ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

হয়রানিমূলক ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
মির্জা আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত

বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি সংক্রান্ত ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৭ সালে দায়ের করা হয়রানিমূলক ১৫ মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মির্জা আব্বাসকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মুহাম্মদ কামরুল হাসান খান এ রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিনা দরপত্রে ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রি সংক্রান্ত ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে মির্জা আব্বাসসহ ২১ জনকে আসামি করে পৃথক ১৫টি মামলা করে দুদক। এর মধ্যে মির্জা আব্বাসসহ ১২ জনকে প্রত্যেক মামলায় আসামি করা হয়।

অপর আসামিরা হলেন— এস এম জাফর উল্লাহ, মো. এমদাদুল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, গোলাম নবী, কাজী রিয়াজুল মনির, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সাদেক, হুমায়ন খান, মীর মোশাররফ হোসেন, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, মো. শহীদ আলম।

আরও পড়ুন

এর বাইরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দুই মামলায়, আহমেদ আকবর সোবহানকে দুই মামলায়, মেহেদী হাসান, শফিকুর রহমান কিরন, নুরুচ্ছাফা, মো. শুকুর মিয়া, হাসনা আহমেদ, আলী হায়দার চৌধুরীকে পৃথক মামলায় আসামি করা হয়। তারা প্রত্যেকেই এসব মামলায় খালাস পেয়েছেন।

২০০৭ সালের ২৯ মার্চ এসব মামলা দায়ের করে সংস্থাটি। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হলে ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন বিচারক শাহেদ নূরউদ্দিন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

মামলাগুলোর অভিযোগে বলা হয়, পরিত্যক্ত বাড়ি নম্বর এনডব্লিউ (আই)-৬, রোড নম্বর-৫৩, গুলশান, ঢাকার নিলাম দরপত্র আহ্বান করা হয়। বাড়ি নম্বর কে-৬, সড়ক নম্বর-৮৯, গুলশান, বাড়ি নম্বর সিএনজি-১৬,সড়ক-১১৩, গুলশান, বাড়ি নম্বর বি-৫, সড়ক নম্বর-১১৩, গুলশান, বাড়ি নম্বর-১২০, সড়ক-২, পুরাতন ধানমন্ডি, বাড়ি নম্বর-১৩৯, সড়ক নম্বর-২, ধানমন্ডি, বাড়ি নম্বর-৫৪০/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২, ধানমন্ডি, বাড়ি নম্বর-৫৪০/বি (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১২ (পুরাতন), বাড়ি নম্বর-৭২৩/এ (পুরাতন), সড়ক নম্বর-১৪ (পুরাতন), বাড়ি নম্বর-৭২৩/বি, সড়ক নম্বর-১৪ ধানমন্ডি, ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ১৭ নম্বর ও ১৮ নম্বর কলেজ স্ট্রিট, বাড়ি নম্বর-৭/১, নওরতন কলোনি, শান্তিনগরসহ সর্বমোট ১৮টি পরিত্যক্ত বাড়ি রাজউক কর্তৃক সাজানো দরপত্রে কারচুপি ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের বাড়িগুলো পাইয়ে দিয়ে প্রকারান্তরে নিজে লাভবান হয়ে সরকারের ১২৭ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯ টাকার অর্থের ক্ষতি সাধন করেন।

সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে দ্য বাংলাদেশ অ্যাবানডন্ড প্রপার্টি (কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট ও ডিসপোজাল) অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী উল্লিখিত ১৮টি সরকারি বাড়ি বিক্রির ব্যবস্থা না করে লাভবান ও অন্যান্য প্রভাবশালীদের লাভবান করার জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীদের দর বেশি হওয়া সত্ত্বেও তা আমলে না নিয়ে রাজউক কর্তৃক সাজানো কম মূল্যের দরপত্রের মাধমে মূল্যায়ন না করে বিক্রির অনুমোদন করেন। আসামি মির্জা আব্বাসসহ অপর আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৪ সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একজন আটক
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের নিখোঁজ ছেলে অপ্রতীমের (১৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সন্দেহজনকভাবে তুহিন নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে একজন আটক
একযোগে ৯৯ বিচারককে বদলি
দেশের অধস্তন আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের ৯৯ জন বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়েছে। বদলিকৃত বিচারকদের মধ্যে জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৪৪ জন জেলা জজ, ২৬ জন অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৫ জন যুগ্ম জেলা জজ, দুজন সিনিয়র সিভিল জজ এবং দুজন সিভিল জজ রয়েছেন।
একযোগে ৯৯ বিচারককে বদলি
ব্যক্তি নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারই আমাদের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি সরকারের লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য হলো সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।  অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালামসহ সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আইনমন্ত্রী বলেন, সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণগুলো এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালকে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ গিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে। ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হিসেবে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও সেই নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু আইনজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী, প্রয়োগযোগ্যতা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানও একটি ক্লাসিক বিতর্কের বিষয়- শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের চায়ের দোকানেও। গ্রামের চায়ের দোকানে মানুষ সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, সাংবিধানিক সংশোধনী, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ ধরনের আলোচনা মানুষের সাংবিধানিক সচেতনতা বাড়ায়। এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে মানুষ তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। এ কারণেই আমরা গর্বিত। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু সাদৃশ্য তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্ট যে এখতিয়ার প্রয়োগ করে, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর মিল রয়েছে। তিনি বলেন, আর্টিকেল ১০২-এর অধীনে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনও কখনও এই এখতিয়ার অপব্যবহার ও ভুলভাবেও ব্যবহার করা হয়। সংবিধান প্রণয়নে দার্শনিকদের চিন্তার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা জন লক, থমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এসব রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব রয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা ১৭৮৭ সালে যে ভিত্তিগত কাজগুলো করেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় আমাদেরও সেই তাত্ত্বিক ভিত্তির অনেকটাই অনুসরণ করতে হয়েছে। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারের কিছু নীতিগত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও কিছু মৌলিক মূল্যবোধ ও নীতির ধারাবাহিকতা দেখা যায়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াইকে উৎসাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মানুষ স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত হয়েছে। দেশের বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং এসব মানুষের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলে জানান আইনমন্ত্রী।  বর্তমান সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে- এমন কোনো অভিযোগ বর্তমান সময়ে পাওয়া যায়নি। মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘের ঐচ্ছিক প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক দেশ এ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও বাংলাদেশ তা করেছে। মানবাধিকার কমিশনের নির্বাচন কমিটির কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রেসক্লাব এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী কিছু দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উচ্চমানের স্বীকৃতি থাকলেও তাদের নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব স্পিকারের হাতে রাখা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবিধানিক শাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই পরিস্থিতিতে সুশাসন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন তিনি।  মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সরকার এমন একটি সময় পার করছে, যখন অর্থনীতি ও আইনের শাসন উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একইসঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো নিষ্পত্তির কাজও চলছে। সূত্র: বাসস আরটিভি/আইএম
