ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঠান্ডা চা বারবার গরম করে খাওয়ার আগে জেনে নিন কতটা ক্ষতিকর 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
ঠান্ডা চা বারবার গরম করে খান? বাড়তে পারে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি । ছবি: সংগৃহীত

দিনভর কাজের ব্যস্ততা, অফিসের মিটিং কিংবা আড্ডার ফাঁকে এক কাপ চা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। অনেকেই তখন সেই চা আবার গরম করে পান করেন। আবার অনেক চায়ের দোকানেও একই চা বারবার গরম বা ফুটিয়ে পরিবেশন করা হয়।

তবে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া চা বারবার গরম করে পান করার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য খুব একটা ভালো নয়। এতে চায়ের স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এর কিছু উপকারী উপাদানের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। বিশেষ করে দুধ-চা দীর্ঘ সময় রেখে পরে গরম করে পান করলে জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

বারবার গরম করা চা কতটা নিরাপদ?

চা তৈরি হওয়ার পর দীর্ঘ সময় রেখে সেটি আবার গরম করলে চায়ের রাসায়নিক গঠনে কিছু পরিবর্তন হতে পারে। এতে চায়ের স্বাভাবিক সুগন্ধ ও স্বাদ কমে যায়। বারবার গরম করার ফলে চা তিতা বা কষাটে হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একবার তৈরি করা চা দীর্ঘ সময় রেখে বারবার গরম করে পান করার চেয়ে টাটকা চা পান করাই ভালো।

আরও পড়ুন

কমে যেতে পারে উপকারী উপাদান

চায়ের অন্যতম উপকারী উপাদান হলো পলিফেনল ও ক্যাটেচিনজাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো শরীরকে ক্ষতিকর অক্সিডেটিভ চাপ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

তবে চা দীর্ঘ সময় গরম রাখা বা বারবার ফুটানোর ফলে এসব উপকারী উপাদানের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। ফলে তাজা এক কাপ চা থেকে যে উপকার পাওয়া সম্ভব, বারবার গরম করা চা থেকে তা নাও পাওয়া যেতে পারে।

চা তিতা বা কষাটে হয়ে যায় কেন?

চা দীর্ঘ সময় গরম করলে এতে থাকা ট্যানিনের স্বাদ বেশি প্রকট হয়ে ওঠে। ফলে চায়ের স্বাভাবিক স্বাদ নষ্ট হয়ে তিতা বা কষাটে লাগতে পারে।

একই সঙ্গে চায়ের ক্যাফিনের স্বাদও তুলনামূলক তীব্র মনে হতে পারে। এতে অনেকের অস্বস্তি হতে পারে।

দুধ-চা নিয়ে বেশি সতর্কতা

দুধ মেশানো চা দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে পরে গরম করে পান করার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

দুধযুক্ত চা দীর্ঘ সময় কক্ষের তাপমাত্রায় পড়ে থাকলে এতে জীবাণু দ্রুত বাড়তে পারে। পরে চা গরম করলেই সব ধরনের ঝুঁকি দূর হয় না।

বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়া দুধ-চা পান করলে পেটের অস্বস্তি, বমি, পাতলা পায়খানা বা খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

হজমের সমস্যাও বাড়তে পারে

বারবার গরম করা চায়ের স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন আসায় কিছু মানুষের অম্লতা, বুকজ্বালা বা বদহজমের সমস্যা বাড়তে পারে।

যাদের আগে থেকেই গ্যাস্ট্রিক, অম্লতা বা খাবার হজমে সংবেদনশীলতার সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দীর্ঘ সময় রাখা বা বারবার গরম করা চা এড়িয়ে চলাই ভালো।

চা সংরক্ষণে কী করবেন?

একবারে বেশি চা তৈরি করার প্রয়োজন হলে সেটি দীর্ঘ সময় চুলায় ফুটিয়ে না রেখে তাপ ধরে রাখে এমন পাত্রে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এতে বারবার চা ফুটানোর প্রয়োজন হবে না।

তবে দুধ-চায়ের ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব পান করাই সবচেয়ে নিরাপদ। দীর্ঘ সময় রেখে পরে গরম করে পান না করাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চা তৈরির ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যেই পান করা ভালো। এতে চায়ের স্বাদ, গন্ধ ও উপকারী উপাদান অনেকটাই অক্ষুণ্ন থাকে।

তাই একবারে অনেকটা চা তৈরি করে বারবার গরম করার বদলে প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে টাটকা চা তৈরি করাই ভালো। এতে যেমন স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমবে, তেমনি প্রতিটি কাপেই পাওয়া যাবে চায়ের আসল স্বাদ ও সতেজতা।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
গর্ভাবস্থায় অনেক নারী হঠাৎ কিছু বিষয় ভুলে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন।
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই অনেকের মনে পড়ে ইসবগুলের ভুসির কথা। পানিতে মিশিয়ে খাওয়া পরিচিত এই খাবারটি দীর্ঘদিন ধরে পেট পরিষ্কার রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ইসবগুলের উপকারিতা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
বয়সের ছাপ কমানো থেকে শুরু করে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন কারণে বোটক্স ব্যবহার করা হয়।
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
রাতে বিছানায় শুয়ে আছেন, কিন্তু পায়ে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে।
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
শিয়ালের মাংস খেলে বাতের ব্যথা সারে, তক্ষক খেলে হাঁপানি থেকে যৌনক্ষমতা নানা রোগের চিকিৎসা হয়, আবার জোঁকের তেল নাকি সারিয়ে দেয় বাত-ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে এমন নানা লোকবিশ্বাস। তবে এসব দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা?
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
আরও পড়ুন
বান্দরবানে কমছে জুমের আবাদ, বাড়ছে মিশ্র ফলের চাষ
এইচএসসি-এসএসসি পাসেই শ্রম মন্ত্রণালয়ে চাকরির সুযোগ, পদ ১৫
এসএসসি পাসেই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে চাকরি, নিয়োগ ৫৩৮ জন
গরম গরম চা-কফি পান করছেন? ভয়ংকর ঝুঁকির কথা জানাল গবেষণা