
যুক্তরাষ্ট্রে একক পরিবারের বসবাসের উপযোগী বাড়ি নির্মাণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে নতুন বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন নেমে এসেছে সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। বাড়ির ঋণে উচ্চ সুদের হার, নির্মাণসামগ্রীর বাড়তি দাম এবং শ্রমিক সংকটের কারণে দেশটির আবাসন খাতে এ মন্দা দেখা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণের হার আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৮ লাখ ৫৯ হাজারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই সর্বনিম্ন পর্যায়।
এদিকে ভবিষ্যতে একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণের অনুমোদন আগের মাসের তুলনায় ৪ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৮ লাখ ৪৫ হাজারে নেমেছে। ২০২৩ সালের মার্চের পর এই সংখ্যা সর্বনিম্ন।
ঋণের সুদ ও নির্মাণব্যয় বাড়ায় সংকট
আবাসন খাতে মন্দার অন্যতম কারণ হিসেবে বাড়ি কেনার ঋণে উচ্চ সুদের হার ও বাড়ির চড়া দামকে দেখা হচ্ছে। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদি স্থায়ী সুদের গৃহঋণের গড় হার বেড়ে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছায়। প্রায় তিন বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।
উচ্চ সুদের কারণে বাড়ি কেনার খরচ বেড়েছে। ফলে অনেক ক্রেতার পক্ষে নতুন বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি, ডিজেলের বাড়তি খরচ এবং শ্রমিক সংকট নির্মাতাদের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন নির্মাতাদের সংগঠনের এক জরিপে দেখা গেছে, অক্টোবরে বাড়ি নির্মাতাদের আস্থা কমে ২০১২ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে সম্ভাব্য ক্রেতাদের বাড়ি দেখতে আসার সংখ্যাও কমেছে।
বিক্রি কমায় অবিক্রীত বাড়ির মজুত বাড়ছে
নতুন বাড়ির বিক্রি কমে যাওয়ায় বাজারে অবিক্রীত বাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। এতে নির্মাতারা নতুন প্রকল্প শুরু করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। তবে দেশটিতে দীর্ঘদিনের আবাসনসংকট থাকায় বাড়ির দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণ কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ, মধ্য-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলে। তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নির্মাণ বেড়েছে। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় একক পরিবারের বাড়ি নির্মাণের হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি ছিল।
অন্যদিকে পাঁচ বা তার বেশি আবাসন ইউনিটবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের হার সেপ্টেম্বরে আগের মাসের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বহুতল আবাসন নির্মাণের হার কমেছে ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
সব ধরনের আবাসন প্রকল্প মিলিয়ে সেপ্টেম্বরে নির্মাণ শুরুর হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ১২ লাখ ২১ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সামগ্রিক নির্মাণ অনুমোদন কমেছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।
অর্থনীতিতেও প্রভাবের আশঙ্কা
আবাসন খাতের এই মন্দা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মরগান স্ট্যানলির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বার্ষিক হিসাবে ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
এর আগে টানা পাঁচ প্রান্তিক কমার পর চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বেড়েছিল। তবে নতুন করে নির্মাণ কমে যাওয়ায় সেই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ মনে করছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির জন্য তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ বাড়ায় নির্মাণশ্রমিকের সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। পাশাপাশি জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নির্মাণ খাতের ব্যয় বাড়াচ্ছে।
হাই ফ্রিকোয়েন্সি ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ কার্ল ওয়েইনবার্গের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পুরোপুরি বোঝা না যাওয়া পর্যন্ত আগামী কয়েক মাসেও বাড়ি নির্মাণের গতি দুর্বল থাকতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
আরটিভি/জেএমএ


