ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

একই পেশায় দুজনে প্রেম, সুবিধা নাকি ঝামেলা পোহাতে হয়  

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
একই পেশায় দুজনের মধ্যে প্রেম, সুবিধার চেয়ে বাড়ে কি জটিলতা তা জেনে নিন । ছবি: সংগৃহীত

একই পেশার দুজন মানুষের মধ্যে প্রেম হলে সম্পর্কটা কেমন হয়? একদিকে থাকে একে অপরের কাজের চাপ ও ব্যস্ততা বোঝার সুবিধা, অন্যদিকে থাকে তুলনা, প্রতিযোগিতা আর কাজের চাপ ঘরে চলে আসার ঝুঁকি। তাই একই পেশার প্রেমে যেমন বাড়তি বোঝাপড়া তৈরি হয়, তেমনই কিছু জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

ধরা যাক, দুজন সাংবাদিক প্রেম করছেন। একজনের কাজের সময় রাত পর্যন্ত, অন্যজনের আবার ভোরেই দায়িত্ব শুরু। নির্দিষ্ট সময়ে কথা বলার পরিকল্পনা থাকলেও হঠাৎ সংবাদ সংগ্রহ, দায়িত্বের চাপ কিংবা শেষ মুহূর্তের কাজ এসে সব পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে।

এ ক্ষেত্রে অন্য পেশার সঙ্গীর মতো বারবার ব্যাখ্যা দিতে হয় না। কারণ দুজনেই জানেন, কাজের সময় হঠাৎ কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একজন যে চাপের মধ্যে আছেন, অন্যজন সেটি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝতে পারেন। ফলে অভিমান বা বিরক্তির বদলে অনেক সময় সহানুভূতিই বেশি কাজ করে।

না বললেও বোঝেন সঙ্গীর চাপ

চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিষয় দেখা যায়। রাত গভীরে জরুরি রোগীর জন্য হাসপাতালে ছুটতে হলে অন্য পেশার সঙ্গীর মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এত রাতে যেতেই হবে কি না। কিন্তু সঙ্গী নিজেও চিকিৎসক হলে পরিস্থিতিটা বোঝানো সহজ হয়।

রোগীর অবস্থা কখন বদলে যেতে পারে, জরুরি দায়িত্ব কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এসব বিষয় তাকে আলাদা করে বোঝাতে হয় না। ফলে পেশাগত দায়িত্বের কারণে একে অপরকে সময় দিতে না পারলেও সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়াটা অনেক সময় গভীর থাকে।

আরও পড়ুন

তবে সমস্যাও আছে

একই পেশার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় জটিলতাগুলোর একটি হলো তুলনা। দুজন মানুষ একই ধরনের কাজ করলে স্বাভাবিকভাবেই তাদের সাফল্য-ব্যর্থতা পাশাপাশি চলে আসে।

ধরা যাক, দুজনেই লেখালেখি করেন। একজনের লেখা বেশি মানুষের নজর কাড়ল, অন্যজনের লেখা তেমন সাড়া পেল না। মুখে হয়তো সঙ্গীর সাফল্যে অভিনন্দন জানানো হলো। কিন্তু মনের ভেতরে তৈরি হতে পারে অস্বস্তি বা নিজের সঙ্গে তুলনা।

এই অনুভূতি অনেক সময় সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ পায় না। পরে অন্য কোনো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ঝগড়া হলে পুরোনো সেই কষ্ট সামনে চলে আসতে পারে। তখন মূল সমস্যাটি কোথায়, সেটি বুঝতেও সমস্যা হয়।

কাজের চাপ কি ঘরেও চলে আসে?

একই পেশার দুজন মানুষের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা মুছে যাওয়া।

দুজন চিকিৎসক একসঙ্গে থাকলে রাতের খাবারের টেবিলেও রোগীর কথা উঠতে পারে। ছুটির দিনেও হাসপাতালের ফোন এলে দুজনেরই মনোযোগ সেদিকে চলে যেতে পারে। একইভাবে দুজন সাংবাদিকের সংসারেও সংবাদ, কাজের চাপ, সম্পাদনা কিংবা পরের দিনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা চলতে পারে।

ফলে ঘর কখনও কখনও বিশ্রামের জায়গার বদলে কাজেরই আরেকটি অংশ হয়ে উঠতে পারে।

আবার সুবিধাটাও কম নয়

তবে একই পেশার সঙ্গীর একটি বড় সুবিধা হলো, তার দেওয়া পরামর্শ অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।

