ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

মাতৃদুগ্ধ বাড়াতে নতুন মায়েদের যেসব খাবার খাওয়া প্রয়োজন 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম
সদ্য মা হয়েছেন? মাতৃদুগ্ধ বাড়াতে পাতে রাখবেন যেসব খাবার । ছবি: সংগৃহীত

সন্তান জন্মের পর মায়ের জীবনযাত্রায় আসে বড় পরিবর্তন। নবজাতকের যত্নের পাশাপাশি নিজের খাবার ও পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে যেসব মা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাদের পর্যাপ্ত পুষ্টি ও তরল গ্রহণ জরুরি।

জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুর জন্য মায়ের দুধই প্রধান ও প্রয়োজনীয় খাবার। তাই এ সময়ে মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি না হওয়াও জরুরি। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মায়ের সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি বুকের দুধ উৎপাদনে সহায়ক হতে পারে।

কী খাবেন নতুন মায়েরা?

প্রসবের পর অন্য সময়ের তুলনায় স্তন্যদানকারী মায়ের অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত আমিষ বা প্রোটিন রাখা দরকার।

এ জন্য পাতে রাখতে পারেন— দুধ ও দই, ডিম, মাছ ও মাংস, বিভিন্ন ধরনের ডাল, সয়া, বাদাম ও শাকসবজি।

পাশাপাশি শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক রাখাও জরুরি। দিনে অন্তত ৬ থেকে ৮ গ্লাস পানি পান করার পাশাপাশি ডাবের পানি, স্যুপ ও দুধের মতো স্বাস্থ্যকর তরলও খাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন

ক্যালশিয়াম ও আয়রনের ঘাটতি নয়

সন্তান জন্মের পর মায়ের শরীরে ক্যালশিয়ামের চাহিদা বাড়ে। তাই দুধ, দই, চিজ, তিল, রাগি ও মাছ খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে।

আয়রনের ঘাটতি পূরণে সবুজ শাকসবজি, ডিম এবং পরিমিত পরিমাণে লাল মাংস উপকারী হতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন ডি-এর জন্য ডিম ও দুধ খাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি-এর ওষুধও নেওয়া যেতে পারে।

শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য মায়ের খাবারে আয়োডিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডও থাকা দরকার। মাছ, আখরোট ও তিসির বীজ এ ক্ষেত্রে ভালো উৎস হতে পারে।

কোন ভেষজ খাবার সহায়ক হতে পারে?

কিছু খাবারে এমন উপাদান রয়েছে, যা স্তন্যদানকারী মায়েদের বুকের দুধের পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। এসব উপাদানকে দুধ বাড়াতে সহায়ক যৌগ বলা হয়।

মৌরি, মেথি, সজনে পাতা বা সজনে পাতার গুঁড়া এবং রসুন এ ধরনের খাবারের মধ্যে রয়েছে। তবে এসব খাবার খেলেই সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যাবে—এমন নয়।

শুধু খাবার নয়, মায়ের যত্নও জরুরি

বুকের দুধ উৎপাদনের সঙ্গে মায়ের সামগ্রিক পুষ্টি, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং শারীরিক অবস্থার সম্পর্ক রয়েছে। তাই সন্তান জন্মের পর শুধু শিশুর খাবারের দিকে নজর না দিয়ে মায়ের নিজের খাবার, বিশ্রাম ও সুস্থতার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো খাবারকে বুকের দুধ বাড়ানোর নিশ্চিত উপায় হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দুধ কম হচ্ছে বলে মনে হলে বা শিশুর পর্যাপ্ত দুধ না পাওয়ার আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক বা স্তন্যদান বিষয়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মনে রাখবেন, জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুকে মায়ের দুধ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টি ও সুস্থতা এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
নতুন মামলায় গ্রেপ্তার তৌহিদ আফ্রিদি
কক্সবাজারের প্রশাসনিক মানচিত্রে নতুন নাম ‘মাতামুহুরি’
অসহ্য গরমে সুস্থ থাকতে কী খাবার খাওয়া উচিত?
বগুড়ায় ৩০ লাখ টাকার আইসসহ যুবক গ্রেপ্তার