এমন অধিকাংশ আপিল আদালত প্রশাসনের সঙ্গে একমত হয়নি।
অ্যারিজোনার কঠোর ভোট আইন কার্যকর করার রিপাবলিকান প্রচেষ্টাও সুপ্রিম কোর্টের সামনে আসছে।
একটি আইনে অঙ্গরাজ্যের নির্ধারিত ফরম ব্যবহার করে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখানোর কথা বলা হয়েছে। আরেকটি ব্যবস্থায় ভোটার তালিকা নিয়মিত যাচাই করে যাঁদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায় না, তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কংগ্রেসের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধনের সময় নাগরিকত্বের কাগজপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করার আইন পাস করানোর চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। এ মামলার শুনানি ডিসেম্বর মাসে হওয়ার কথা।
নভেম্বর মাসে কলোরাডোর করদাতাদের অর্থে পরিচালিত একটি সার্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারা ক্যাথলিক বিদ্যালয়গুলোর একটি মামলার শুনানি হবে।
সেন্ট মেরি ক্যাথলিক প্যারিশের অভিযোগ, ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে তাদের ভর্তি নীতিতে এলজিবিটিকিউ পরিবারগুলোর শিশুদের বাদ দেওয়ায় তাদের রাজ্যের সার্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচি থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
কলোরাডোর পক্ষের বক্তব্য, ধর্মীয় বিদ্যালয়গুলো এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবে। তবে তাদের বৈষম্যবিরোধী আইন মেনে চলতে হবে।
২০২০ সালের গণভোটের মাধ্যমে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। এর আওতায় অভিভাবকেরা যেসব বিদ্যালয় বেছে নেন, সেখানে প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য সরকারি অর্থ দেওয়া হয়।
সূত্র: এপি
আরটিভি/জেএমএ