একজন লেখক তার লেখা সঙ্গীকে পড়ে শোনালে অন্য পেশার মানুষ হয়তো শুধু ভালো হয়েছে বলেই থেমে যাবেন। কিন্তু একই পেশার সঙ্গী হয়তো নির্দিষ্ট করে বলে দিতে পারেন, কোন জায়গাটি দুর্বল, কোথায় পরিবর্তন দরকার।

শুনতে প্রথমে খারাপ লাগলেও পরে সেই পরামর্শ কাজে লাগতে পারে। কারণ এখানে ভালোবাসার পাশাপাশি পেশাগত অভিজ্ঞতাও কাজ করে।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় আরও কিছু চাপ

বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করা দুই সহকর্মীর সম্পর্ক অনেক সময় সহজে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। সহকর্মীদের আলোচনা, অফিসের রাজনীতি কিংবা পদোন্নতি নিয়ে নানা ধরনের ধারণা তৈরি হতে পারে।

একজন পদোন্নতি পেলে অন্যজনের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সুবিধা পেয়েছেন—এমন কথাও উঠতে পারে। ফলে সম্পর্কের ওপর বাড়তি সামাজিক ও পেশাগত চাপ তৈরি হয়।

এ কারণে অনেক দম্পতি সচেতনভাবে আলাদা দায়িত্ব, আলাদা বিভাগ বা আলাদা প্রকল্পে কাজ করার চেষ্টা করেন। এতে সরাসরি প্রতিযোগিতার জায়গাটা কিছুটা কমে আসে।

শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক টিকবে কীভাবে?

একই পেশার দুজন মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা তৈরি করা। কখন কাজ নিয়ে আলোচনা হবে আর কখন শুধু সঙ্গীর পাশে থাকা দরকার—এই পার্থক্য বুঝতে হবে।

সঙ্গীকে সব সময় একজন সহকর্মী বা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে দেখাও জরুরি। তার সাফল্যে নিজের সঙ্গে তুলনা না করে আনন্দ পাওয়া এবং ব্যর্থতার সময়ে প্রতিযোগিতা না করে পাশে দাঁড়ানোই সম্পর্ককে শক্ত করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত একই পেশার প্রেমে সুবিধা বেশি নাকি জটিলতা—এর কোনো একক উত্তর নেই। দুটোই পাশাপাশি থাকে। গভীর বোঝাপড়া যেমন সম্পর্ককে শক্ত করে, তেমনি তুলনা ও প্রতিযোগিতা ধীরে ধীরে দূরত্বও তৈরি করতে পারে।

তাই এই সম্পর্কের আসল চাবিকাঠি হলো পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং সচেতন সীমারেখা। কখন পেশাকে সামনে রাখতে হবে আর কখন শুধু ভালোবাসার মানুষটিকে দেখতে হবে—এই বোধটুকুই হয়তো একই পেশার দুই মানুষের সম্পর্ককে আরও সুন্দর ও টেকসই করে তুলতে পারে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
সম্পর্ক শেষ হয়েছে অনেক দিন আগে। জীবনও নিজের মতো এগিয়ে চলছে। আপনি জানেন, মানুষটি আপনার জন্য সঠিক ছিলেন না।
ভুল মানুষ, তবুও বারবার প্রাক্তনকে মনে পড়ে কেন
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একসময় চুল পড়া বা টাক পড়াকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হতো। তবে বর্তমানে অনেক তরুণের ২০-এর কোঠাতেই চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপালের দুই পাশ থেকে চুল সরে যাওয়া কিংবা মাথার ওপরের অংশে চুলের ঘনত্ব কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
অল্প বয়সেই চুল পড়া কিসের লক্ষণ
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
হঠাৎ বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভব হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এটি হৃদরোগের বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
একা বাড়িতে হঠাৎ বুকে ব্যথা হলে যা করবেন 
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। কেউ দ্রুত ফল পেতে চান, আবার কেউ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে চান।
ওজন কমাতে কতদিন লাগে 
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
আরও পড়ুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
স্ত্রীকে না জানিয়ে প্রেমিকার সঙ্গে বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা, পাসপোর্টেই সব ফাঁস
একজন চান বিয়ে, অন্যজন ক্যারিয়ার—সম্পর্ক টিকবে কীভাবে?
প্রথম প্রেম দিবস আজ