ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ভাই-বোনে সারাক্ষণ ঝগড়া? বদলান এই ৪ অভ্যাস

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
বাবা-মায়ের সঠিক আচরণেই ভাই-বোনের মধ্যে ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। ছবি: এআই

একই বাড়িতে দুই সন্তান থাকলে তাদের মধ্যে টুকটাক ঝগড়া, মনোমালিন্য কিংবা খুনসুটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কখনও খেলনা নিয়ে, কখনও মায়ের পাশে কে ঘুমাবে—এমন ছোট বিষয়েও শুরু হতে পারে তুমুল ঝগড়া। এসব মতবিরোধের মধ্য দিয়েই অনেক সময় শিশুরা একে অন্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে।

তবে ঝগড়া যদি নিয়মিত মারামারি, অপমান বা হিংসার দিকে চলে যায়, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ ভাই-বোনের সম্পর্ক তাদের মানসিক বিকাশ ও বেড়ে ওঠার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে সন্তানদের প্রতি বাবা-মায়ের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।

ভাই-বোনের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে অভিভাবকদের কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি।

একে অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না

আপুর মতো পড়তে পারো না? কিংবা ভাইয়া তো তোমার বয়সে এসব পারত—এ ধরনের কথা সন্তানকে বলা উচিত নয়। কারণ প্রতিটি শিশুর স্বভাব, দক্ষতা ও শেখার ধরন আলাদা।

একজনকে অন্যজনের সঙ্গে তুলনা করলে শিশুর মনে হীনমন্যতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভাই-বোনের মধ্যেও প্রতিযোগিতা ও হিংসা বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন

দু’জনের জন্য আলাদা সময় রাখুন

দুই সন্তান একসঙ্গে থাকলেও তাদের প্রয়োজন সবসময় এক রকম হয় না। তাই একসঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি প্রত্যেক সন্তানের সঙ্গে আলাদাভাবে কিছুটা সময় কাটানো দরকার।

কেউ হয়তো বাবা-মায়ের সঙ্গে গল্প করতে চায়, আবার কেউ খেলতে পছন্দ করে। সন্তানের পছন্দ অনুযায়ী তার সঙ্গে একান্তে সময় কাটালে সে বুঝতে পারে, বাবা-মায়ের কাছে তার গুরুত্ব আলাদা।

ঝগড়া হলেই কারও পক্ষ নেবেন না

ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হলেই একজনকে দোষী ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আগে দু’জনের কথাই মন দিয়ে শুনতে হবে।

ছোটখাটো বিষয় হলে তাদের নিজেদের মধ্যে কথা বলে সমাধান করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে শিশুরা ধীরে ধীরে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মেটাতে শেখে।

তবে ঝগড়া যদি মারধর, অপমান কিংবা কারও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন অবশ্যই অভিভাবককে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

একজনের সামনে অন্যজনকে ছোট করবেন না

তোমার ভাই তো তোমার চেয়ে অনেক ভালো কিংবা তোমার বোনকে দেখো, ও কত শান্ত—এ ধরনের কথা সন্তানদের সামনে বলা উচিত নয়।

ভুল করলে শিশুকে বোঝানো বা শাসন করা যেতে পারে। কিন্তু অন্যের সামনে তাকে অপমান করা ঠিক নয়। এতে শিশুর মনে রাগ, কষ্ট বা ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। সেই ক্ষোভ পরে ভাই বা বোনের ওপরও গিয়ে পড়তে পারে।

ছোট অভ্যাসেই বদলাতে পারে সম্পর্ক

ভাই-বোনের মধ্যে মতবিরোধ থাকবেই। তবে বাবা-মায়ের আচরণ যদি ভারসাম্যপূর্ণ হয়, তাহলে ছোটখাটো ঝগড়া ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব। সন্তানদের তুলনা না করে, দু’জনকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এবং নিজেদের সমস্যা সমাধানের সুযোগ দিয়ে বড় করলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
প্রতিদিন ১৫ মিনিট বই পড়লেই মিলবে টাকা
নিয়মিত ব্যায়াম করেও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে যে ছোট্ট অভ্যাস
আঙুল মটকানো ভালো না খারাপ? কী বলছে গবেষণা
ভালোবাসা নাকি সম্পর্কটা এখন শুধু অভ্যাসের, সঙ্গীর যে আচরণে মিলবে উত্তর