ঢাকা বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

আদালতের আদেশে ৭ মাসের সন্তান ফিরে পেল ১৩ বছরের কিশোরী মা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
১৩ বছর বয়সী কিশোরী মা অনামিকা আক্তার জুঁই। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে সাত মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিজের জিম্মায় ফিরে পেয়েছেন ১৩ বছর বয়সী কিশোরী মা অনামিকা আক্তার জুঁই। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শিশুটিকে আপাতত মায়ের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

শুনানিতে বিচারক বলেন, শিশুটির সর্বোত্তম স্বার্থ ও মানবিক দিক বিবেচনায় আপাতত সে তার মায়ের কাছেই থাকবে। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ২২ বছর বয়সী শাকিল ওরফে শাকিব মিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় অনামিকা আক্তার জুঁইয়ের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, জুঁই অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকা অবস্থায় তাকে বিয়ে করেন শাকিল। চলতি বছরের শুরুতে তাদের ঘরে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়।

জুঁইয়ের অভিযোগ, সন্তান জন্মের কয়েক মাস পর তাকে শিশুটিকে রেখে শ্বশুরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্নভাবে সন্তানকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে গত ১ জুলাই তিনি ঢাকার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত অভিযুক্ত শাকিল ও তার মাকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা উপস্থিত হননি। পরে আদালতের নির্দেশে চকবাজার থানার পুলিশ সোমবার শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজির করে। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।

শুনানিকালে বিচারক বলেন, প্রথম দিন জুঁইকে দেখে তিনি বিশ্বাসই করতে পারেননি যে তার একটি সন্তান রয়েছে। কারণ বয়সের দিক থেকে জুঁই নিজেও একজন শিশু।

জুঁইয়ের আইনজীবীর দাবি, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন। সন্তান জন্মের পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং শিশুকেও তার কাছ থেকে আলাদা রাখা হয়।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শাকিলের দাবি, জুঁই স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সন্তানকে রেখে নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান। তিনি সন্তানের অভিভাবকত্ব চেয়ে পারিবারিক আদালতেও একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে শুনানিতে উল্লেখ করা হয়।

মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে। ওই শুনানিতে শিশুটির স্থায়ী অভিভাবকত্বসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আদালত পরবর্তী সিদ্ধান্ত দেবেন।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
স্বামীর স্পর্শকাতর অঙ্গ কেটে যে শাস্তি পেলেন স্ত্রী
বছর দেড়েক আগে রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে সিয়াম নামে এক যুবকের পুরুষাঙ্গ কর্তনের মামলায় তার স্ত্রী মোসা. রুমা আক্তারকে পৃথক দুই ধারায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আতাউর রহমান মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, কাঁচি দিয়ে আঘাতের দায়ে আসামিকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর গুরুতর আঘাতের দায়ে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও একমাস কারাভোগ করতে হবে বলে বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন। রায়ে বলা হয়, দুই ধারার সাজা একত্রে চলবে। এজন্য তাকে সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ চার বছরের কারাভোগ করতে হবে। মামলার বিবরণ থেকে, ২০২৪ সালের জুন মাসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সিয়াম ও রুমা। বিয়ের পর থেকে তারা কসাইটুলী এলাকায় আলাদা থাকতো। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিয়াম বাইরে থেকে খাবার খেয়ে বাসায় আসে। বাইরে থেকে খাবার খেয়ে আসার কারণে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রুমা ঘুমন্ত সিয়ামের পুরুষাঙ্গ কাপড় কাটা কাঁচি দিয়ে কেটে (অর্ধেক) দেয়। ধস্তধস্তিতে সিয়ামের বাম হাতের বৃদ্ধ আঙুল রক্তাক্ত জখম হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই সিয়ামের বাবা বংশাল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে গত বছরের ৫ মে রুমাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফেরদৌস আলম। এরপর ১০ নভেম্বর রুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্যদিয়ে এ মামলায় বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে আদালত ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রুমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। আরটিভি/এসএস
স্বামীর স্পর্শকাতর অঙ্গ কেটে যে শাস্তি পেলেন স্ত্রী
রাঙ্গামাটিতে লাল চাকমা হত্যার দায়ে ছেলে ও ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড
রাঙ্গামাটির সাজেকে নিজ বাবা শান্তি লাল চাকমাকে হত্যার দায়ে ছেলে সোহেল চাকমা ও নিহতের ভাইয়ের ছেলে আলোময় চাকমাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুজনকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটিতে লাল চাকমা হত্যার দায়ে ছেলে ও ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড
মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ৫ আসামির সম্পত্তি জুলাই শহীদ ও আহতদের দেওয়ার নির্দেশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডসহ তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
403810
মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
গুলিবিদ্ধ রাজুর পেট থেকে বের হচ্ছিল রক্তমাখা ভাত, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর বর্ণনা
জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি ও হামলার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন মামুন ফরাজি নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী।
গুলিবিদ্ধ রাজুর পেট থেকে বের হচ্ছিল রক্তমাখা ভাত, ট্রাইব্যুনালে সাক্ষীর বর্ণনা
আরও পড়ুন
স্বামীর স্পর্শকাতর অঙ্গ কেটে যে শাস্তি পেলেন স্ত্রী
আদালত প্রাঙ্গণে বিচারক-গাড়িচালকের আলোচিত ঘটনা, তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
জামালপুরে ৬ মামলার রায় ঘোষণা, ৩ জনের যাবজ্জীবন
রায় শুনে আদালতেই জ্ঞান হারালেন আওয়ামী লীগ নেতা