ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মানসিক চাপ কি হৃদরোগের কারণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মানসিক চাপ দৈনন্দিন জীবনের একটি অনিবার্য অংশ। কাজ, পারিবারিক দায়িত্ব, আর্থিক অবস্থা বা অন্যান্য সমস্যার কারণে বেশিরভাগ মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে মানসিক চাপে ভোগেন। দুঃখজনকভাবে, মানুষ মানসিক চাপকে এতটাই স্বাভাবিক বলে ধরে নিয়েছে যে, তারা দীর্ঘমেয়াদে এর নেতিবাচক প্রভাবগুলোকে উপেক্ষা করে।

দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মানসিক এবং শারীরিক উভয় স্বাস্থ্যের ওপরই প্রভাব ফেলতে পারে। এটি হৃদরোগের একটি সম্ভাব্য কারণ, কিন্তু শুধুমাত্র মানসিক চাপই কি হৃদরোগের কারণ হতে পারে? এই প্রশ্নের কোনো নির্দিষ্ট উত্তর থাকতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও শুধুমাত্র মানসিক চাপ হৃদরোগের একমাত্র কারণ হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে এটি ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং ধীরে ধীরে হৃদরোগের বিকাশে অবদান রাখতে পারে।

মানসিক চাপ কীভাবে শরীরকে প্রভাবিত করে

যখন কোনো ব্যক্তি মানসিক চাপে থাকেন, তখন শরীর কর্টিসল এবং অ্যাড্রেনালিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে। এগুলো শরীরকে লড়াই বা পলায়ন প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত করে। এর ফলে হৃৎস্পন্দন দ্রুত হয়, রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুততর হয়। এই পরিবর্তনগুলো স্বল্প সময়ের বিপদের সময় সহায়ক, কিন্তু সমস্যা তখনই দেখা দেয় যখন মানসিক চাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে। দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত, প্রদাহ এবং রক্তে শর্করার মাত্রার পরিবর্তনও হতে পারে, যার সবগুলোই হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।

শুধুমাত্র মানসিক চাপ কি হৃদরোগের কারণ হতে পারে?

শুধুমাত্র মানসিক চাপ খুব কমই হৃদরোগের একমাত্র কারণ হয়ে থাকে। সাধারণত বিভিন্ন ঝুঁকির কারণ একসাথে কাজ করার ফলেই হৃদরোগের বিকাশ ঘটে। তবে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ হৃৎপিণ্ডের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

যারা ক্রমাগত মানসিক চাপে থাকেন, তাদের দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ রক্তচাপ থাকতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ রক্তচাপ রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ বাড়ায়। মানসিক চাপ রক্ত ​​জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকেও প্রভাবিত করতে পারে, যা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন

‘কিউরিয়াস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, বিরল ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক চাপ ‘ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম’ নামে পরিচিত একটি অস্থায়ী হৃদরোগের কারণ হতে পারে। এই অবস্থাটি অল্প সময়ের জন্য হৃৎপেশীকে দুর্বল করে দেয় এবং প্রায়শই কোনো আকস্মিক মানসিক আঘাতের পরে ঘটে, যেমন কোনো প্রিয়জনকে হারানো।

মানসিক চাপ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন

মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম প্রধান উপায় হলো অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গ্রহণ করা। অনেকেই ধূমপান, মদ্যপান, জাঙ্ক ফুড খাওয়া, অতিরিক্ত খাওয়া বা শুধু শুয়ে-বসে থেকে মানসিক চাপ মোকাবিলা করেন। কেউ কেউ আবার কম সময় ঘুমান, যা ঝুঁকি দ্বিগুণ করে দেয়। এই অভ্যাসগুলো স্থূলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বাড়ায়, যার সবগুলোই হৃদরোগের প্রধান কারণ। এভাবে মানসিক চাপ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যকর দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখা কঠিন করে তুলে পরোক্ষভাবে হৃদস্বাস্থ্যের অবনতিতে অবদান রাখে।

সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ

হৃদস্বাস্থ্য সুরক্ষিত করার জন্য মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও মানসিক চাপের সমস্ত উৎস দূর করা সম্ভব নাও হতে পারে, তবে স্বাস্থ্যকর মোকাবিলার কৌশলগুলো একটি বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ মানসিক চাপ কমানোর অন্যতম সেরা উপায়। হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা যোগব্যায়াম মেজাজ ভালো করতে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। প্রচুর ফল, শাক-সবজি, শস্যদানা এবং চর্বিহীন প্রোটিন সমৃদ্ধ একটি সুষম খাদ্য গ্রহণও সহায়ক। প্রতি রাতে পর্যাপ্ত ঘুমও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় সাত থেকে নয় ঘণ্টা ভালো ঘুমের লক্ষ্য রাখা উচিত। বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা কোনো মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলাও মানুষকে চাপপূর্ণ পরিস্থিতি স্বাস্থ্যকরভাবে মোকাবিলা করতে সাহায্য করতে পারে।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
টাক মাথা নিয়ে সংকোচ নয়, উদযাপনের দিন আজ 
চুল পড়ে টাক হয়ে যাওয়া কিংবা নিজের ইচ্ছায় মাথা ন্যাড়া করা যে কারণেই হোক, টাক মাথা নিয়ে সংকোচের কিছু নেই।
টাক মাথা নিয়ে সংকোচ নয়, উদযাপনের দিন আজ 
আজ বিশ্ব মান দিবস / ভেজালের ভিড়ে মানের অঙ্গীকার
খাদ্যে ক্ষতিকর উপাদান, নিম্নমানের পণ্য, ওজনে কারচুপি—বাজারে এসব অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়।
ভেজালের ভিড়ে মানের অঙ্গীকার
মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, গবেষণা যা বলছে 
মোবাইল ফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যোগাযোগ থেকে শুরু করে কাজ ও বিনোদন সব ক্ষেত্রেই বেড়েছে এর ব্যবহার।
মোবাইল পকেটে রাখলে কি শুক্রাণুর ক্ষতি হয়, গবেষণা যা বলছে 
শিশুদের ক্যানসারের ৭ লক্ষণ, যা সহজেই এড়িয়ে যান অভিভাবকরা
শিশুদের শরীরে ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতার মতো মনে হতে পারে। ফলে অভিভাবকদের পক্ষে শুরুতেই রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
শিশুদের ক্যানসারের ৭ লক্ষণ, যা সহজেই এড়িয়ে যান অভিভাবকরা
রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং শরীর সতেজ রাখার উপায়
প্রচণ্ড রোদে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং সুস্থ থাকা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে যেখানে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা অনেক বেশি বেড়ে যায়।
রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং শরীর সতেজ রাখার উপায়
আরও পড়ুন
রোগ প্রতিরোধে গ্রাম ও শহরে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
‘কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে’
আঁতকে ওঠার মতো তথ্য দিল ইউনিসেফ
শিক্ষার্থীদের অদৃশ্য লড়াই ও মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট: প্রয়োজন এক সহমর্মী ক্যাম্পাস