ঢাকা সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৫ কার্তিক ১৪৩৩

ভাবীকে হত্যার দায়ে দেবরের যাবজ্জীবন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
ছবি: আরটিভি

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির বিরোধের জেরে ভাবী হামিদা খানমকে (৬০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা ও নাতনী রুমা আক্তার সীমাকে (৪) হত্যাচেষ্টার দায়ে মো. আজলু মিয়া (৪০) নামে আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা- অনাদায়ে আরও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের ১ম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এ রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. শেরেনুর আলী।

মামলা ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর দিরাই পৌরসভার নতুন বাগবাড়ী এলাকায় হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহত হামিদা খানমের মেয়ের স্বামী মো. মফশ্বির আলী জানান, পৈতৃক সম্পত্তি কম দামে বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে আসামি আজলু মিয়ার সঙ্গে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী হামিদা খানমের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আজলু মিয়া বসতঘরে ঢুকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে হামিদা এবং তার মেয়ে রুমা আক্তার সীমার ওপর হামলা চালান। এসময় হাতুড়ির উপর্যুপরি আঘাতে ঘটনাস্থলেই হামিদার মৃত্যু হয় এবং শিশু সীমা গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা আজলু মিয়াকে হাতুড়িসহ ঘটনাস্থল থেকে আটক করে এবং আহতদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে শিশু রুমা আক্তার সীমাকে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরদিন ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর আটক আজলু মিয়ার বিরুদ্ধে দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে আদালত আসামি আজলু মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে আজ এ রায় দেন।

আরটিভি/ইমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। অভিযোগ গঠন হওয়া তিন আসামি হলেন বার্জিস শাবনাম বর্ষা, মো. মাহির রহমান ও ফারদীন আহম্মেদ আয়লান। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আদালতে শুনানিকালে আসামি বর্ষার আইনজীবী এ আল মামুন রাসেল বলেন, মামলার ৪৪ জন সাক্ষীর কেউই তার মক্কেলের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য দেননি। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি কেনার টাকা দেওয়া কিংবা ঘটনাস্থলের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষেও তদন্ত সংস্থা যথাযথ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। আইনজীবী আরও বলেন, বন্ধু মাহিরের ডাকে বর্ষা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাকে বলা হয়েছিল, জোবায়েদকে শুধু ভয় দেখানো হবে; হত্যার কোনো পরিকল্পনার কথা তাকে জানানো হয়নি। তাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার মক্কেলের সম্পৃক্ততা নেই। এ যুক্তিতে বর্ষাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির হোসেন খান বলেন, জোবায়েদকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিন আসামি পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে কাজ করেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইশতিয়াক হোসাইন জিপু বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস আগে থেকেই তিন আসামি পারস্পরিক যোগসাজশে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তদন্তেও তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ কারণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান তিনি। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় মাহির ও আয়লানের পক্ষে করা সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। আগামী ৯ ডিসেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নুর বক্স লেনের ১৫ নম্বর হোল্ডিংয়ের রৌশান ভিলায় এক ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে হত্যার শিকার হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন। ওই দিন সন্ধ্যায় তার হত্যার খবর জানানো হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। আরটিভি/টিআর
ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন
ভুল পরিচয়ে গ্রেপ্তার হয়ে দশ মাস কারাগারে থাকা সেই আলমাসের মুক্তি
অস্ত্র আইনের মামলায় প্রকৃত সাজাপ্রাপ্ত আসামির সঙ্গে নামের মিল থাকায় ভুল করে গ্রেপ্তার হয়ে টানা ১০ মাস কারাভোগ করা নিরপরাধ মো. আলমাসকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।  আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ। মামলার নথিপত্র ও বিচারিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর থানার একটি অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত মূল আসামি হলেন ঢাকার দোহারের নয়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধোয়াইর গ্রামের মো. খলিলুর রহমানের ছেলে মো. আলমাছ। তিনি মামলার শুরু থেকেই পলাতক এবং বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে ভুলবশত গ্রেপ্তার হওয়া মো. আলমাস দোহারের কুসুমহাটি এলাকার বাসিন্দা শেখ খলিলের ছেলে। কোনো অপরাধে জড়িত না থাকা সত্ত্বেও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছিল পুলিশ।  পরবর্তী সময়ে নিজের মুক্তির আকুতি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন কারাবন্দী আলমাস। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত পুরো ঘটনাটির বিচারিক অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন এবং সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান অনুসন্ধান শেষে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেন। বিচারিক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আলমাসকে ভুল ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করার পেছনে পুলিশি তদন্তের মারাত্মক ত্রুটি ও গাফিলতি তুলে ধরা হয়।  প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল মামলার ফরোয়ার্ডিং, পুলিশ প্রতিবেদন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির ঠিকানায় ভুল ছিল। ২০০৭ সালের আগে গ্রেপ্তার আলমাস দক্ষিণ বাহ্রা ডাকঘরের অধীন বাহ্রা গ্রামে বসবাস করতেন এবং মূল আসামির গ্রাম পূর্ব ধোয়াইরও একই ডাকঘরের অধীনে হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ঠিকানার বড় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এছাড়া দুজনের বাবার নামে কিছুটা সাদৃশ্য থাকলেও নথিপত্রে স্পষ্ট অমিল পাওয়া যায়। গ্রেপ্তার আলমাসের বাবা শেখ খলিল ও দাদা শেখ নওয়াব আলী; অন্যদিকে এজাহার অনুযায়ী দণ্ডিত আলমাছের বাবার নাম খলিল আহম্মেদ ও দাদা শেখ শহর আলী। এমনকি পারিবারিক কাঠামোতেও বড় অমিল দেখা গেছে; যেখানে প্রকৃত আসামি আলমাছ তিন বোনের একমাত্র ভাই, সেখানে গ্রেপ্তার আলমাসের পরিবারে রয়েছে দুই ভাই ও দুই বোন। প্রতিবেদনে দুজনের বয়স ও জীবনযাপনের বড় পার্থক্যের কথাও উল্লেখ করা হয়। ২০০২ সালে মূল মামলার সময় প্রকৃত আসামি আলমাছের বয়স ছিল ২৪ বছর, যা ২০২৬ সালে এসে প্রায় ৪৮ বছরে দাঁড়ায়। অন্যদিকে গ্রেপ্তার আলমাসের জন্ম ১৯৮৫ সালের ১০ ডিসেম্বর হওয়ায় ২০০২ সালে তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর এবং বর্তমান বয়স ৪১ বছর।  এই সাত বছরের বয়সের ব্যবধান এবং পেশাগত অমিল তদন্তে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছিল। এজাহার অনুযায়ী মূল আসামি ঢাকার মিরপুরের পাইকপাড়ায় থাকতেন এবং সেখানে তাঁর কোনো সুনির্দিষ্ট পেশার উল্লেখ ছিল না, অথচ গ্রেপ্তার আলমাস গ্রামে কৃষিকাজ ও ইলেকট্রিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব অকাট্য তথ্য-প্রমাণ ও বয়স-পেশার নথিপত্র পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট নিশ্চিত হন যে, বিদেশে পলাতক দণ্ডিত ব্যক্তি এবং কারাগারে থাকা আলমাস সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তি। চরম এই ভুল শনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত নিরীহ মো. আলমাসকে আর এক মুহূর্তও আটকে না রেখে অবিলম্বে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। আরটিভি/এসআর
ভুল পরিচয়ে গ্রেপ্তার হয়ে দশ মাস কারাগারে থাকা সেই আলমাসের মুক্তি
নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমণিকে নোটিশ
সাংবাদিককে হয়রানি এবং জাতীয় সংগীত অবমাননার জন্য ক্ষমা চাইতে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার। রোববার (৮ নভেম্বর) শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের ঠিকানায় এই নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত ঘটনার জন্য লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সব প্রকার অশ্লীল কথা বা সংলাপ, হুমকি দেওয়া, অশ্লীল অভিনয়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, অশ্লীল নগ্ন বা অর্ধনগ্ন নৃত্য যাহা চলচ্চিত্র, ভিডিও চিত্র, অডিও ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র, গ্রাফিকস বা অন্য কোনো উপায়ে ধারণকৃত ও প্রদর্শনযোগ্য এবং যাহার কোনো শৈল্পিক বা শিক্ষাগত মূল্য নেই তা করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে শোকজ নোটিশ দিয়ে চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি বিগত ৫ নভেম্বর ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা একটি মামলায় আত্নসমর্পণ করে আদালত থেকে জামিন পান। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে গাড়ি থেকে নেমে এজলাসের দিকে যাওয়ার সময় পরীমণির সঙ্গে সাংবাদিকরা ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চাইলে তার নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের ধাক্কাধাক্কি হয়। সেই সময় শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইনের মোবাইলফোন কেড়ে নেন। এমনকি তার ভিডিও ধারণের কাজে ব্যবহৃত ট্রাইপডটি পরীমণির সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা ভেঙে ফেলেন। আদালত প্রাঙ্গণে ওই দিনের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় জাগো নিউজের প্রতিবেদক আশিকুজ্জামান ও মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল কাউছার এবং আগামীর সময়ের প্রতিবেদক সিয়াম হোসেন, টাইমস টুডের শাহ রিয়াজ আহত হয়েছেন। সেদিন সুজন চন্দ্র মণি দাস নামে একজন বিচারপ্রার্থীও আহত হয়েছেন।  