ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

যে শক্তি মানুষকে এগিয়ে নেয়, আজ আন্তর্জাতিক আশা দিবস

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১২:১৪ পিএম
যে শক্তি মানুষকে এগিয়ে নেয়, আজ আন্তর্জাতিক আশা দিবস । ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামাজিক বিভাজনের মতো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও মানুষকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগায় একটি বিষয়—আশা। এই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই প্রতি বছর ১২ জুলাই পালিত হয় আন্তর্জাতিক আশা দিবস।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিবস ঘোষণা করেছে, যাতে ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জীবনে আশাকে একটি ইতিবাচক ও পথপ্রদর্শক শক্তি হিসেবে তুলে ধরা যায়।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জাতিসংঘ নিজেই আশার প্রতীক। তাই এই দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং সবার জন্য একটি ভালো ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দিবস?

জাতিসংঘের মতে, শান্তি, মর্যাদা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মান প্রতিষ্ঠায় আশার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিবস মানুষকে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, সহমর্মিতা বাড়ানো, ক্ষমাশীলতা চর্চা এবং সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তুলতে উৎসাহিত করে।

একই সঙ্গে সদস্য রাষ্ট্র, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, জনসেবামূলক উদ্যোগ এবং মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

গবেষণা কী বলছে?

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আশা শুধু একটি অনুভূতি নয়, এটি মানুষকে লক্ষ্য অর্জনের সাহস এবং সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ খুঁজে নেওয়ার শক্তি দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, আশাবাদী মানুষের মধ্যে হতাশা, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ তুলনামূলক কম থাকে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা মেনে চলার প্রবণতাও বেশি দেখা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুস্থ মানসিক অবস্থার জন্য আশাবাদী মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মানুষকে চাপ মোকাবিলা, উৎপাদনশীল জীবনযাপন এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।

টেকসই উন্নয়নেও আশার ভূমিকা

জাতিসংঘের মতে, আশা টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আশা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে, শিক্ষার্থীদের শেখার আগ্রহ বাড়ায়, কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সাহস জোগায় এবং পরিবেশ রক্ষার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে অনুপ্রাণিত করে।

কীভাবে পালন করা যায়?

আন্তর্জাতিক আশা দিবসে ছোট ছোট মানবিক উদ্যোগও বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করা, কোনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রবীণ প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া, স্বেচ্ছাসেবী কাজে অংশ নেওয়া কিংবা শিশু-কিশোরদের আশা ও ইতিবাচক চিন্তার গুরুত্ব শেখানো—এসব উদ্যোগই এই দিবসের মূল বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আশা শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, এটি সমাজকে একত্রিত করার শক্তি। বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য, হতাশার পরিবর্তে সাহস এবং অনিশ্চয়তার পরিবর্তে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাতেই প্রতি বছর পালিত হয় আন্তর্জাতিক আশা দিবস।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
বাল্যবিবাহ ও বৈষম্য রোধে কন্যাশিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বিমানযাত্রীর আচারের বয়ামে মিলল বিপুল হীরা-রুবি-সোনা
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা ও ক্ষোভ ধর্মমন্ত্রীর
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পুনর্নির্ধারণের সময়সীমা