
রাজধানীর ভাষানটেকে কলেজছাত্রী ও তার মাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টা মামলার পুনঃতদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কে। বাদী পক্ষের নারাজি মঞ্জুর করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আজ সোমবার এ আদেশ দেন। এছাড়া মামলার প্রধান আসামি মাওলানা মাশুক রেজার জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত। উচ্চ আদালতের দেয়া জামিনের অপব্যবহার করায় জামিন আবেদন নাকচ করে দেন বিচারক। গত ৩১ অক্টোবর মাটিকার বাসার দরজা ভেঙ্গে মাশুককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান সুজন বলেন, এ মামলাটি অত্যন্ত ষ্পর্শকাতর। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় মামলটি তদন্ত করছিল ডিবি পুলিশ। কিন্ত আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে এ মামলাটি পিবিআইতে নিয়ে যায়। মামলার প্রধান আসামি মাওলানা মাশুক রেজা প্রথমে গ্রেপ্তার এড়াতে হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন। এরপর নিন্ম আদালতে আত্মসর্ম্পন না করে রাজধানীতে গা ঢাকা দেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই তাকে গ্রেপ্তারের কোনও চেষ্টাই করেনি। আসামি মাশুক, সরদার মাহমুদ, ইয়াছীন আলী সিদ্দিক এবং রিফাত চৌধুরী পরষ্পর যোগসাজশে তদন্ত কর্মকর্তাকে দিয়ে একটি মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে নারী ও শিশু নির্যাতনের ধারা গুলো বাদ দেয় হয়। রাখা হয় শুধু পেনাল কোডের ধারা গুলো। মামলার তিন নম্বর আসামি রিফাত চৌধুরীর নেতৃত্বে হামলা হয়েছিল সিটির টিভির ফুটেজে যা ষ্পষ্ট। অথচ এ আসামীকে চার্জশীট থেকে বাদ দেয়া হয়। মামলাটি নতুন করে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আসাসির পক্ষে জামিন আবেদন করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি কাজী নজিবউল্লাহ হিরু এবং বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রচি আদালতকে বলেন, আসামি রিয়েল এষ্টেট ব্যবসার পাশাপাশি হজের ব্যবসা করেন। তিনি ২৬ দিন ধরে জেল খাটছেন। তিনি জামিন পেলে আর পালিয়ে যাবেন না। এ সময় আদালত জানতে চান, এর আগে মাশুক রেজা কেন জামিন নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন? এমন প্রশ্নে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনি আসামির আইনজীবীরা।
এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান জামিনের বিরোধিতা করে আদালতকে বলেন, আসামি মাশুক ভূমি দস্যু। ছলে বলে কৌশলে মানুষের কাছ থেকে ভূমি উন্নয়নের কথা বলে জমি নেয়। পরে মালিক পক্ষকের সাথে প্রতারণা করে। নতুন করে তদন্ত হলে এ আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাবাদের প্রয়োজন হবে। এ কারণে তাকে জামিন দেয়া ঠিক হবে না।
আদালত উভয় পক্ষের শুনানী শেষে আসামি মাশুক রেজার জামিন আবেদন দ্বিতীয় বারের মতো না মঞ্জুর করেন। মামলার নতুন করে তদন্ত করতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কে নির্দেশ দেন।
এমকে




