ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শিশু আছিয়া ধর্ষণ: ঘটনার সময় লুঙ্গিতে বীর্যপাত করেন হিটু শেখ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত যে বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন তা হলো, ঘটনার সময় আসামি তার পরনে থাকা লুঙ্গিতে বীর্যপাত ঘটিয়েছেন। সেটি ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে গত ২৫ আগস্ট এ মামলায় হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর রায়ের দিন পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। গত ২৪ আগস্ট মামলাটিতে হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।

সোমবার হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণার পর নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে রায়ের এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

তিনি জানান, মাগুরার শিশু হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় আসামি হিটু শেখের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটি তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বোনের শ্বশুর কর্তৃক ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার শিকার হন। পরবর্তীতে সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে সে।

অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে শুনতে গঠিত বেঞ্চে মাগুরার আলোচিত শিশুধর্ষণ ও হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ১১ আগস্ট। রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) থেকে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে ১১ আগস্ট এ মামলার শুনানি শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ২৩ ও ২৪ আগস্ট শুনানি হয়। তিন দিন শুনানির পর গত ২৫ আগস্ট আদালত রায়ের জন্য আজ ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

উচ্চ আদালত আজ রায়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। আদালত উল্লেখ করেছেন যে, নিম্ন আদালতে আসামিপক্ষে যিনি আইনজীবী ছিলেন, তিনি তার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারেননি।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আদালত মন্তব্য করেন, সাক্ষীদের জেরা করার ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভালো আইনজীবী হলে হয়তো সাক্ষীদের সঠিকভাবে জেরা করে আসামিপক্ষ কিছু বেনিফিট পেতে পারতো। তবে সে কারণে এ মামলার বিচার এবং বিচারিক আদালত যে কারণ উল্লেখ করেছেন, তার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটা আদালতের একটি পার্শ্ব মন্তব্য। আদালত মামলার রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে হিটু শেখের জবানবন্দি এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়েছেন।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, আদালত যেটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন তা হলো, ঘটনার সময় আসামি হিটু শেখ তার পরনে থাকা লুঙ্গিতে বীর্যপাত ঘটিয়েছে। সেটি যে তারই বীর্যপাত ডিএনএ পরীক্ষায় তা প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমরা ন্যায়বিচার চেয়েছি। এখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। যে কারণে হিটু শেখের কোনো অনুকম্পা পাওয়ার সুযোগ নেই।

২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল আলোচিত এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৭ এপ্রিল। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জন সাক্ষ্য দেন।

গত বছরের ৭ মে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে শেষ হয় আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম। এক বছর আগে, ১৩ মে, মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসানের আদালতে মামলার শেষ দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে একই বছরের ১৭ মে রায় ঘোষণা করা হয়।

শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ (১৯), সজীব শেখের ছোট ভাই (১৭) এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম (৪০)।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
ঢাকার পল্লবী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ বড়ুয়া ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
জুলাই যোদ্ধা মোহাম্মদ ইসমাইল। তুমুল আন্দোলনের সময় ছেলে নিখোঁজ হওয়ায় দিশেহারা ছিলেন মা। হঠাৎ ফোনে খবর এলো, গুলি লেগেছে তার ছেলের।
শতশত মরদেহের ভেতর থেকে পোশাক দেখেই ছেলেকে চিনেছিলেন মা
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে।
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় মো. নুরনবী নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় অপর দুই আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন লালমনিরহাট শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার।  আদালতের রায়ের নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আসামি মো. নুর নবীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ধারায় তাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই আইনের ৮(৩) ধারায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড- অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এসব সাজা একইসঙ্গে চলবে। অন্যদিকে একই মামলার অপর দুই আসামি মো. মোবারক আলী ও মো. বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ভুক্তভোগীর বাবা লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা থানায় মামলা করেন। মামলার বাদী উল্লেখ করেন, আসামি নুরনবী ও রাকিবুল ইসলাম আমার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন কু-প্রস্তাব দেয়। পরে বিষয়টি জানতে পেরে হাতিবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ করি। এ বিষয়ে রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচার দিয়েছেন। এ ন্যক্কারজনক ঘটনায় ভিক্টিমকে তার বাবা শাকক্ষেত দেখতে পাঠিয়েছিল, সেখান থেকে ভিক্টিমকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায় আসামি নুরনবী। পরে পাসুন (জমিতে ছোটখাটো চাষ দিতে এবং ফসল বা বাগানের আগাছা পরিষ্কার বা নিড়ানি দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়) নামক অস্ত্র দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে এ মামলার রায় দিয়েছে আদালত। এ রায়ে সমাজের অপরাধপ্রবণতা কমে যাবে। এ ঘটনায় বাদীপক্ষ নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো মতামত পাওয়া যায়নি। আরটিভি/এমএইচজে
শাকক্ষেত দেখতে যাওয়া স্কুলছাত্রীকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে পাসুন দেখান নুরনবী, অতঃপর... 
সরকারবিরোধী চক্রান্তে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার ৭ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি
দেশে সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংসতার উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে পল্লবী থানার মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
সরকারবিরোধী চক্রান্তে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তার ৭ দিনের রিমান্ড চায় ডিবি
আরও পড়ুন
মেয়েকে দেখার ছলে প্রায়ই সাবেক স্ত্রীর বাসায় যেতেন পলাশ, অতঃপর...
অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের মাদরাসাছাত্রী, পালালেন শিক্ষকসহ ৩ জন
দেখা করার কথা বলে সাবেক স্ত্রীকে ডেকে নেন আনারুল, ওঁত পেতে ছিলেন আরও কয়েকজন
‘বিয়ের কথা বলে’ কিশোরীকে নিয়ে হোটেলে, এরপর থেকেই আত্মগোপনে লোকমান