
একই বাড়িতে দুই সন্তান থাকলে তাদের মধ্যে টুকটাক ঝগড়া, মনোমালিন্য কিংবা খুনসুটি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। কখনও খেলনা নিয়ে, কখনও মায়ের পাশে কে ঘুমাবে—এমন ছোট বিষয়েও শুরু হতে পারে তুমুল ঝগড়া। এসব মতবিরোধের মধ্য দিয়েই অনেক সময় শিশুরা একে অন্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখে।
তবে ঝগড়া যদি নিয়মিত মারামারি, অপমান বা হিংসার দিকে চলে যায়, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ ভাই-বোনের সম্পর্ক তাদের মানসিক বিকাশ ও বেড়ে ওঠার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ক্ষেত্রে সন্তানদের প্রতি বাবা-মায়ের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ।
ভাই-বোনের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে অভিভাবকদের কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি।
একে অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না
আপুর মতো পড়তে পারো না? কিংবা ভাইয়া তো তোমার বয়সে এসব পারত—এ ধরনের কথা সন্তানকে বলা উচিত নয়। কারণ প্রতিটি শিশুর স্বভাব, দক্ষতা ও শেখার ধরন আলাদা।
একজনকে অন্যজনের সঙ্গে তুলনা করলে শিশুর মনে হীনমন্যতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভাই-বোনের মধ্যেও প্রতিযোগিতা ও হিংসা বাড়তে পারে।
দু’জনের জন্য আলাদা সময় রাখুন
দুই সন্তান একসঙ্গে থাকলেও তাদের প্রয়োজন সবসময় এক রকম হয় না। তাই একসঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি প্রত্যেক সন্তানের সঙ্গে আলাদাভাবে কিছুটা সময় কাটানো দরকার।
কেউ হয়তো বাবা-মায়ের সঙ্গে গল্প করতে চায়, আবার কেউ খেলতে পছন্দ করে। সন্তানের পছন্দ অনুযায়ী তার সঙ্গে একান্তে সময় কাটালে সে বুঝতে পারে, বাবা-মায়ের কাছে তার গুরুত্ব আলাদা।
ঝগড়া হলেই কারও পক্ষ নেবেন না
ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হলেই একজনকে দোষী ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আগে দু’জনের কথাই মন দিয়ে শুনতে হবে।
ছোটখাটো বিষয় হলে তাদের নিজেদের মধ্যে কথা বলে সমাধান করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে শিশুরা ধীরে ধীরে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই মেটাতে শেখে।
তবে ঝগড়া যদি মারধর, অপমান কিংবা কারও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখন অবশ্যই অভিভাবককে হস্তক্ষেপ করতে হবে।
একজনের সামনে অন্যজনকে ছোট করবেন না
তোমার ভাই তো তোমার চেয়ে অনেক ভালো কিংবা তোমার বোনকে দেখো, ও কত শান্ত—এ ধরনের কথা সন্তানদের সামনে বলা উচিত নয়।
ভুল করলে শিশুকে বোঝানো বা শাসন করা যেতে পারে। কিন্তু অন্যের সামনে তাকে অপমান করা ঠিক নয়। এতে শিশুর মনে রাগ, কষ্ট বা ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। সেই ক্ষোভ পরে ভাই বা বোনের ওপরও গিয়ে পড়তে পারে।
ছোট অভ্যাসেই বদলাতে পারে সম্পর্ক
ভাই-বোনের মধ্যে মতবিরোধ থাকবেই। তবে বাবা-মায়ের আচরণ যদি ভারসাম্যপূর্ণ হয়, তাহলে ছোটখাটো ঝগড়া ধীরে ধীরে কমানো সম্ভব। সন্তানদের তুলনা না করে, দু’জনকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে এবং নিজেদের সমস্যা সমাধানের সুযোগ দিয়ে বড় করলে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ


