ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

একই পেশায় দুজনে প্রেম, সুবিধা নাকি ঝামেলা পোহাতে হয়  

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
একই পেশায় দুজনের মধ্যে প্রেম, সুবিধার চেয়ে বাড়ে কি জটিলতা তা জেনে নিন । ছবি: সংগৃহীত

একই পেশার দুজন মানুষের মধ্যে প্রেম হলে সম্পর্কটা কেমন হয়? একদিকে থাকে একে অপরের কাজের চাপ ও ব্যস্ততা বোঝার সুবিধা, অন্যদিকে থাকে তুলনা, প্রতিযোগিতা আর কাজের চাপ ঘরে চলে আসার ঝুঁকি। তাই একই পেশার প্রেমে যেমন বাড়তি বোঝাপড়া তৈরি হয়, তেমনই কিছু জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

ধরা যাক, দুজন সাংবাদিক প্রেম করছেন। একজনের কাজের সময় রাত পর্যন্ত, অন্যজনের আবার ভোরেই দায়িত্ব শুরু। নির্দিষ্ট সময়ে কথা বলার পরিকল্পনা থাকলেও হঠাৎ সংবাদ সংগ্রহ, দায়িত্বের চাপ কিংবা শেষ মুহূর্তের কাজ এসে সব পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে।

এ ক্ষেত্রে অন্য পেশার সঙ্গীর মতো বারবার ব্যাখ্যা দিতে হয় না। কারণ দুজনেই জানেন, কাজের সময় হঠাৎ কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একজন যে চাপের মধ্যে আছেন, অন্যজন সেটি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝতে পারেন। ফলে অভিমান বা বিরক্তির বদলে অনেক সময় সহানুভূতিই বেশি কাজ করে।

না বললেও বোঝেন সঙ্গীর চাপ

চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিষয় দেখা যায়। রাত গভীরে জরুরি রোগীর জন্য হাসপাতালে ছুটতে হলে অন্য পেশার সঙ্গীর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এত রাতে যেতেই হবে কি না। কিন্তু সঙ্গী নিজেও চিকিৎসক হলে পরিস্থিতিটা বোঝানো সহজ হয়।

রোগীর অবস্থা কখন বদলে যেতে পারে, জরুরি দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এসব বিষয় তাকে আলাদা করে বোঝাতে হয় না। ফলে পেশাগত দায়িত্বের কারণে একে অপরকে সময় দিতে না পারলেও সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়াটা অনেক সময় গভীর থাকে।

আরও পড়ুন

তবে সমস্যাও আছে

একই পেশার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় জটিলতাগুলোর একটি হলো তুলনা। দুজন মানুষ একই ধরনের কাজ করলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের সাফল্য-ব্যর্থতা পাশাপাশি চলে আসে।

ধরা যাক, দুজনেই লেখালেখি করেন। একজনের লেখা বেশি মানুষের নজর কাড়ল, অন্যজনের লেখা তেমন সাড়া পেল না। মুখে হয়তো সঙ্গীর সাফল্যে অভিনন্দন জানানো হলো। কিন্তু মনের ভেতরে তৈরি হতে পারে অস্বস্তি বা নিজের সঙ্গে তুলনা।

এই অনুভূতি অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ পায় না। পরে অন্য কোনো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া হলে পুরোনো সেই কষ্ট সামনে চলে আসতে পারে। তখন মূল সমস্যাটি কোথায়, সেটি বুঝতেও সমস্যা হয়।

কাজের চাপ কি ঘরেও চলে আসে?

