ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

টানা বৃষ্টিতে সুস্থ থাকতে ভুলেও যেসব ভুল করবেন না

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পিএম
টানা বৃষ্টিতে সুস্থ থাকতে ভুলেও যেসব ভুল করবেন না । ছবি: সংগৃহীত

বর্ষার টানা বৃষ্টি যেমন প্রকৃতিকে সতেজ করে তোলে, তেমনি বাড়িয়ে দেয় নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিও। জলাবদ্ধতা, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, মশার উপদ্রব, দূষিত পানি এবং সংক্রমণের কারণে এ সময় একটু বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললেই বর্ষাকালেও নিজেকে ও পরিবারকে সুস্থ এবং নিরাপদ রাখা সম্ভব।

বৃষ্টিতে ভিজে গেলে যত দ্রুত সম্ভব ভেজা কাপড় বদলে শুকনো কাপড় পরে নেওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় ভেজা পোশাক পরে থাকলে সর্দি-কাশি, ত্বকের সংক্রমণ ও ছত্রাকজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সব সময় ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। বাইরে থাকলে নিরাপদ বোতলজাত পানি ব্যবহার করাই ভালো। রাস্তার খোলা পানীয় বা বরফ দেওয়া শরবত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

খাবারের ক্ষেত্রেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এ সময় খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বাসি খাবারের পরিবর্তে গরম ও টাটকা খাবার খাওয়াই ভালো। ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে। রাস্তার খোলা খাবার খাওয়ার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন

ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও ভাইরাসজনিত সংক্রমণ থেকে বাঁচতে নিয়মিত সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। বাইরে থেকে ফিরে, খাবার খাওয়ার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর অবশ্যই হাত পরিষ্কার করতে হবে।

টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা পানিতে মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। তাই বাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব কিংবা আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজন হলে মশারি, মশা প্রতিরোধক ক্রিম বা স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাইরে থেকে ফিরে পা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নেওয়াও জরুরি। দীর্ঘ সময় ভেজা জুতা বা মোজা পরে থাকলে পায়ে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। প্রয়োজনে ছত্রাক প্রতিরোধে উপযোগী পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।

বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধ এলাকায় চলাচলের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। কোথাও ছিঁড়ে পড়া বৈদ্যুতিক তার থাকতে পারে। পানি জমে থাকা অবস্থায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। মৌসুমি ফল, শাকসবজি, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও হালকা ব্যায়ামের অভ্যাসও জরুরি।

বাইরে বের হলে ছাতা, বৃষ্টির পোশাক এবং একটি অতিরিক্ত শুকনো কাপড় বা তোয়ালে সঙ্গে রাখা ভালো। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র জলরোধী ব্যাগে রাখলে ক্ষতির আশঙ্কাও কমে।

এদিকে জ্বর, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, তীব্র কাশি বা দীর্ঘ সময় অসুস্থতা অনুভব করলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বর্ষাকালে অনেক রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সাধারণ মনে হলেও পরে তা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সামান্য কিছু সতর্কতা, পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাসই টানা বৃষ্টির মধ্যেও আপনাকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
টানা ৫ দিন বৃষ্টি হতে পারে যেসব অঞ্চলে 
সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, টানা বৃষ্টি থাকবে কতদিন
আগস্টজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা
সর্দি-কাশি হোক বা পেট খারাপ, বর্ষায় সুস্থ থাকতে পাতে রাখুন ৭ সবজি