ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ছোট ভাই-বোনের চোখে ‘হিরো’ হলেই কী বাড়ে দায়িত্ববোধ? 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ পিএম
ছোট ভাই-বোনের চোখে ‘হিরো’ হলেই কী বাড়ে দায়িত্ববোধ?  । ছবি: সংগৃহীত

একটি পরিবারের বড় ভাই বা বোন হওয়া মানেই শুধু বয়সে বড় হওয়া নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে বাড়তি দায়িত্বও। ছোট ভাই-বোনের কাছে বড়রা অনেক সময় প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তাই ছোটদের চোখে হিরো বা নায়ক হয়ে ওঠার অনুভূতি অনেক বড় ভাই-বোনকে আরও দায়িত্বশীল করে তোলে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পরিবারের ইতিবাচক প্রত্যাশা একজন মানুষের দায়িত্ববোধ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বড় ভাই বা বোন যখন বুঝতে পারেন, ছোটরা তাদের প্রতিটি কাজ অনুসরণ করছে, তখন তারা নিজেরাও আরও সচেতন, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হওয়ার চেষ্টা করেন। কারণ তারা চান, ছোটদের কাছে একজন ভালো মানুষ ও আদর্শ হিসেবে পরিচিত থাকতে।

এই বিষয়টির একটি সুন্দর উদাহরণ দেখা যায় স্প্যানিশ ফুটবলের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের জীবনে। মাঠে লাখো সমর্থকের ভালোবাসা পেলেও, সবচেয়ে আবেগঘন সমর্থন আসে তার ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে। ছোট ভাইয়ের চোখে ইয়ামাল একজন সত্যিকারের নায়ক। পরিবারের এমন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা একজন মানুষকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেয়।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুরা খুব সহজেই বড়দের অনুকরণ করে। বাবা-মায়ের পর বড় ভাই বা বোনের কাছ থেকেই তারা অনেক কিছু শেখে। বড় ভাই যদি নিয়মিত বই পড়েন, খেলাধুলা করেন বা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন, ছোটরাও সেই অভ্যাস গড়ে তুলতে আগ্রহী হয়। একইভাবে বড় বোনের আত্মবিশ্বাস, পরিশ্রম ও ইতিবাচক আচরণও ছোটদের অনুপ্রাণিত করে।

ছোট ভাই-বোন যখন বড়দের নিজের নায়ক মনে করে, তখন বড়দের মধ্যেও দায়িত্ববোধ আরও বেড়ে যায়। তারা বুঝতে পারেন, নিজেদের প্রতিটি আচরণ ছোটরা লক্ষ্য করছে। ফলে কথাবার্তা, সিদ্ধান্ত এবং জীবনযাপনে তারা আরও সচেতন হয়ে ওঠেন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পরিবারের ইতিবাচক সমর্থন আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দেয়। ছোট ভাই-বোনের বিশ্বাস ও ভালোবাসা বড়দের আরও পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল হতে উৎসাহিত করে।

তবে এই সম্পর্ক শুধু একপাক্ষিক নয়। ছোট ভাই-বোনও বড়দের মানসিক শক্তি জোগাতে পারে। পরীক্ষার আগে শুভকামনা জানানো, কঠিন সময়ে পাশে থাকা, ছোট অর্জনেও অভিনন্দন জানানো কিংবা একটি আন্তরিক ‘তুমি পারবে’—এমন কথাও বড়দের নতুন করে সাহস জোগাতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভাই-বোনের সম্পর্ক আরও সুন্দর করতে একে অপরের কথা মন দিয়ে শোনা, সাফল্যে প্রশংসা করা এবং ব্যর্থতার সময়ে পাশে থাকা জরুরি। বড়দের উচিত ছোটদের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করা, আর ছোটদের উচিত বড় ভাই-বোনের পরিশ্রম ও দায়িত্বকে সম্মান করা। কারণ, পরিবারের ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই একজন মানুষকে আরও দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
ভাই-বোনে সারাক্ষণ ঝগড়া? বদলান এই ৪ অভ্যাস
অবৈধ বালু উত্তোলনে সৃষ্ট গর্তে পড়ে ভাই-বোনের মৃত্যু
একসঙ্গে জন্ম ও একই স্কুল-ক্লাসে পড়াশোনা, ভাইরাল যমজ ভাই-বোনের মার্কশিট
পরমাণু হামলায় আহত হয়ে ফের পরমাণু হামলার শিকার, বাঁচেন দু’বারই