ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

একটি জিন্স প্যান্ট বানাতে কেন ১০ হাজার লিটার পানি প্রয়োজন হয় 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
একটি জিন্সের পেছনে এত হাজার লিটার পানি খরচ করার কারণ  । ছবি: সংগৃহীত

জিন্স প্যান্ট পরেন অনেকেই। ফ্যাশনের অংশ হিসেবে এটি সবার পরিচিত পোশাক। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনার পরনের একটি জিন্স তৈরি হতে কতটা পানি খরচ হয়? অবাক করার মতো হলেও সত্যি, একটি জিন্স প্যান্ট তৈরিতে গড়ে ৭ থেকে ১০ হাজার লিটার পানি প্রয়োজন হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই পরিমাণ ১৫ হাজার লিটার পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

অর্থাৎ একজন মানুষ যদি প্রতিদিন তিন লিটার পানি পান করেন, তাহলে একটি জিন্স তৈরিতে ব্যবহৃত পানি দিয়ে প্রায় ৯ বছর তার পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

প্রশ্ন হলো, এত পানি যায় কোথায়?

জিন্স তৈরির মূল উপাদান হলো তুলা। আর তুলা পৃথিবীর অন্যতম পানিনির্ভর ফসল। এক কেজি তুলা উৎপাদনে প্রায় ১০ হাজার লিটার পানি প্রয়োজন হয়। একটি জিন্স তৈরিতে প্রায় ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত তুলা লাগে। ফলে শুধু তুলা চাষেই একটি জিন্সের মোট পানির বড় অংশ খরচ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

তুলাগাছ সাধারণত শুষ্ক আবহাওয়ায় জন্মালেও ভালো ফলনের জন্য প্রচুর কৃত্রিম সেচ দিতে হয়। বিশ্বের মোট কৃষিজমির খুব সামান্য অংশে তুলার চাষ হলেও এটি কৃষিক্ষেত্রের বিপুল পরিমাণ সেচের পানি ব্যবহার করে। এমনকি মধ্য এশিয়ার আরাল সাগরের পানিও একসময় তুলা চাষের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বিশাল এই জলভাগ প্রায় হারিয়ে গেছে।

তুলা থেকে সুতা, এরপর কাপড় তৈরির পর শুরু হয় জিন্সের আসল রূপ দেওয়ার কাজ। ডেনিমের পরিচিত নীল রং আসে বিশেষ ধরনের রং থেকে। এই রং কাপড়ে ভালোভাবে বসাতে সুতাকে বারবার রঙের দ্রবণে ডুবিয়ে শুকানো হয়। গভীর নীল রং আনতে অনেক সময় এই প্রক্রিয়া ১৫ থেকে ২০ বার পর্যন্ত করতে হয়। শুধু রং করার কাজেই একটি জিন্সে কয়েকশ লিটার পানি ব্যবহার হয়।

এরপর আসে কাপড় নরম করা, সংকোচন কমানো এবং পুরোনো ধাঁচের চেহারা দেওয়ার প্রক্রিয়া। বাজারে পাওয়া হালকা রঙের, পুরোনো বা ছেঁড়া ভাবের জিন্সগুলো কারখানাতেই বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। এসব কাজে বিভিন্ন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় এবং প্রতিবারই প্রচুর পানি দিয়ে ধুতে হয়।

বিজ্ঞানীরা এই পুরো ব্যবহৃত পানিকে বলেন ‘লুকানো পানি’। অর্থাৎ কোনো পণ্য তৈরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যে পানি ব্যবহার হয়, তার হিসাবই এর মধ্যে ধরা হয়। জিন্সের ক্ষেত্রেও এমন অনেক পানি খরচ হয়, যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না।

তবে শুধু পানির অপচয় নয়, রয়েছে দূষণের সমস্যাও। জিন্স তৈরির কারখানার বর্জ্য পানিতে রং, রাসায়নিক ও ক্ষতিকর উপাদান থাকে। পরিশোধন ছাড়া এসব পানি নদীতে মিশলে পরিবেশ ও জলজ প্রাণীর ক্ষতি হতে পারে।

তবে পরিবর্তনের চেষ্টাও চলছে। কিছু বড় পোশাক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পানির ব্যবহার কমানোর প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বিশেষ ধরনের ধোয়ার পদ্ধতি, নতুন প্রযুক্তি ও পানি পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে পানির অপচয় কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর কোটি কোটি জিন্স তৈরি হয়। প্রযুক্তির উন্নতি হলেও এত বিপুল উৎপাদনের কারণে পানির ওপর চাপ এখনো রয়ে গেছে।

তাই পরেরবার জিন্স কেনার সময় শুধু দাম বা নকশা নয়, একবার ভাবুন—এই একটি পোশাকের পেছনে লুকিয়ে আছে হাজার হাজার লিটার পানির গল্প।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীর প্যান্টে মিলল ২৪ কোটি টাকার তরল সোনা