
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক কর্মকর্তার (CBP Officer) গুলিতে পাঁচবার আহত হয়ে বেঁচে যাওয়া মারিমার মার্টিনেজ এবার দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, নতুন বিশ্লেষণে প্রমাণ হয়েছে, গুলি চালানোর সময় ওই কর্মকর্তা মার্টিনেজের গাড়ির সামনে ছিলেন না। ফলে তার জীবন হুমকির মুখে ছিল—এমন দাবিও সঠিক নয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে দেওয়ানি মামলা করেন মার্টিনেজ। গত বছরের অক্টোবরে শিকাগোতে শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থার কর্মকর্তা চার্লস এক্সামের গুলিতে আহত হন তিনি। সে সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান চলছিল।
মার্টিনেজ একটি মন্টেসরি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। গত বছরের অক্টোবরে গাড়িতে থাকা অবস্থায় তাকে পাঁচবার গুলি করেন সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তা চার্লস এক্সাম।
মামলায় অবহেলা, শারীরিক হামলা, মানসিক নির্যাতন, মিথ্যা গ্রেপ্তার, বেআইনি আটক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্টিনেজের আইনজীবী মাইকেল গ্যালাঘার বলেন, গুলি চালানোর ঘটনা কোনোভাবেই ন্যায্য ছিল না। এতে মার্টিনেজ প্রায় প্রাণ হারাতে বসেছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সঙ্গে লড়াই করছেন।
আইনজীবীরা একই সঙ্গে এক্সামের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার জন্য বিচার বিভাগ ও স্থানীয় প্রসিকিউটরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মার্টিনেজের আরেক আইনজীবী ক্রিস্টোফার পারেন্টে বলেন, তাদের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ঘটনাস্থলের তদন্ত ও আলাদা বিশ্লেষণ করেছে। এতে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, এক্সাম কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মার্টিনেজকে গুলি করেছিলেন এবং গুলি চালানোর সময় তার জীবন ঝুঁকিতে ছিল না।
আইনজীবীরা গুলির চিহ্ন, মার্টিনেজের শরীরের আঘাত এবং ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে একটি দৃশ্যপট তৈরি করেছেন।
তাদের দাবি, গুলি চালানোর সময় মার্টিনেজ এক্সামের দিকে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন না। বরং তিনি গাড়ি নিয়ে কর্মকর্তার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন।
আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একটি গুলি গাড়ির পেছনের যাত্রীর আসনের পাশ দিয়ে ঢোকে। এতে তাদের দাবি, গুলি চালানোর সময় এক্সাম গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন—এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই।
মাইকেল গ্যালাঘার বলেন, ‘তিনি কোনোভাবেই গাড়ির চলার পথে ছিলেন না। মার্টিনেজ আসলে তার কাছ থেকে দূরে যাচ্ছিলেন। বরং তিনিই মার্টিনেজের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলেন।’
ঘটনার সময় এক্সামের শরীরে কোনো দেহক্যামেরা ছিল না। পরে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা অভিবাসন কর্মকর্তাদের দেহক্যামেরা পরার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
গুলির ঘটনার পর মার্টিনেজ ও ঘটনাস্থলে থাকা আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।
তবে পরে ফেডারেল প্রসিকিউটররা নিজেদের করা মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ঘটনার অতিরিক্ত ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর এবং এক্সাম অন্য কর্মকর্তাদের কাছে গুলি চালানোর ঘটনা নিয়ে গর্ব করেছিলেন—এমন বার্তা প্রকাশের পর মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, শুনানিতে উপস্থাপিত নথিতে দেখা যায়, অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি বার্তাগোষ্ঠীতে এক্সাম লিখেছিলেন, তিনি পাঁচটি গুলি চালিয়েছেন এবং ওই নারীর শরীরে সাতটি ছিদ্র হয়েছে।
অন্য একজনকে পাঠানো বার্তায় ঘটনার সংবাদ প্রতিবেদন পাঠিয়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘পাঁচ গুলি, সাত ছিদ্র।’
এ বিষয়ে আইনজীবী পারেন্টে এক্সামকে প্রশ্ন করলে তিনি জানিয়েছিলেন, তিনি আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষক এবং নিজের গুলি চালানোর দক্ষতা নিয়ে গর্ব করেন।
মার্টিনেজ সোমবার (৫ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এখন তারা দেওয়ানি মামলাটি নিয়ে এগিয়ে যেতে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হওয়ার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি শুধু আনন্দিত যে আরও একটি বছর দেখতে পারছি এবং পরিবারের সঙ্গে আছি। যা ঘটছে, সে বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে চাই। এসব স্বাভাবিক নয়। যা ঘটছে, সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, নীতিমালা অনুযায়ী গুলি চালানো কর্মকর্তা চার্লস এক্সামকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। তবে তিনি এখনো ছুটিতে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে অন্য প্রশ্নের উত্তর দিতে বিভাগটি বিচার বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে। বিচার বিভাগ চলমান মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মার্টিনেজের মামলা অভিবাসন কর্মকর্তাদের গাড়িতে বেসামরিক ব্যক্তিরা ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন—ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এমন অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


