
গরমে শরীর চাঙ্গা রাখতে ডাবের পানির জুড়ি নেই। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ নানা প্রাকৃতিক খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ এই পানীয় শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়ক। তবে ডাব কাটার পর তার পানি দীর্ঘক্ষণ ফেলে রাখা ঠিক নয়। সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে নষ্ট হয়ে গিয়ে পেটের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই ডাব কাটার পর পানি কতক্ষণ ভালো থাকে এবং কীভাবে সংরক্ষণ করলে তা নিরাপদ থাকবে, তা জানা জরুরি।
ডাবের পানি কতক্ষণ ভালো থাকে?
ডাব থেকে পানি বের করার পর যত দ্রুত সম্ভব পান করে নেওয়াই ভালো। কারণ ডাবের পানি বাতাসের সংস্পর্শে এলে দ্রুত তার গুণমান হারাতে শুরু করে।
তবে একবারে পান করা সম্ভব না হলে পরিষ্কার ও বায়ুরোধী পাত্রে ঢেলে সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজে রাখতে পারেন। এভাবে রাখলে ডাবের পানি সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। এর বেশি সময় সংরক্ষণ না করাই নিরাপদ।
দীর্ঘদিন রাখতে চাইলে কী করবেন?
ডাবের পানি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে চাইলে সাধারণ ফ্রিজে রাখার বদলে বরফ তৈরির পাত্রে ঢেলে জমিয়ে রাখতে পারেন। ডাবের পানির তৈরি বরফের টুকরো ফ্রিজারে প্রায় দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। পরে এগুলো শরবত বা বিভিন্ন পানীয় তৈরিতে ব্যবহার করা যায়।
ডাবের পানি নষ্ট হয়েছে বুঝবেন কীভাবে?
ডাবের পানির স্বাভাবিক মিষ্টি গন্ধের পরিবর্তে যদি টক বা ঝাঁঝালো গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া পানি যদি অস্বাভাবিকভাবে ঘোলাটে হয়ে যায়, তাহলেও সেটি না খাওয়াই ভালো।
ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা পানি কি খাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, পরিষ্কার ও বায়ুরোধী পাত্রে রেখে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হলে ফ্রিজের ঠান্ডা ডাবের পানি খাওয়া যায়। তবে ২৪ ঘণ্টার বেশি সংরক্ষণ না করাই ভালো।
বোতলজাত পানীয় এতদিন ভালো থাকে কেন?
বোতলজাত ডাবের পানীয় এবং সদ্য কাটা ডাবের পানির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বোতলজাত পানীয় বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয় এবং এতে সংরক্ষণকারী উপাদানও থাকতে পারে। তাই বোতলের মুখ বন্ধ থাকা অবস্থায় তা তুলনামূলকভাবে দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
অন্যদিকে, ডাব কেটে পানি বের করার পর তা বাতাসের সংস্পর্শে আসে। ফলে দীর্ঘক্ষণ বাইরে রেখে দিলে দ্রুত গুণমান নষ্ট হতে পারে। তাই ডাব কাটার পর যত দ্রুত সম্ভব পানি পান করাই সবচেয়ে ভালো।
আরটিভি/জেএমএ


