
পঞ্চগড়ে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২২) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ হোসাইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদের বাড়ি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রাম এলাকায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দিনাজপুর রেলস্টেশন থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে রওনা হন রিফাত বিন সাজ্জাদ। পথে ঠাকুরগাঁও রোড রেলস্টেশনে এক অজ্ঞাতনামা নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই নারীকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেন রিফাত। পরে ওই নারী তার সঙ্গে পঞ্চগড়ের উদ্দেশে ট্রেনে যাত্রা করেন। রাত ৯টার দিকে ট্রেনটি পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার কিসমত স্টেশনে পৌঁছালে দুজনই নেমে যান। এরপর রিফাত ওই নারীকে নিয়ে কিসমত স্টেশনের পশ্চিম পাশে শাপলা কিন্ডারগার্টেনের দরজাবিহীন একটি কক্ষে নিয়ে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
পরে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে কিসমত রেলস্টেশনের উত্তর-পূর্ব কোণে হবিবর রহমানের চাটাই বেড়ার টিনের ঘরের পেছনে আলমের সুপারি বাগানে নিয়ে ওই নারীকে আবারও একাধিকবার ধর্ষণ করেন রিফাত। এ সময় টাকা লেনদেন নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই নারী রিফাতের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা ও তার হাতে থাকা মোবাইল ফোন দাবি করেন। রিফাত তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই নারী তাকে এবং তার মাকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিফাত ওই নারীর ওড়না দিয়ে তার দুই হাত পেছনে বেঁধে সুপারি গাছের সঙ্গে আটকে রাখেন। পরে পাশ থেকে ইট নিয়ে তার মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই ওই নারীর মৃত্যু হয়। এরপর মরদেহ টেনেহিঁচড়ে রেললাইনে রেখে পালিয়ে যান রিফাত।
পরদিন ১৪ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দিনাজপুর থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে ওই নারীর মরদেহের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায়। সকাল ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আটোয়ারী থানা-পুলিশ মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরে আটোয়ারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরশাদুল বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে একটি ইজিবাইক চুরির ঘটনায় সাজ্জাদ আটক হলে তার মোবাইল ফোনের গ্যালারিতে থাকা ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে ওই নারীকে হত্যার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা উদ্ঘাটন করে পুলিশ।
মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে সোমবার দুপুরে আদালত রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান জানান, আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিফাতের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই আইনজীবী বিচারিক কার্যক্রমে আসামির পক্ষে অংশ নেন। ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত রিফাত বিন সাজ্জাদকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
আরটিভি/এমএইচজে


