
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে একাধিক প্রবীণ ডে কেয়ার সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা খাতে অভিযান চালিয়েছেন ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআই ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগে চলমান যৌথ তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ অভিযান চালানো হয়। এতে অর্থ পাচার, অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ এবং ভুয়া বিল জমা দেওয়ার মতো অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস ও নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে এ তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের সানসেট পার্ক এলাকার এইটথ অ্যাভিনিউয়ে একটি প্রবীণ দিবাযত্নকেন্দ্র থেকে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের বাক্সপত্র নিয়ে বের হতে দেখা যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতির অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
এছাড়া ব্রুকলিনের বরো পার্ক এলাকার ফোর্ট হ্যামিল্টন পার্কওয়ের একটি দিবাযত্নকেন্দ্র এবং ফ্লাশিং এলাকার আরেকটি কেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের কয়েকটি কেন্দ্রেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, যেসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে, তাদের লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে অর্থ পাচার, অবৈধ কমিশন দেওয়া-নেওয়া এবং অনিয়মের মাধ্যমে বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গভর্নর জানান, কয়েক মাস ধরে এ তদন্ত চলছে। চিকিৎসাসেবা খাতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার ও জালিয়াতি নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে তিনি নিজেও ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচি পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান মেহমেত ওজ জানান, বছরের শুরুর দিকে তিনি অভিযান চালানো কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেছিলেন। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় এটি ছিল সবচেয়ে বড় অভিযান। সপ্তাহের শেষ দিকে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
অভিযানের বিষয়ে বরো পার্কের কেন্দ্রটিতে ফোন করা হলে ফোনের উত্তর দেওয়া ব্যক্তি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রের উল্লেখ করা অন্য দুটি কেন্দ্রে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিসের ডেভিড শাপিরো বলেন, এ ধরনের জালিয়াতিতে সাধারণত একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকেন। কারা এর সঙ্গে যুক্ত, কোন সরবরাহকারী ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে এবং সেবা নেওয়া ব্যক্তিরা প্রকৃত নাকি ভুয়া—এসব বিষয় তদন্ত করে বের করা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অপরাধের তদন্তে বিপুল পরিমাণ নথিপত্র যাচাই করতে হয়।
উল্লেখ্য, গত গ্রীষ্মে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবীণ দিবাযত্নকেন্দ্রগুলোকে মেডিকেইড কর্মসূচির আওতায় ৩৩৫ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ অর্থ পেয়েছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলো, যা অন্য যেকোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা জানায়, তাদের নিরীক্ষায় দেখা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে মেডিকেইডের আওতায় প্রত্যেক সেবাগ্রহীতার পেছনে জাতীয় গড়ের তুলনায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে।
তবে বেশি ব্যয়ের এই তথ্যই কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
সন্দেহজনক জালিয়াতির বিষয়ে জনসাধারণকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
আরটিভি/জেএমএ