একই পেশার দুজন মানুষের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা মুছে যাওয়া।

দুজন চিকিৎসক একসঙ্গে থাকলে রাতের খাবারের টেবিলেও রোগীর কথা উঠতে পারে। ছুটির দিনেও হাসপাতালের ফোন এলে দুজনেরই মনোযোগ সেদিকে চলে যেতে পারে। একইভাবে দুজন সাংবাদিকের সংসারেও সংবাদ, কাজের চাপ, সম্পাদনা কিংবা পরের দিনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা চলতে পারে।

ফলে ঘর কখনও কখনও বিশ্রামের জায়গার বদলে কাজেরই আরেকটি অংশ হয়ে উঠতে পারে।

আবার সুবিধাটাও কম নয়

তবে একই পেশার সঙ্গীর একটি বড় সুবিধা হলো, তার দেওয়া পরামর্শ অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।

একজন লেখক তার লেখা সঙ্গীকে পড়ে শোনালে অন্য পেশার মানুষ হয়তো শুধু ভালো হয়েছে বলেই থেমে যাবেন। কিন্তু একই পেশার সঙ্গী হয়তো নির্দিষ্ট করে বলে দিতে পারেন, কোন জায়গাটি দুর্বল, কোথায় পরিবর্তন দরকার।

শুনতে প্রথমে খারাপ লাগলেও পরে সেই পরামর্শ কাজে লাগতে পারে। কারণ এখানে ভালোবাসার পাশাপাশি পেশাগত অভিজ্ঞতাও কাজ করে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় আরও কিছু চাপ

বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা দুই সহকর্মীর সম্পর্ক অনেক সময় সহজে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। সহকর্মীদের আলোচনা, অফিসের রাজনীতি কিংবা পদোন্নতি নিয়ে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হতে পারে।

একজন পদোন্নতি পেলে অন্যজনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সুবিধা পেয়েছেন—এমন কথাও উঠতে পারে। ফলে সম্পর্কের ওপর বাড়তি সামাজিক ও পেশাগত চাপ তৈরি হয়।

এ কারণে অনেক দম্পতি সচেতনভাবে আলাদা দায়িত্ব, আলাদা বিভাগ বা আলাদা প্রকল্পে কাজ করার চেষ্টা করেন। এতে সরাসরি প্রতিযোগিতার জায়গাটা কিছুটা কমে আসে।

শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক টিকবে কীভাবে?

একই পেশার দুজন মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা তৈরি করা। কখন কাজ নিয়ে আলোচনা হবে আর কখন শুধু সঙ্গীর পাশে থাকা দরকার—এই পার্থক্য বুঝতে হবে।

সঙ্গীকে সব সময় একজন সহকর্মী বা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখাও জরুরি। তার সাফল্যে নিজের সঙ্গে তুলনা না করে আনন্দ পাওয়া এবং ব্যর্থতার সময়ে প্রতিযোগিতা না করে পাশে দাঁড়ানোই সম্পর্ককে শক্ত করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত একই পেশার প্রেমে সুবিধা বেশি নাকি জটিলতা—এর কোনো একক উত্তর নেই। দুটোই পাশাপাশি থাকে। গভীর বোঝাপড়া যেমন সম্পর্ককে শক্ত করে, তেমনি তুলনা ও প্রতিযোগিতা ধীরে ধীরে দূরত্বও তৈরি করতে পারে।

তাই এই সম্পর্কের আসল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং সচেতন সীমারেখা। কখন পেশাকে সামনে রাখতে হবে আর কখন শুধু ভালোবাসার মানুষটিকে দেখতে হবে—এই বোধটুকুই হয়তো একই পেশার দুই মানুষের সম্পর্ককে আরও সুন্দর ও টেকসই করে তুলতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
ছোটভাইয়ের প্রেমে ‘নজর’ বড় ভাইয়ের, এক কাঠি সরেস ভাবিও
স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে ‘প্রেমিকের’ বাইকে উধাও ভারতীয় তরুণী, অতঃপর... 
নদী থেকে সোনার কণা সংগ্রহ করে প্রেমিকার জন্য আংটি বানালেন যুবক
প্রেমের টানে রাশিয়ায় গিয়ে গুপ্তচর মামলায় ১৫ বছরের কারাদণ্ড