
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা সহজ ও দ্রুততর করতে ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি অ্যাম্বুলেন্স বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চাকসুর সপ্তম ক্যাবিনেটের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান, উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সফিকুল ইসলাম, চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিবসহ চাকসু ও হল সংসদের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনা করেই আধুনিক এই অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন করা হয়েছে। এটি শুধু একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তর নয়, বরং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আবাসন ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘ ছয় দশকের পুঞ্জীভূত সমস্যা রয়েছে। এসব সংকট একদিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধানে চাকসু কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন পেলে ক্যাম্পাসে পাঁচটি ছাত্র হল, পাঁচটি ছাত্রী হল এবং একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও চিকিৎসাসেবায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনো চাকসুকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখেনি, বরং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করেছে। গত এক বছরে শিক্ষার্থীদের খাবার, আবাসন, যাতায়াত ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মতভেদ ও মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে মাদক ও ইভটিজিং নিয়ন্ত্রণ, খাবারের মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সফট স্কিল প্রশিক্ষণ, বিদেশি ভাষা শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
চাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক আফনান হাসান বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করছে চাকসু। যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন, খাবারের মান বৃদ্ধি, মাদক ও যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন করা হয়েছে।
আরটিভি/এসএস




