
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী। বাকি দুজন তাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। প্রশ্নফাঁস ও নিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে একাধিক চক্র জড়িত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর আর্টিলারি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
তিনি জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার অনুসন্ধানে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততার তথ্য পায় এসআরবি। এর ভিত্তিতে বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৪-১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রশ্নপত্রের সম্ভাব্য উৎস, সরবরাহের ধাপ, বিভিন্ন ব্যক্তির মধ্যে প্রশ্নপত্র বিতরণকারীদের তথ্য উঠে আসে।
তিনি আরও জানান, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় গত বুধবার রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) এবং মো. হাসানুর রহমান সুজন নামে তিনজনকে মতিঝিল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই চক্রের আরও ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসময় প্রশ্নফাঁসে জড়িত এনবিআরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার অপারেটর আসাদুল ইসলামকে রাজধানীর উত্তরখান ও মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ফায়েজুল আরেফীন।
পরবর্তীতে তাদের মোবাইলের চ্যাট হিস্ট্রি পর্যালোচনায় জানা গেছে, প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা এনবিআরের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত নূর মোহাম্মদ। বৃহস্পতিবার এসআরবি-৪ কর্তৃক সাভার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে শুক্রবার এসআরবি-৩ এর একটি আভিযানিক দল মোহাম্মদপুর থেকে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে রুবেল ইসলাম ও মফিজুল ইসলামের মাধ্যমে চক্রটির আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মফিজুল নিজেও চাকরিপ্রত্যাশী। এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, তিনি চক্রের একজনকে ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছিলেন। পরে বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় তিনি চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ভর্তি-বাণিজ্যসংক্রান্ত অর্থ লেনদেনের সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুঠোফোনের কথোপকথন পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সময় ও বিতরণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে এসআরবি।
প্রশ্নফাঁস চক্রে সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা, উদ্ধার ৪৮ পাতার ব্যাংক চেক
এসআরবি-৩-এর অধিনায়কের দাবি, গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটের দিকে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের একটি স্পষ্ট ছবি পাঠান।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, নূর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে প্রশ্ন ও উত্তর বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এ কাজে রুবেল, মফিজুল, সুজন ও আসাদুলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে এসআরবি।
অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, প্রশ্নপত্রের এক সেট, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, ১০টি সার্টিফিকেট, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা, একটি ব্যাংক চেক, বিভিন্ন ক্যাটাগরির আরও ১৫টি সনদপত্র, ছয়টি জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মুঠোফোন এবং চার হাজার টাকা নগদ জব্দ করা হয়েছে।
এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস, চক্রের অন্য সহযোগী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
আরটিভি/টিআর