ওই ব্যক্তির মাথা ফেটে রক্ত বের হয়েছে বলেও মিডিয়াতে সংবাদ প্রচারিত হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে প্রত্যেকের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কাজ। তাই ব্যক্তিগত একাধিক নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে আদালতের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বা পেশিশক্তি প্রদর্শনের কোনো সুযোগ আইনে কারো নেই। লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, পরে পরীমণি আদালত থেকে বের হয়ে আদালত প্রাঙ্গণে সমকালের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার রবিউল হোসাইন যার ডান হাত পুরোপুরি রিজার্ভ (ডান হাত জন্মগতভাবে বাঁ হাতের তুলনায় ছোট, হাতের তিনটি আঙুল নেই, এই হাত দিয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম তিনি করতে পারেন না) দিকে তেড়ে গিয়ে বলেন এদিকে আয়। আমার হাত এভাবে ধরলি কেন? ... উচ্চারণে অনপোযোগী অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করার পাশাপাশি তোকে পাড়িয়ে মেরে ফেলবো বলে হত্যার হুমকি প্রকাশ্যে দিয়েছেন, যার ভিডিওচিত্র মিডিয়াতে প্রচারিত হয়েছে। একজন পেশাগত সাংবাদিকের সঙ্গে পরীমণির এমন আচরণ শুধু তার পেশাগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব পালনের পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ। পরীমণির মতো একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রীর কাছ থেকে এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই কাম্য নয়। আইনি নোটিশে আরও বলা হয়েছে, পরীমণি তার নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গত ৬ নভেম্বর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত মিউজিক হিসাবে ব্যবহার করে... পোলাদের ... আমাদের সহিদ ভাই শিখায়ে দিয়ে গেছে তো! তাই না? এই কথা লিখে পোস্ট করেন। এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ইতোমধ্যেই নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম খবর প্রকাশ করেছে এবং সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ারও করা হয়েছে। পোস্ট হওয়া খবরের কমেন্ট বক্স ভরে গেছে নানা রকম নেতিবাচক মন্তব্যে। অ্যাডভোকেট খন্দকার হাসান শাহরিয়ার আইনি নোটিশে বলেন, আপনি শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিধায় অনেকেই আপনার আচার, আচরণ, অঙ্গভঙ্গি, কথাবার্তা, চাল-চলন, নাচ, পোশাক, চলাফেরা অনুকরণ ও অনুসরণ করে থাকে। ফলে আপনার অশ্লীল বাক্য, অঙ্গভঙ্গি, সাংবাদিককে হত্যার হুমকি আদালত প্রাঙ্গণে দেওয়া, জাতীয় সংগীতের সঙ্গে অশ্লীল পোস্ট দেওয়ার মতো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও তরুণরা এই আচরণ দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। টেলিভিশন, কম্পিউটার ও মোবাইলে এসব আলোচিত ঘটনার ছবি বারবার ভেসে উঠছে। সেগুলো তারা দেখছে। এর ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতির তৈরি হচ্ছে। নোটিশে আরও বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে আমার সোনার বাংলা গানের প্রথম ১০ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত। জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীকের বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে ‘দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যান্থেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম অর্ডার ১৯৭২’-এ। এই আদেশের ৪এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আদেশের কোনো বিধান বা এর অধীনে প্রণীত কোনো বিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। ২০১০ সালে এই অর্ডারের সংশোধিত আইনে অপরাধীর শাস্তি আরও দ্বিগুণ করা হয়।  ‘দ্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যান্থেম, ফ্ল্যাগ অ্যান্ড এমব্লেম অর্ডার ১৯৭২’ (সংশোধিত ২০১০ আইন অনুযায়ী) জাতীয় সংগীত, পতাকা বা প্রতীকের কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে বা অবমাননা করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া রুলস এ জাতীয় সংগীত পরিবেশনের নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক পরিস্থিতিতে কীভাবে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে, তা এই বিধিমালায় বলা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রচলিত দণ্ডবিধির ৫০৩ ধারা অনুসারে, কাউকে তার নিজের বা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তির জীবন, শরীর, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আতঙ্কিত করা অথবা কোনো কাজ করতে বাধ্য করা বা আইনগত অধিকার থাকা সত্ত্বেও কোনো কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করলে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন হতে পারে। এক্ষেত্রে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারা মতে, সাধারণ অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের জন্য সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড এবং হত্যার হুমকি বা গুরুতর জখমের হুমকি দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড শাস্তি হতে পারে। