ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

তীব্র গরমে ব্যায়াম করবেন যেভাবে, শরীর থাকবে নিরাপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
প্রচণ্ড গরমে ব্যায়াম করার আগে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি, না হয় গুরুতর অসুস্থতার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরমে ব্যায়াম বা শরীরচর্চা করা বেশ কষ্টকর হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড গরমে দৌড়ানো, হাঁটা কিংবা খেলাধুলা করলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। এমনকি অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গিয়ে গুরুতর অসুস্থতাও দেখা দিতে পারে।

তবে গরমের কারণে একেবারে শরীরচর্চা বন্ধ করে দেওয়াও দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ যদি শারীরিকভাবে কম সক্রিয় হয়ে পড়ে, তাহলে ভবিষ্যতে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই গরমের সময়ে কখন, কীভাবে এবং কতক্ষণ ব্যায়াম করা নিরাপদ—তা জানা জরুরি।

গরমে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয় কেন?

শরীরচর্চার সময় পেশি কাজ করে এবং শরীরে তাপ তৈরি হয়। শরীর তখন ঘাম ও ত্বকের দিকে বেশি রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করে।

কিন্তু ত্বকে রক্তপ্রবাহ বাড়লে একই রক্ত পেশিতে অক্সিজেন পৌঁছানোর কাজেও কম পাওয়া যায়। ফলে গরমের মধ্যে শরীরচর্চা করলে দ্রুত ক্লান্তি আসতে পারে। একই সঙ্গে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং হৃদ্‌যন্ত্রকেও বেশি কাজ করতে হয়।

তাই প্রচণ্ড গরমে স্বাভাবিক সময়ের মতো একই মাত্রায় শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়া সব সময় নিরাপদ নয়।

সম্ভব হলে সকাল বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করুন

গরমের মধ্যে নিরাপদে শরীরচর্চার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সময় পরিবর্তন করা। সম্ভব হলে ভোর বা সকালে, কিংবা সন্ধ্যার পর ব্যায়াম করা ভালো।

সরাসরি রোদে শরীরচর্চা না করে ছায়াযুক্ত জায়গা বেছে নেওয়াও জরুরি। একই জায়গায় ছায়া ও রোদের তাপমাত্রার মধ্যে বড় পার্থক্য থাকতে পারে। তাই গরমের দিনে ছায়াযুক্ত স্থান শরীরচর্চার জন্য তুলনামূলক নিরাপদ।

আরও পড়ুন

শুধু তাপমাত্রা নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও দেখুন

গরমে শরীর ঘামের মাধ্যমে নিজেকে ঠান্ডা রাখে। ঘাম ত্বক থেকে বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার সময় শরীরের তাপ কমে।

কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের তাপ কমানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বাতাস চলাচল কম এমন জায়গায় শরীরচর্চা করলেও গরমের চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।

তাই ব্যায়ামের আগে শুধু তাপমাত্রা নয়, বাতাসের আর্দ্রতা ও চলাচলের বিষয়টিও বিবেচনা করা ভালো।

গরমে ব্যায়ামের সময় কমিয়ে দিন

যেদিন গরম বেশি, সেদিন প্রতিদিনের মতো দীর্ঘ সময় শরীরচর্চা করার প্রয়োজন নেই। ব্যায়ামের সময় কমিয়ে আনা এবং মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়া নিরাপদ।

প্রয়োজনে সকালে অল্প সময় হাঁটা কিংবা ঘরের ভেতরে হালকা শরীরচর্চা করা যেতে পারে। গরমের দিনে নিজের স্বাভাবিক গতির চেয়ে ধীরে চলাই ভালো।

বিরতির সময় সম্ভব হলে ঠান্ডা জায়গায় যান। ছায়ায় বসুন, ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন এবং শরীরকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরতে সময় দিন।

