
অচেতন থাকা অবস্থায় চিকিৎসকের নির্দেশনা পরে শোনার জন্য মোবাইলে অডিও রেকর্ড চালু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এক রোগী। কিন্তু কোলনোস্কপির সময়ও রেকর্ডিং চলতে থাকায় চিকিৎসকরা তাকে নিয়ে উপহাস ও অপমানজনক কথাবার্তা কথা ধরা পড়ে। সেই রেকর্ডিংয়ের ভিত্তিতে করা মামলায় ২০১৫ সালের জুনে রোগীকে পাঁচ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টির একটি জুরি। ঘটনাটি ঘটে ২০১৩ সালের এপ্রিলে, ভার্জিনিয়ার রেস্টনের একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে।
আদালতের নথিতে পরিচয় গোপন রাখতে রোগীকে ‘ডি.বি.’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এবিসি নিউজের তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসা শেষে যত্ন নেওয়ার নির্দেশনা সংরক্ষণের জন্য তিনি স্মার্টফোনে রেকর্ডিং চালু করেছিলেন। অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার পরও সেটি বন্ধ হয়নি। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে অডিও শুনে তিনি জানতে পারেন, অচেতন অবস্থায় তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়েছে।
রেকর্ডিংয়ে অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ডা. টিফানি ইনঘামকে বলতে শোনা যায়, চিকিৎসার আগে রোগীর সঙ্গে অল্প সময় কথা বলেই তার মুখে ঘুষি মারতে ইচ্ছা হয়েছিল। রোগীকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত বলে উপহাস এবং চিকিৎসা শেষে তার সঙ্গে কথা বলা এড়িয়ে যাওয়ার আলোচনাও অডিওতে ধরা পড়ে।
মামলায় চিকিৎসার নথিতে ভুল তথ্য লেখার বিষয়টিও উঠে আসে। রেকর্ডিংয়ে ইনঘামকে বলতে শোনা যায়, রোগীর অর্শ দেখা না গেলেও তিনি সেটি নথিতে লিখবেন। এই অডিও আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তিন দিনের বিচার শেষে জুরি মানহানির জন্য এক লাখ ডলার, চিকিৎসাগত অনিয়মের জন্য দুই লাখ ডলার এবং শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও দুই লাখ ডলার নির্ধারণ করেন।
ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়া হয় ইনঘাম ও তার সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে। কোলনোস্কপি করা অপর চিকিৎসক সলোমান শাহকেও শুরুতে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তবে বিচার চলাকালে তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি চিকিৎসা চলাকালে রোগীর সঙ্গে আচরণ ও তার মর্যাদা রক্ষার প্রশ্ন সামনে আনে। এটি সাম্প্রতিক কোনো রায় নয়। রোগীর অজান্তে রেকর্ড হয়ে যাওয়া কথোপকথনকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের ঘটনার বিচার হয় ২০১৫ সালে।
আরটিভি/এমএম


