ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

পেটের মেদ কমাতে চিয়া সিড নাকি তোকমা বেশি কার্যকর

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ওজন কমাতে চাইলে অনেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় চিয়া সিড বা তোকমা যোগ করেন। দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় অনেকেই মনে করেন, দুটি বীজের কাজও এক। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। কোনোটিই সরাসরি পেটের মেদ গলিয়ে দেয় না। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার সঙ্গে খেলে দুটিই ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে কাজের ধরন ভিন্ন। তাই আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কোনটি বেশি উপকারী, তা জানা জরুরি।

চিয়া সিডে রয়েছে প্রচুর দ্রবণীয় আঁশ, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং উদ্ভিজ্জ প্রোটিন। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এটি জেলির মতো স্তর তৈরি করে, যা খাবার হজমের গতি কমায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দেয়।

'দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশন'-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের খাদ্যতালিকায় আঁশের পরিমাণ বেশি, তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। পাশাপাশি ক্যালোরি নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলতেও সুবিধা হয়।

বিভিন্ন গবেষণায় আরও দেখা গেছে, চিয়া সিড খুব দ্রুত ওজন কমায় না। তবে নিয়মিত খেলে কোমরের মাপ কিছুটা কমতে পারে। অর্থাৎ শরীরের মধ্যভাগে জমে থাকা চর্বি কমাতে এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু চিয়া সিড খেয়েই পেটের মেদ কমানো সম্ভব নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের সঙ্গে এটি যুক্ত করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

অন্যদিকে তোকমা, যা তুলসি বীজ নামেও পরিচিত, এতে প্রচুর খাদ্য আঁশ রয়েছে। পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এটি খুব দ্রুত ফুলে যায়। 'ফুডস' সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, তোকমা বীজের ৩০ শতাংশের বেশি অংশই খাদ্য আঁশ। এই আঁশ হজমের গতি কমিয়ে দ্রুত পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করে। ফলে ক্ষুধা কমে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হজমস্বাস্থ্যবিষয়ক আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, অম্বল, গ্যাস, পেট ফাঁপা ও খাবারের পর ভারী লাগার সমস্যা কমাতে তোকমা উপকারী হতে পারে।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় মানুষ যেটিকে পেটের মেদ মনে করেন, সেটি আসলে গ্যাস বা পেট ফাঁপার কারণে হয়ে থাকে। তোকমা সরাসরি চর্বি পোড়ায় না। তবে এটি হজমে স্বস্তি দেয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।

চিয়া সিড ও তোকমার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো কাজের ধরনে। চিয়া সিড ধীরে ধীরে কাজ করে। এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, বিপাকক্রিয়াকে সহায়তা করে এবং সময়ের সঙ্গে কোমরের মাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে তোকমা দ্রুত কাজ করে। এটি দ্রুত ক্ষুধা কমায়, পেট ফাঁপা ও অম্বল কমাতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

দুটি বীজেরই সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ, যা ওজন নিয়ন্ত্রণ ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনটি খাবেন, তা নির্ভর করবে আপনার প্রয়োজনের ওপর। দীর্ঘমেয়াদে ওজন ও পেটের মেদ কমানোর পাশাপাশি বিপাকক্রিয়া ভালো রাখতে চাইলে চিয়া সিড কিছুটা বেশি উপকারী হতে পারে।

অন্যদিকে যদি আপনার পেট ফাঁপা, অম্বল বা অতিরিক্ত খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে তোকমা ভালো বিকল্প হতে পারে।

অনেক পুষ্টিবিদ আবার দুটি বীজ পালা করে খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ এগুলো একে অপরের বিকল্প নয়, বরং ভিন্ন ভিন্নভাবে শরীরকে উপকার করে।

বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন ১ থেকে ২ চা-চামচ চিয়া সিড বা তোকমা পানিতে ভিজিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন। এগুলো লেবুর পানি, স্মুদি বা দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়। তবে শুকনো অবস্থায় কখনোই খাওয়া উচিত নয়।

এ ছাড়া এগুলোকে মূল খাবারের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে চিয়া সিড বা তোকমা—কোনোটিই সরাসরি পেটের মেদ কমায় না। তবে দুটিই ভিন্ন উপায়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে পেটের মেদ কমানোর ক্ষেত্রে পুষ্টিগুণের কারণে চিয়া সিড কিছুটা এগিয়ে থাকতে পারে। আর দ্রুত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, অম্বল ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে তোকমা বেশি কার্যকর। তবে সবচেয়ে ভালো ফল পেতে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত খাবার এবং সক্রিয় জীবনযাপনের কোনো বিকল্প নেই।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
আরও পড়ুন
মধু-রসুন খেলেই কি মেদ ঝরে? সকালে খেতে পারেন আরও যা
পেটের মেদ কীভাবে মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলে
এক সপ্তাহে কি পেটের মেদ ঝরানো সম্ভব?
পেটের মেদ কমাতে আজই বাদ দেবেন যেসব খাবার