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৫০৪ ধারা অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত অপমান, যার ফলে শান্তিভঙ্গ বা অন্য অপরাধ সংঘটনের প্ররোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেক্ষেত্রে ২ বছর কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড এবং দন্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারা অনুসারে মিথ্যা ও সুনামহানিকর অভিযোগ প্রচার করলে শাস্তির বিধান আছে। লিগ্যাল নোটিশে আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার আরও বলেছেন, শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি নিয়মিত বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড করে সামাজিক অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশের সমাজ, সংস্কৃতির সুন্দর ঐতিহ্য নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। যেহেতু পরীমণি বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন চলচ্চিত্র শিল্পী, সেই হিসাবে সংযত ও দায়িত্বশীল আচরণ তার কাছে সবাই প্রত্যাশা করে। শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমণি কর্তৃক আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক হেনস্থা ও হত্যার হুমকি দেওয়া এবং ফেসবুকে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে অশ্লীল বাক্যের পোস্ট দেওয়ার পরেও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক কোনো প্রকার সাংগঠনিক কিংবা আইনগত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এর ফলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ভাবমূর্তি ও সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরটিভি/এসআর
নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমণিকে নোটিশ
তাহসিফ হত্যাকাণ্ড / রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দিশা, পাঠানো হলো কারাগারে
রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরীর (২৭) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি জেরিকা তাসনিম দিশাকে (১৯) দুই দফায় মোট সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) ফিরোজ উদ্দিন এ তথ্য উল্লেখ করেন। আবেদনে বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে দিশা জানিয়েছেন, ঘটনার আগে ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ যান তিনি। এর আগে সন্ধ্যায়ও তারা অনেকক্ষণ একসঙ্গে ঘোরাঘুরি করেন। পরে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে যান। বিভিন্ন জায়গায় তাহসিফের সঙ্গে বাইকে ঘোরাঘুরি করেন তিনি। এ ছাড়া দিশা মামলার ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আরেক সন্দেহভাজন আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এ ছাড়া তাহসিফের মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনায় দিশার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার প্রমাণ পাওয়া গেছে।  প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনার সঙ্গে দিশার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আবেদনে আরও বলা হয়, দিশা জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাতে পারেন। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল রহস্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। এদিন শুনানিতে দিশার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তাই বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে ১ নভেম্বর তার চার দিন এবং ৪ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ মামলায় ৩০ নভেম্বর তাহসিফ সাউরীর বন্ধু শাহরিয়ার রেজা দীপকে (২৩) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিন এবং ৩ নভেম্বর ফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয় আরটিভি/এসআর  
রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন দিশা, পাঠানো হলো কারাগারে
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৯ ডিসেম্বর
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত। এ নিয়ে ১৩১ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় পেলো তদন্ত সংস্থা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম  প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এদিন ধার্য  করেন। শেরেবাংলা নগর থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।  এরপর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। গত ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাব থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্সের মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আরটিভি/এসআর
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৯ ডিসেম্বর
আরও পড়ুন
সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী রাধারমণ উৎসব, ১১ বছর ধরে উপেক্ষিত জগন্নাথপুরের রাধারমণ স্মৃতি কমপ্লেক্স
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
মৃত্যুর গুজবে ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট
সংঘর্ষে একজন নিহত, পুরুষশূন্য ৪০ বাড়িতে ৩ দিন ধরে লুটপাট