অসহ্য গরমে ঘাম, তৃষ্ণা আর ক্লান্তি এখন নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তায় বের হলেই শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যাচ্ছে, গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, আর ক্লান্তি যেন চেপে ধরছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই শরীরকে সতেজ রাখতে ভরসা রাখছেন ডাবের পানি আর মাঠার ওপর। কিন্তু এই দুই জনপ্রিয় পানীয়ের মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী, তা নিয়েই রয়েছে অনেকের কৌতূহল।
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, গরমে শরীর ঠান্ডা ও হাইড্রেটেড রাখতে দুটিই ভালো, তবে কাজের ধরন ভিন্ন।
ডাবের পানি কতটা উপকারী
ডাবের পানি হলো প্রাকৃতিক এক ধরনের এনার্জি ড্রিংক। এতে ক্যালোরি কম থাকে এবং প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা শরীরের পানিশূন্যতা দ্রুত পূরণ করতে সাহায্য করে। গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে যে লবণ ও খনিজ বের হয়ে যায়, তা ফিরিয়ে আনতে ডাবের পানি খুব কার্যকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খালি পেটে ডাবের পানি খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। রাস্তায় বের হলে বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে এটি শরীরকে দ্রুত সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখে।
মাঠা কতটা উপকারী
বাংলাদেশে দই দিয়ে তৈরি ঠান্ডা পানীয়কে সাধারণভাবে মাঠা বা ঘোল বলা হয়। গরমে এটি শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে এবং হজম শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং পেটের সমস্যা কমায়।
এছাড়া এতে ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও অল্প পরিমাণ ফ্যাট থাকে, যা শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। খাবারের পর মাঠা খাওয়া শরীরের জন্য বেশি উপকারী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
পুষ্টিগুণে পার্থক্য
ডাবের পানিতে থাকে প্রাকৃতিক শর্করা, পটাশিয়াম ও সোডিয়াম, যা দ্রুত শরীরকে হাইড্রেট করে। অন্যদিকে মাঠাতে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও প্রোবায়োটিক, যা হজম ও অন্ত্রের জন্য বেশি উপকারী।
কোনটা কখন খাবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাস্তায় বের হলে বা দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে ডাবের পানি সবচেয়ে ভালো পছন্দ। আর ঘরোয়া পরিবেশে বা খাবারের পর মাঠা খেলে শরীর বেশি উপকার পায়।
তবে একসঙ্গে দুটো পানীয় খাওয়ার প্রয়োজন নেই। দিনের ভিন্ন সময়ে আলাদা করে খেলে শরীর থাকে সতেজ, হাইড্রেটেড এবং স্বস্তিতে।
গরমে শরীর সুস্থ রাখতে তাই প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিন ডাবের পানি বা মাঠা, আর থাকুন সতেজ ও আরামদায়ক।
আরটিভি/জেএমএ
আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে
Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেউ দ্রুত ফল পেতে চান, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে চান।
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন।
যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন।
তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে।
গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।
সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরটিভি/এসআর