
সত্যিকারের ভালোবাসা আসলে মৃত্যু দিয়েও মুছে ফেলা যায় না। সেটা প্রমাণ করে ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ৯৩ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ক্ল্যারেন্স পারভিস। ১৯৪৮ সালে ক্যারোলিনের সঙ্গে পরিচয়ের পর ১৯৪৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। দীর্ঘ ৬৩ বছরের সুখী দাম্পত্য জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার রেইডসভিলের ‘স্মিথস’ রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়া তাদের প্রিয় একটি রুটিনে পরিণত হয়েছিল। তবে স্ত্রীর মৃত্যুর পর তার ছবি নিয়ে আজও একই টেবিলে খেতে বসেন বৃদ্ধ।
দুজনে মিলে গল্প করতে করতে খাবার উপভোগ করতেন, যা তাদের সম্পর্কের অন্যতম সুন্দর দিক ছিল।
২০১৩ সালে স্ত্রী ক্যারোলিন মারা গেলে ক্ল্যারেন্স ভীষণভাবে একা হয়ে পড়েন। তবে স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দীর্ঘদিনের সেই স্মৃতি তিনি কিছুতেই ছাড়তে পারেননি। তাই আজও প্রিয় সেই রেস্তোরাঁয় খেতে বসে টেবিলের ওপাশে প্রিয়তমা স্ত্রীর একটি বাঁধানো ছবি রেখে দেন তিনি। ক্ল্যারেন্সের বিশ্বাস, শারীরিকভাবে না থাকলেও আত্মিকভাবে স্ত্রী ক্যারোলিন আজও তার পাশেই আছেন।
কেবল রেস্তোরাঁতেই নয়, স্ত্রীর প্রতি গভীর অনুরাগে প্রতিদিন সকালে ক্যারোলিনের সমাধিতেও ছুটে যান এই বৃদ্ধ। এমনকি স্ত্রীর কাছাকাছি থাকার অনুভূতি পেতে দিনের মধ্যে একাধিকবার সেখানে যান তিনি।
২০১৭ সালে তাদের এই হৃদয়স্পর্শী গল্পটি বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হলে তা লাখো মানুষের মন জয় করে নেয়। ক্ল্যারেন্স পারভিস প্রমাণ করেছেন, প্রিয় মানুষটি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও ছোট ছোট স্মৃতি আর অভ্যাসের মাঝেই সত্যিকারের ভালোবাসা চিরকাল বেঁচে থাকে।
আরটিভি/এমএম