ব্যক্তি নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারই আমাদের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী
সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোই কাল হয় তানিমের
ঢাকার আরমানিটোলার আহমেদ বাওয়ানী অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থী মোরশেদ আলম তানিম হত্যা মামলার তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গত বছর মোবাইল ছিনতাইয়ের দাবি করা হলেও, এক বছর পর পুলিশি তদন্তে জানা গেছে— মূলত জুনিয়রের সামনে সিনিয়রের সিগারেট জ্বালানোর মতো তুচ্ছ বিষয় এবং পূর্ব শত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল। মামলাটির তদন্ত শেষে চকবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। মামলার অভিযোগ প্রমাণে ১৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে, যারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করবেন।  তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মৃত্যুর আগে তানিম তার মাকে হামলাকারীদের নাম বললেও ভয়ে পরিবার সবকিছু লুকিয়ে যায় এবং মামলা করতে রাজি হয়নি। পরবর্তীতে কারা তাকে প্রথমে হাসপাতালে নিয়েছিল, সেই সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।  এরপর তাদের জবানবন্দি ও সামগ্রিক তদন্তে সিগারেট জ্বালানোর বিষয়টি সামনে আসে। এ বিষয়ে কথা বলতে নিহতের বাবা ফিরোজ আলম আবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে নিহত তানিমের দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হলেও পরে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। পরবর্তীতে চকবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মানিক উদ্দিন বাদী হয়ে গত বছরের ২৫ জুলাই একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৮ আগস্ট মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকবাজার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজু আহমেদ মূল অভিযুক্ত মো. সিফাত ওরফে রিগ্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।  একই সঙ্গে অপরাধে জড়িত চার শিশুকে অভিযুক্ত করে আদালতে দোষীপত্র জমা দেওয়া হয়। এই চার শিশু হলো— মো. সায়েম হোসেন, মো. জাহিদ ইসলাম, মোস্তাকিম আহম্মেদ সাফিন ও মো. অনিক। এদের মধ্যে সায়েম, জাহিদ ও অনিক আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যার পরিকল্পনা ও পেছনের গল্প আসামি সিফাত এবং অভিযুক্ত চার শিশু তানিমের পূর্বপরিচিত ছিল। এর আগে তানিমের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত বছরের ৩০ জুন রাত ১২টার দিকে তানিম হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে মাতম শেষ করে আসিফুর রহমান দাউদ, আরাফাত হোসেন রাফি ও ধলুদের সঙ্গে বাসায় ফেরার জন্য বের হয়। এ সময় তার পেছনে পেছনে সিফাত ও তার সহযোগীরাও গেট দিয়ে বের হয়। হোসেনি দালান থেকে বের হয়ে কাবিন নামক কাবাবের দোকানের সামনে গিয়ে তানিম সিগারেট জ্বালায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সায়েম তা সিফাতসহ অন্যদের জানায়। তখন সিফাত ক্ষিপ্ত হয়ে সহযোগীদের বলে, জুনিয়র হয়ে সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোর এত বড় সাহস তানিমের! সে একটা বেয়াদব, তাকে আজ শিক্ষা দিতে হবে। এরপরই সিফাত ও তার সহযোগীরা তানিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। যেভাবে ঘটেছিল হামলা সিগারেট জ্বালাতে গিয়ে তানিম তার বন্ধুদের থেকে কিছুটা পেছনে পড়ে যান। তিনি চকবাজার থানার নাজিম উদ্দিন রোডের মক্কু শাহ মাজারের কাছে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে সিফাত ও তার সহযোগীরা তাকে ঘিরে ধরে। এ সময় সিফাত হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো চাকু দিয়ে তানিমকে আঘাত করে পালিয়ে যান। তানিমের চিৎকারে তার বন্ধুরা এগিয়ে যায় এবং তাকে দ্রুত উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডে যাতে কেউ সন্দেহ না করে, সেজন্য অভিযুক্ত শিশু সায়েম, জাহিদ, সাফিন ও অনিকও তানিমকে দেখতে মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরদিন ১ জুলাই বাসায় নেওয়ার পর বিকালে তানিম অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে পুনরায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার খাদ্যনালী কেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ওই দিন রাত ১১টায় অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার পর গত বছরের ২ জুলাই ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানিম মারা যায়। আরটিভি/এসএস
সিনিয়রের সামনে সিগারেট জ্বালানোই কাল হয় তানিমের
মানবতাবিরোধী অপরাধ / জাফর ইকবাল, মাকসুদ কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে তুলে ধরে ওই সময়ের উপাচার্য এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।
জাফর ইকবাল, মাকসুদ কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
আরও পড়ুন
জামিন নিতে গিয়ে ধরা হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি
সাতকানিয়ায় পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলায় ১২ আসামি গ্রেপ্তার
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা মামদানির
‘বিশেষ মুহুর্তের ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ’, এনসিপি নেতাকে খুঁজছে পুলিশ