
জুলাই আন্দোলনে হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মোহাম্মদ আমির হোসেন এ আবেদন করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে তাকে সিএমএম হাজতখানা থেকে শুনানির জন্য আদালতে তোলা হয়। পরে বিকেল ৪টা ১ মিনিটে বিচারক এজলাসে উঠেন।
এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী চৌধুরী মো. গালিব রাকিবসহ কয়েকজন বয়স বিবেচনায় কারাগারে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা চেয়ে শুনানি করেন।
অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন চলাকালে গণভবনে তখন শেখ হাসিনার সঙ্গে আন্দোলন দমন করার জন্য মিটিং করেন আজকের আসামি। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। এ জন্য পুরস্কারস্বরূপ তথ্য উপদেষ্টা হন এবং ডিবিসি নিউজের সিইও হন। তখন তিনি এডিবি নামক গ্রুপ খুলে হাসিনাকে সহায়তা করেন। ক্ষমতা অপব্যবহার করে গুলশান বনানীতে অনেক সম্পদ করেছেন।
আসামিপক্ষের জেলে সুচিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, জেল কোড হিসেবে যদি তিনি সেটা পেয়ে থাকেন তাহলে সেটা পেতে পারেন।
পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, তথ্য উপদেষ্টা ছিলেন তিনি, এই হিসেবে তিনি মন্ত্রী পর্যায়ের। এজন্য তিনি জেল কোড হিসাবে সুবিধা পেতে পারেন। জবাবে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, সে এই পদমর্যাদার ছিলেন না, সুতরাং জেলে এসব সুবিধা পাবেন না।
পরবর্তীতে বিচারক বলেন, তিনি সামাজিক পদমর্যাদা হিসেবে যতটুকু মর্যাদা পাওয়ার ততটুকুই পাবেন।
এর আগে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে চ্যানেলটির চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে মাদ্রাসা ছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় চোখে গুলিবিদ্ধ হন লর্ড হার্ডিঞ্জ ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফ। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় আরিফের বাবা ইউসুফ ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন। মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরী ৫৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
আরটিভি/টিআর


