
জন্মের পর মাতৃদুগ্ধ হতে পারে শিশুর জীবন রক্ষার অন্যতম নিয়ামক। চলমান মহামারিতে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাতৃদুগ্ধ অপরিহার্য বলে মত পুষ্টিবিদদের। শিশুর পুষ্টির সঠিক উৎস, সুস্বাস্থ্য ও সুষম বিকাশে মাতৃদুগ্ধের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। মাতৃদুগ্ধকে নবজাতকের প্রথম টিকা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধক সকল উপাদান পাওয়া যায় মাতৃদুগ্ধে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদ।
বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে নাহিদা আহমেদ বলেন, ‘কোনো শিশুখাদ্য মায়ের দুধের সমকক্ষ হওয়ার বিন্দুমাত্র যোগ্যতা রাখে না। শিশুর জন্মের পর থেকে দুই মাস পর্যন্ত তাকে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর পর, দুই থেকে ছয় মাস পর্যন্ত তিন থেকে চার ঘণ্টা পরপর আর ছয় মাস পরবর্তী সময় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর পর মায়ের বুকের দুধ পান করানো উচিত।’
করোনাকালীন মাতৃদুগ্ধ কিভাবে শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে সেই ব্যাপারে ৭টি স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কথা জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদ।
১. যেসব শিশুরা নিয়ম মেনে অর্থাৎ ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ আর দুই বছর পর্যন্ত বাড়তি খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ পান করে, তাদের মৃত্যুহার যারা বুকের দুধ পান করে না সেই শিশুদের তুলনায় ১৪ গুণ কম।
ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন এর তথ্য মতে, শিশুকে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে যদি বুকের দুধ পান করানো হয় সেক্ষেত্রে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি ৩১ শতাংশ কমে যায়।
২. মায়ের বুকের দুধ বিভিন্ন এন্টিবডিতে ভরা, যা শিশুকে বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে। যেসব শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পান করে না বা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে মায়ের বুকের দুধ পান করে না, তাদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
৩. যেসব শিশুর জন্ম পরবর্তী ছয় মাস এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং (শুধু বুকের দুধ পান করবে এমনকি একফোঁটা পানিও পান করবে না) তাদের বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগ, কণ্ঠনালী ও কানের ইনফেকশনজনিত বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা কমে যায়।
৪. যেসব শিশু বুকের দুধ পান করে তাদের পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত হওয়াসহ, অ্যাজমা, একজিমা ও অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি কম।
৫. যে শিশুরা মায়ের বুকের দুধ দুই বছর পর্যন্ত পান করে এবং এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং করে তাদের বুদ্ধিমত্তা যারা মায়ের দুধ সঠিকভাবে পান করে না তাদের তুলনায় অনেক বেশি এবং তাদের মস্তিষ্কের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে, মায়ের বুকের দুধে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান।
৬. এসকল শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পান করে তাদের সাথে মায়ের আত্মিক বন্ধন তৈরি করতে সাহায্য করে ফলে সম্পর্কের দৃঢ়তা বাড়ে ও আস্থা তৈরি হয়।
৭. মায়ের দুধে যে উপাদান রয়েছে তাতে শিশুর ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়া জীবনের পরবর্তী পর্যায়গুলোতে ডায়াবেটিস, ওজনাধিক্য ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমে এবং হাড় ও অস্থির গঠন মজবুত থাকে।
এমএইচ/পি