শরীর ঠান্ডা রাখবেন যেভাবে

শরীর ঠান্ডা করার জন্য শুধু বরফের প্যাক ব্যবহার করলেই সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায় না। কারণ বরফের প্যাক সাধারণত শরীরের অল্প একটি অংশে ঠান্ডা পৌঁছায়।

এর বদলে হাত ও বাহুর কিছু অংশ ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখা যেতে পারে। শরীরের ত্বকে পানি ঢাললেও উপকার পাওয়া যায়। পানি ত্বক থেকে বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার সময় শরীরের তাপ কমাতে সাহায্য করে।

ভেজা ঠান্ডা তোয়ালে হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে বারবার ব্যবহার করেও শরীর ঠান্ডা রাখা যায়।

ব্যায়ামের আগেই শরীর ঠান্ডা করে নিন

গরমের মধ্যে বের হওয়ার আগে শরীরের তাপমাত্রা কিছুটা কমিয়ে নেওয়াও উপকারী হতে পারে। এতে শরীর অতিরিক্ত গরম হয়ে বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছাতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগে।

ঠান্ডা পানি বা বরফ মেশানো পানি শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত।

ধীরে ধীরে গরমের সঙ্গে অভ্যস্ত হোন

গরমে হঠাৎ করে বেশি সময় শরীরচর্চা না করে ধীরে ধীরে সময় ও পরিমাণ বাড়ানো ভালো। নিয়মিতভাবে প্রায় এক থেকে দুই সপ্তাহ গরমের মধ্যে শরীরচর্চা করলে শরীর ধীরে ধীরে তাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করে।

এ সময় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বাড়ে, ঘাম হওয়ার হার বাড়ে এবং রক্তের তরল অংশের পরিমাণও বাড়তে পারে। ফলে শরীর গরমের চাপ তুলনামূলক ভালোভাবে সামলাতে পারে।

তবে এই অভ্যাস স্থায়ী নয়। নিয়মিত গরমের সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ না দিলে কিছুদিন পর সেই অভিযোজন কমে যেতে পারে।

শরীরের সংকেতকে অবহেলা করবেন না

গরমে শরীরচর্চার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের শরীরের সংকেত বোঝা। শুধু অভ্যাস আছে বা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বলে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া ঠিক নয়।

মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে। এরপর দ্রুত ঠান্ডা জায়গায় গিয়ে শরীর ঠান্ডা করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

গরমে শরীরচর্চা করার সময় নিজের গতি কমিয়ে আনা দুর্বলতার লক্ষণ নয়। বরং অতিরিক্ত গরমে নিজের শরীরকে নিরাপদ রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়গুলোর একটি হলো প্রয়োজন বুঝে থেমে যাওয়া।

তাপমাত্রা বাড়লেও শরীরচর্চা পুরোপুরি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে গরমের দিনে কখন ব্যায়াম করবেন, কোথায় করবেন, কতক্ষণ করবেন এবং কীভাবে শরীর ঠান্ডা রাখবেন—এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

সকালে বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা, ছায়াযুক্ত জায়গা বেছে নেওয়া, সময় ও পরিশ্রম কমানো, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং শরীরের সংকেত বুঝে প্রয়োজন হলে থেমে যাওয়া—এই অভ্যাসগুলো গরমে নিরাপদে সক্রিয় থাকতে সাহায্য করতে পারে।

তাপপ্রবাহ যত বাড়বে, ততই শুধু কতটা শরীরচর্চা করছি তা নয়—কখন, কোথায় এবং কীভাবে করছি, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

সূত্র: বিবিসি


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
মাত্র ১০ মিনিটেই করুন পুরো শরীরের ব্যায়াম
মন ভালো রাখতে মানুন ৪ সহজ অভ্যাস
ব্যায়ামের সময় নেই? ঘরের কাজেই মিলবে উপকার
৯০ মিনিটের ওয়ার্কআউটের চেয়েও কার্যকর হতে পারে ৩ মিনিটের ব্যায়াম