নিকোটিনেই ‘বদলে যায়’ দাম্পত্য জীবন!

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ১০:৩৮ এএম


নিকোটিনেই ‘বদলে যায়’ দাম্পত্য জীবন!
ছবি: সংগৃহীত

ধূমপান বা নিকোটিন গ্রহণের ক্ষতিকর প্রভাব শুধু ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে, অতিরিক্ত নিকোটিন গ্রহণ মানুষের স্বাভাবিক যৌন আকাঙ্ক্ষা (লিবিডো), প্রজনন স্বাস্থ্য এবং দাম্পত্য জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এর তথ্য অনুযায়ী, ই-সিগারেট, ভেপ, সাধারণ সিগারেট কিংবা নিকোটিন প্যাচ যেকোনো উৎস থেকে অতিরিক্ত নিকোটিন শরীরে প্রবেশ করলে তা যৌন হরমোনের ভারসাম্য এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি

২০২০ সালে ভারতের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা অতিরিক্ত নিকোটিন বা সিগারেটের ওপর নির্ভরশীল, তাদের মধ্যে যৌন জটিলতা হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

গবেষণায় বলা হয়, নিকোটিন রক্তনালী সংকুচিত করে, ফলে যৌনাঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। এর কারণে যৌন উদ্দীপনা, দীর্ঘক্ষণ ইরেকশন ধরে রাখা এবং অর্গাজমে পৌঁছানোর সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

এছাড়া ২০২১ সালে জাপানের কানাজাওয়া ইউনিভার্সিটি গ্রাজুয়েট স্কুল অব মেডিকেল সায়েন্সের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যবয়সী ও প্রবীণ পুরুষদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ধূমপানের অভ্যাস যৌন আকাঙ্ক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে।

নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্যেও নেতিবাচক প্রভাব

নারীদের ওপর গবেষণা তুলনামূলক কম হলেও ফলাফল উদ্বেগজনক। ২০১৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, তীব্র নিকোটিন নির্ভরশীল নারীদের যৌন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং বিভিন্ন যৌন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ নারীদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

এছাড়া ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কলেজ অব মেডিসিনের গবেষণায় দেখা গেছে, মেনোপজ-পূর্ব নিয়মিত ধূমপায়ী নারীদের মধ্যে যৌন আকাঙ্ক্ষা, উদ্দীপনা এবং তৃপ্তির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

কীভাবে ক্ষতি করে নিকোটিন

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিকোটিন মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষা ও মানসিক প্রশান্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন হরমোনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

ধূমপান ছাড়লে মিলতে পারে সুফল

গবেষকদের মতে, নিকোটিনের এই প্রভাব অনেক ক্ষেত্রেই স্থায়ী নয়। ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সম্পূর্ণভাবে ধূমপান ছেড়েছেন, তাদের মধ্যে এক থেকে দুই বছরের মধ্যে যৌন স্বাস্থ্য ও প্রজনন সক্ষমতার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং স্বাভাবিক যৌন আকাঙ্ক্ষাও ফিরে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ দাম্পত্য জীবন ও ভালো প্রজনন স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সব ধরনের তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য এড়িয়ে চলা উচিত। জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পরও যদি যৌন আকাঙ্ক্ষার ঘাটতি বা অন্য কোনো সমস্যা থেকে যায়, তবে দেরি না করে ইউরোলজিস্ট বা যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission