ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যেই কি সকালের নাস্তা করা উচিৎ ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সকালের নাস্তার একটি বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। একে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার বলা হয়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া এর সঙ্গে আরেকটি নিয়ম যোগ করেছে- ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে নিতে হবে, নইলে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিন্তু সত্যিই কি এমন কোনো জাদুকরী ৬০ মিনিটের সময়সীমা আছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে, যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। কিছু মানুষ ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুম থেকে ওঠে এবং তাদের দ্রুত খাবারের প্রয়োজন হয়। আবার অন্যরা তাদের প্রথম খাবারের আগে আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে কোনো অসুবিধা বোধ করে না।

ঘুমের সময় শরীরে কী ঘটে?

আমরা যখন ঘুমাই তখন শরীর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় না। এটি সারারাত ধরে নীরবে কাজ করে চলে। শ্বাস-প্রশ্বাস, কোষ মেরামত, হরমোন নিয়ন্ত্রণ এবং হৃৎস্পন্দন সচল রাখা- এই সবকিছুর জন্যই শক্তির প্রয়োজন হয়। যেহেতু এই সময়গুলোতে কোনো খাবার গ্রহণ করা হয় না, তাই শরীর এই কাজগুলো চালিয়ে যাওয়ার জন্য সঞ্চিত শক্তির উপর নির্ভর করে।

সকালের দিকে রক্তে শর্করার মাত্রা আগের সন্ধ্যার তুলনায় কিছুটা কম থাকতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি ক্ষুধা, ক্লান্তি বা শক্তি কমে যাওয়ার কারণ হতে পারে। আবার অনেকে সঙ্গে সঙ্গে খাবারের প্রয়োজন ছাড়াই সতেজ ও উদ্যমী বোধ করে ঘুম থেকে ওঠেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন আমরা ঘুমাই, আমাদের শরীর কোনো খাবার পায় না। এটি তার প্রাপ্ত শক্তি ব্যবহার করে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া, হৃৎস্পন্দন সচল রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করার মতো কাজ করে। আমরা যখন ঘুম থেকে উঠি, ততক্ষণে আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে। শক্তি ফিরে পেতে আমাদের শরীরের খাবারের প্রয়োজন হয়।

আরও পড়ুন

সকালের নাস্তা আমাদের মস্তিষ্ক এবং পেশীগুলোকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। এটি আমাদের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে এবং আমাদের আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে। প্রত্যেকের শরীর আলাদা। কিছু মানুষের ঘুম থেকে ওঠার পরপরই খাবারের প্রয়োজন হয়। আবার অন্যদের বেশ কিছুক্ষণ পর ক্ষুধা পায়। অন্য কথায়, সকালে ক্ষুধা লাগাটা অত্যন্ত ব্যক্তিগত একটি বিষয়।

এক ঘণ্টার নিয়মটি কি আসলেই বিজ্ঞান দ্বারা সমর্থিত?

এই পরামর্শটির জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও, এমন কোনো সার্বজনীন বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই যা বলে যে ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যেককে খেতেই হবে। একটি বৃহৎ সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বয়স, বিপাকক্রিয়া এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে সকালের নাস্তার অভ্যাস ও সময় একেকজনের উপর একেকভাবে প্রভাব ফেলে।

ঘুম থেকে ওঠার এক ঘণ্টার মধ্যে আমাদের সবারই যে খেতে হবে, তার কোনো বাস্তব প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলেন যে, আমরা কখন সকালের নাস্তা খাচ্ছি তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা কী খাচ্ছি। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা স্বাভাবিক। কিছু মানুষ ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই ক্ষুধার্ত বোধ করেন। আবার অন্যদের বেশ কিছুক্ষণ পর ক্ষুধা পায়। শুধু ঘড়ি বলছে বলে খাওয়ার চেয়ে নিজের শরীরের কথা শোনা ভালো।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন নিয়ে ড্যাবের গোলটেবিল বৈঠক বুধবার
আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হোক: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গুতে আরও ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৬৫৫   
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদেরকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা