ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

স্কুলের তালা ভেঙে ভাড়া করা নারী নিয়ে রাতভর ‘অশ্লীল নৃত্য’, ভিডিও ভাইরাল

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি, আরটিভি

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে কক্ষের তালা ভেঙে রাতভর অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে ফুটবল আয়োজন কমিটির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এলাকজুড়ে সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভেতরে দুজন নারী অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করছেন এবং তাদের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজন পুরুষও অংশ নিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় স্কুলটির পরিবেশ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে খেলা শেষে স্কুলের পাশেই রাতে পিকনিকের আয়োজন করেন ফুটবল আয়োজন কমিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কিন্তু রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে ভেতরে ঢুকে একটি কক্ষের তালা ভেঙে সেখানে পাশ্ববর্তী আমতলী উপজেলা থেকে দুজন নারী ভাড়া করে এনে রাতভর অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করানো হয়। এতে স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন।

ভিডিওতে নাচতে দেখা যাওয়া ফুটবল আয়োজন কমিটির সদস্য মোয়াজ্জেম তালুকদার (আলাল) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ফুটবল খেলা শেষে পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছিল। রাতে বৃষ্টি নামলে আমরা স্কুলের ভেতরে যাই। সেখানে দুই-একটি নাচ হয়েছে এবং পরে আমরা চলে আসি। ভিডিওতে আমাকে দেখা গেলেও স্থানীয় লোকজন আমাকে টেনে তুলেছিল; কে বা কারা ভিডিও করেছে আমি জানি না। এছাড়া নাচতে আসা দুই নারী এই এলাকার নন, তাদের আমতলী থেকে আনা হয়েছিল।

চাউলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনয় কুমার ঢালি বলেন, গত শুক্রবার তারা এ অনুষ্ঠান করেছে, যা আমি পরে জানতে পেরেছি। আমাকে কোনো কিছু না জানিয়ে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে ও কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়েছে। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, বিদ্যালয়ের সীমানা টপকে ভেতরে ঢুকে কক্ষের তালা ভেঙে এ ধরনের আয়োজন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা প্রধান শিক্ষককে তলব করেছি। ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিডিওতে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা স্পষ্ট স্কুলের ভেতরের এবং এমন অসামাজিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণ অন্যায়।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ন্যক্কারজনক আয়োজন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বলে মনে হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। পোশাকশিল্পে অস্থিরতা, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। পোস্টে শফিকুর রহমান বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটছে। কোনো মালিক কিংবা শ্রমিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, কোনো শ্রমিকই এ ধরনের কাজে জড়িত হবেন না। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শীত মৌসুম সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়, তা ধ্বংস করার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এ পরিস্থিতিতে মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আন্তরিক ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। আরটিভি/এমএম
পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে, সরকারকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের
‘ডিসেম্বরকে টার্গেট করে আন্দোলনের অপচেষ্টা, উসকে দিচ্ছে জামায়াত-এনসিপি’
রোববার (১ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।
‘ডিসেম্বরকে টার্গেট করে আন্দোলনের অপচেষ্টা, উসকে দিচ্ছে জামায়াত-এনসিপি’
সংবাদপত্র ছেঁড়ার যে ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খাঁন
‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।  তিনি বলেন, পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান তৈরির অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই তিনি সংবাদপত্র ছিঁড়েছেন। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে তিনি এক হয়েছেন, এমন দাবি অসত্য বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিনগত রাতে নিজের নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন। আরটিভির পাঠকদের সুবিধার জন্য পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো: আমি একটি মিথ্যা ন্যারেটিভকে ছিঁড়েছি। হাসিনাপুত্রের সাথে আমি এক হয়েছি মর্মে আমার দেশ পত্রিকা যে মিথ্যাচার করেছে, আমি সেই অসত্যকে ছিঁড়ে ফেলেছি। আমি শেখ হাসিনাকে কটুক্তির মামলায় জেল খেটেছি। আমার কোন বক্তব্য অপছন্দ হলে, সেটিকে রাজনৈতিক ভাষায় সমালোচনা করতে পারে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। সেই সমালোচনাকে আমি অবশ্যই সাধুবাদ জানাব। কিন্তু আমার দেশ যদি একটি পত্রিকা হয়ে থাকে আমাকে ‘নব্য বিএনপি বলতে পারে না’। এই অধিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নেই। তিনি আমাকে বলতে পারেন না যে, আমি শেখ হাসিনার পুত্রের সাথে এক হয়েছি। অর্থাৎ আমি যেহেতু জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সাথে বৈঠকের তথ্য সামনে এনেছি। সেহেতু পাল্টা ন্যারেটিভ হিসেবে আমার দেশ পত্রিকা সামনে এনেছে, আমি হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে এক হয়েছি! এই অভিযোগ যদি জামায়াত কিংবা জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার করতেন, আমি রাজনৈতিক ভাষায় জবাব দিতাম। যেহেতু জামায়াত আমার দেশ পত্রিকার মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ন্যারেটিভ দাঁড় করাতে অপচেষ্টা করেছে। আমি একজন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হিসেবে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেছি, মিথ্যা ও অপবাদকে ছিঁড়ে ফেলেছি। আমার দেশ কোনো পত্রিকা না, আমি কোনো পত্রিকা ছেঁড়ার মতো ভুল করতে পারি না। এটা জামায়াতের পক্ষে ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর একটি হাতিয়ার। এই হাতিয়ার ব্যবহার করে কারও চরিত্র হনন করার কোনো সুযোগ নেই। পত্রিকা হতে হলে সম্পাদকীয় ও সাংবাদিকতার নীতিমালা মেনে চলা উচিত। আমার দেশ সেটির কোনোকিছু অনুসরণ করে না। আরটিভি/এসআর
সংবাদপত্র ছেঁড়ার যে ব্যাখ্যা দিলেন রাশেদ খাঁন
লিফট ব্যবহারের অনুমতি নেই, মাথায় ব্লক নিয়ে ২১ তলা উঠলেন শ্রমিক
২১ তলা আবাসনে ওঠানামার জন্য রয়েছে চারটি লিফট। অথচ সেগুলোর একটিও ব্যবহারের অনুমতি নেই শ্রমিকদের। ফলে মাথায় প্রায় ২০ কেজি ওজনের কংক্রিটের ব্লক নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ২১ তলায় উঠতে হচ্ছে এক শ্রমিককে। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আবাসন কর্তৃপক্ষের মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
লিফট ব্যবহারের অনুমতি নেই, মাথায় ব্লক নিয়ে ২১ তলা উঠলেন শ্রমিক
জিপিএ-৫ এর বন্যায় শিক্ষার উন্নয়ন দেখানোর দিন আর নেই: সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ
পড়াশোনার মান না বাড়িয়ে শুধু পাসের হার এবং জিপিএ-৫ এর বন্যা দেখিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন দেখানোর দিন আর নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থান) সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি বিগত কয়েক বছরের এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার এবং জিপিএ-ফাইভ প্রাপ্তির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তার উল্লেখ করা তথ্যে দেখা যায়, ২০২১ সালে পাসের হার ৯৫.৫৭, এবং জিপিএ-ফাইভ ১ লাখ ৮৯ হাজার। ২০২২ সালে পাস ৮৪.৩১ শতাংশ ও জিপিএ-ফাইভ ১ লাখ ৭৬ হাজার। ২০২৩ সালে পাসের হার ৭৮.৬৪, আর জিপিএ-ফাইভ ৯২ হাজার। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে পাস ৭৭.৭৮ শতাংশ আর জিপিএ-ফাইভ ১ লাখ ৪৫ হাজার। ২০২৫ সালে পাস ৫৮.৮৩ শতাংশ ও জিপিএ-ফাইভ ৬৯ হাজার এবং ২০২৬ সালে পাস ৫২.১২ শতাংশ ও জিপিএ-ফাইভ ৪০ হাজার। এসব তথ্য উল্লেখ করে তিনি লেখেন, পড়াশোনার মান না বাড়িয়ে শুধু পাসের হার এবং জিপিএ-৫ এর বন্যা দেখিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন দেখানোর দিন আর নেই। পরীক্ষা দিলেই পাস এবং মোটামুটি লিখলেই জিপিএ-ফাইভ, সে ধারণা থেকে বের হয়ে আসা উচিত সবারই। আরটিভি/এসআর
জিপিএ-৫ এর বন্যায় শিক্ষার উন্নয়ন দেখানোর দিন আর নেই: সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহ
আরও পড়ুন
জমি দখল করতে শতাধিক ফল গাছের সর্বনাশ করলেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা
ঋণে জর্জরিত হয়ে ২ মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন মা
বরগুনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে
বরগুনায় জবাই করা চিত্রা হরিণ উদ্ধার