ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আলোচনায় প্যারোল, কতক্ষণ মুক্ত থাকা যায়

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
প্রতীকী ছবি

কারাগারে থাকা বন্দিকে সীমিত সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া হলো প্যারোল। বিধি মোতাবেক কেউ প্যারোল আবেদনের যোগ্য হলে তিনি আবেদন করতে পারেন।

জামিনের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। জামিন হয় আদালতের নির্দেশে, কিন্তু প্যারোল হয় প্রশাসনিক আদেশে। জামিন পাওয়া ব্যক্তি বাইরে স্বাধীন থাকেন এবং তিনি কোনো আদালত বা পুলিশের জিম্মায় থাকেন না।

কিন্তু প্যারোল পাওয়া ব্যক্তি পুরো সময় পুলিশের তত্ত্বাবধানে থাকেন। প্যারোল পাওয়া ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময় পর পুলিশ কারাগারে নিয়ে আসবে।

আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, যে কোনো ধরনের বন্দি, কয়েদী বা হাজতিই প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিবেচিত হতে পারেন।

মনজিল মোরশেদ বলেন, তিনি (কোনো ব্যক্তি) যে অপরাধের কারণে বা যে ধরন বা মেয়াদের শাস্তি ভোগরতই থাকুন না কেন, সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে (যেমন নিকটাত্মীয়ের জানাজা) তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পারেন প্যারোলে মুক্তির জন্য। মন্ত্রণালয় দূরত্ব ও স্থান বিবেচনা করে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তার আবেদন মঞ্জুর করতে পারেন।

প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে যত নীতিমালা

কোন বন্দি প্যারোল পাবেন এবং প্যারোলের আওতায় তার সময়কাল কীভাবে দেখা হবে, তা নিয়ে একটি নীতিমালা আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

এ নীতিমালা অনুযায়ী, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ নীতিতে থাকা অন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো:

১. নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনা করে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দিবেন;

২. নিকট আত্মীয় যেমন বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, সন্তান, আপন ভাই-বোন মারা গেলে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যায়;

৩. আদালতের আদেশ বা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন সাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে;

৪. প্যারোলে মুক্তি পেলেও সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরায় থাকতে হবে;

৫. কারাগারের ফটক থেকে প্যারোলে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তিকে পুলিশ বুঝে নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কারাগারে ফেরত দিতে হবে।

