
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে দোকান থেকে চুরির অভিযোগে ধাওয়া করার সময় পুলিশের গুলিতে এক বছর বয়সী শিশু কোহেন উইলির মৃত্যুর ঘটনাকে যৌক্তিক বলে উল্লেখ করেছেন অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লিন ফিচ।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান। তবে শিশুটির পরিবারের আইনজীবী তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং পুলিশের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
গত ১৪ জুন মেমফিস শহরের প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণে সেনাটোব্যা শহরের একটি ওয়ালমার্টের গাড়ি রাখার জায়গায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, দোকান থেকে বেরিয়ে একটি গাড়িতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন দুজন ব্যক্তি ও একটি শিশু। তাদের থামানোর চেষ্টা করলে গাড়ির চালক এক পুলিশ কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার উপক্রম হন। তখন এক কর্মকর্তা গুলি চালান। পরে গাড়িটি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
মিসিসিপি তদন্ত ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়, পরে গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা স্থানীয় একটি হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানে এক বছর বয়সী কোহেন উইলিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। গাড়ির চালকও গুরুতর আহত হন।
ঘটনার চার মাস পর অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, তদন্ত পর্যালোচনা শেষে তাদের সিদ্ধান্ত—পুলিশের গুলির ব্যবহার আইনসম্মত ও যৌক্তিক ছিল। ঘটনাটি তদন্ত করেছে মিসিসিপি তদন্ত ব্যুরো।
তবে শিশুটির পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, তদন্তের সিদ্ধান্তের পক্ষে ভিডিও থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত। পরিবারের সদস্যরা সত্য জানতে না পারা পর্যন্ত তারা লড়াই চালিয়ে যাবেন বলেও জানান তিনি।
শিশুটির মা ভেলেসিয়া উইলি পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তার দাবি, তারা ওয়ালমার্টে শিশুর জন্য ডায়াপার কিনতে গিয়েছিলেন। দোকান থেকে বের হওয়ার সময় তার বন্ধুকে কিছুক্ষণের জন্য থামানো হয়। বিষয়টি তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত নয় ভেবে তিনি হাঁটতে থাকেন। পরে তিনি শিশুকে নিয়ে গাড়িতে ওঠেন।
ভেলেসিয়া জানান, গাড়ি পেছনে নেওয়ার সময় তারা পুলিশের মুখোমুখি হন। তখন তিনি শিশুটিকে কোলে তুলে কর্মকর্তাদের দেখানোর চেষ্টা করেন, যাতে তারা বুঝতে পারেন গাড়িতে একটি শিশু রয়েছে। এ সময় তার বন্ধুর গাড়িটি অসাবধানতাবশত আরেকটি গাড়িতে ধাক্কা দেয়। তার দাবি, চালক পুলিশ কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেননি।
জুলাই মাসে পরিবারের আইনজীবী বেন ক্রাম্প ও ভ্যান টার্নার প্রাথমিক ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, প্রতিবেদনে দেখা গেছে, যে গুলিতে শিশুটি নিহত ও গাড়ির চালক আহত হন, তা গাড়ির এক পাশ দিয়ে প্রবেশ করেছিল। এ তথ্য পুলিশের গুলি চালানোর যৌক্তিকতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি করেন তারা।
শিশুটির মা এখনও কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হননি বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। তার ভাষ্য, মা পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন যে গাড়ির ভেতরে একটি শিশু রয়েছে।
ঘটনার পর থেকে সেনাটোব্যা শহরে শিশুটির মৃত্যুর বিচার দাবিতে কয়েক মাস ধরে প্রতিবাদ চলছে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের সিদ্ধান্তের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: এনবিসি নিউজ
আরটিভি/জেএমএ