কতক্ষণ মুক্ত থাকা যায়

মুক্তির সময়সীমা কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না বলে নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে। এটাও বলা আছে যে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করবেন।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার মুক্তির সময়সীমা কমানো বা বাড়ানোর ক্ষমতা রাখে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মিটফোর্ডে পাথরের আঘাতে সোহাগ হত্যা, প্রধান আসামির জামিন
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ (৩৯) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহমুদ হাসান মাহিনকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি সৈয়দ হাসান জুবায়েরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সাথে মাহিনকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় জানিয়েছে, মাহিনের জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করা হবে। এদিকে মামলাটি বর্তমানে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আলমগীর হোসেনের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর গেটের কাছের রজনী ঘোষ লেনে সোহাগকে ঘিরে হামলা চালায় একদল লোক। পাকা রাস্তার ওপর তাকে পাথর দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ১০ জুলাই নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর ২১ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান। একইসাথে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। তবে তদন্তে ত্রুটি থাকার কথা উল্লেখ করে আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে চলতি বছরের ১০ মে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে আগের মতোই ২১ জনকে আসামি করা হয়। এর আগে গত ১২ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার প্রধান আসামি মাহমুদ হাসান মাহিন ছাড়াও আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির এবং অপু দাস।  তাদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে, আটজন পলাতক এবং তিনজন জামিনে রয়েছেন। গত ৩ আগস্ট আদালতে জবানবন্দি দেন নিহত সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম। সেখানে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাহিন, টিটু, লম্বা মনির, ছোট মনির, সজিব, রাজিব, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, আলমগীর, অপু দাস, অভি, টিটন গাজী ও রবিনসহ কয়েকজন সোহাগের ওপর হামলা চালান। জবানবন্দিতে তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা সোহাগকে মারধরের পাশাপাশি ইট-পাথরের খণ্ড দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে গেলে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে সোহাগ মারা গেছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তার লাশের ওপর উঠে হামলাকারীরা উল্লাস করেন বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়। নিহত সোহাগ কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পূর্ব নামাবাড়ি গ্রামের ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মিটফোর্ড এলাকার রজনী ঘোষ লেনে ভাঙারি ব্যবসা করতেন। আরটিভি/এসআর
মিটফোর্ডে পাথরের আঘাতে সোহাগ হত্যা, প্রধান আসামির জামিন
বাংলাদেশের তথ্য পাচার করে ধরা ভারতীয় গুপ্তচর ৭ দিনের রিমান্ডে
বাংলাদেশে বসে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে ধরা পড়া ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।  বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ রিমান্ড আদেশ দেন। এদিন ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সরকারি গোপন আইনে মামলা হয়। পুলিশের গোয়েন্দা রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।  মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর আলম। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার বিবরণে বলা হয়, রবিউল ইসলামের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টের জন্ম তারিখে গড়মিল আছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ আছে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রবিউল স্বীকার করেন, প্রায় ১০-১২ বছর ধরে বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন তিনি। যাতায়াতের সময় কখনো ট্যুরিস্ট ভিসা, কখনো বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। বেশিরভাগ সময় ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে আসছেন রবিউল ইসলাম। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কাজে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। আসামি রবিউল ইসলাম রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কাজে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো, পাঠানোর চেষ্টা ও বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহায়তা করায় তার বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩, ৩এ, ৪, ৫ এবং ৯ ধারার অপরাধ পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলায়। এর আগে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের এসআই বিনয় কুমার রায় তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। আরটিভি/এসএইচএম
বাংলাদেশের তথ্য পাচার করে ধরা ভারতীয় গুপ্তচর ৭ দিনের রিমান্ডে
এমপি নজরুলের দায়মুক্তিসহ যা আছে মরিয়মের বাবার আপসনামায়
আপসনামার নথি থেকে জানা যায়, প্রথম পক্ষ এস এম মাসুম বিল্লাহ (নিহত মরিয়মের বাবা) এবং দ্বিতীয় পক্ষ আব্দুল হামিদ মোড়ল (আসামির স্বজন)। এদের মধ্যে এই সমঝোতা দলিলটি স্বাক্ষরিত হয়।  
এমপি নজরুলের দায়মুক্তিসহ যা আছে মরিয়মের বাবার আপসনামায়
মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস হয়ে গেল এমপি গাজী নজরুলের!
‘আত্মহত্যায় প্ররোচনার’ মামলায় দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের আপস রফা হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান।
মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস হয়ে গেল এমপি গাজী নজরুলের!
ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে ‘খারাপ ব্যবহারের’ শাস্তি পেলেন দুইজন
রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে (পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে) উল্টো পথে আসা মোটরসাইকেল থামাতে গিয়ে দুই আরোহীর অসদাচরণের শিকার হন কর্তব্যরত এক ট্রাফিক সার্জেন্ট। এ ঘটনায় বিজ্ঞ আদালত তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। 
ট্রাফিক সার্জেন্টের সঙ্গে ‘খারাপ ব্যবহারের’ শাস্তি পেলেন দুইজন
আরও পড়ুন
চিন্ময় দাসকে ৫ ঘণ্টার জন্য মুক্তির আদেশ
প্যারোলের প্রশ্নে আইনের সমতা কোথায়?
বাবার জানাজায় অংশ নিতে ঈদের দিন প্যারোলে মুক্তি পেলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
মায়ের মৃত্যুর ২ দিন পর বাবারও মৃত্যু, আবারও প্যারোলে মুক্তি নিয়ে জানাজায় দুই ভাই