ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

আমেরিকায় পুলিশ গাড়ি থামালে বাংলাদেশিদের যে ৪ কথা না বলাই ভালো

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় পুলিশ থামালে শান্ত থাকা এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি । ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ পুলিশ থামালে অনেকেই ভয় বা নার্ভাস হয়ে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলে ফেলেন। বিশেষ করে নতুন অভিবাসী কিংবা দেশটির ট্রাফিক আইন ও পুলিশি প্রক্রিয়ার সঙ্গে কম পরিচিতদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা বেশি ঘটতে পারে। কিন্তু পুলিশের সঙ্গে কথা বলার সময় অসতর্কভাবে বলা কিছু কথা পরে টিকিট, তদন্ত কিংবা আদালতের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশ গাড়ি থামালে চালক ও যাত্রী—দুজনেরই কিছু সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তবে পুলিশ চাইলে চালককে ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির নিবন্ধন এবং বীমার প্রমাণ দেখাতে হয়।

এ সময় শান্ত থাকা, হঠাৎ কোনো নড়াচড়া না করা এবং হাত এমন জায়গায় রাখা উচিত, যেখানে পুলিশ দেখতে পারেন। জেনে নিন, এমন পরিস্থিতিতে কোন চার ধরনের কথা বা আচরণ এড়িয়ে চলা ভালো।

১. ‘আপনি আমার গাড়ি তল্লাশি করতে পারেন’

পুলিশ যদি গাড়ি তল্লাশির অনুমতি চায়, তাহলে নিজের অধিকার সম্পর্কে না জেনে তড়িঘড়ি সম্মতি দেওয়া ঠিক নয়। সাধারণভাবে চালক নিজের গাড়ি তল্লাশির অনুমতি দিতে বাধ্য নন।

সম্মতি দিতে না চাইলে শান্তভাবে বলতে পারেন, ‘অফিসার, আমি তল্লাশিতে সম্মতি দিচ্ছি না।’

তবে এর অর্থ এই নয় যে পুলিশ কোনো অবস্থাতেই গাড়ি তল্লাশি করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে গাড়ি তল্লাশির ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে বৈধ আইনি কারণ থাকলে চালকের অনুমতি বা আগাম ওয়ারেন্ট ছাড়াও পুলিশ তল্লাশি করতে পারে।

তাই সম্মতি না দেওয়া আপনার অধিকার হলেও পুলিশি কাজে শারীরিকভাবে বাধা দেওয়া উচিত নয়।

আরও পড়ুন

২. নিজের ভুল স্বীকার করে অপ্রয়োজনীয় কথা

পুলিশ কেন গাড়ি থামিয়েছে, তা জানতে চাইলে ভয় পেয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেওয়া থেকে সতর্ক থাকা উচিত।

যেমন—
‘আমি জানতাম না এটা বেআইনি’,
‘আমি গতিসীমা খেয়াল করিনি’ কিংবা
‘দুঃখিত, আমি এখানে নতুন’—এ ধরনের বক্তব্য পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে শুধু ‘দুঃখিত’ বললেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দোষী হয়ে যান, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। অভিযোগের সত্যতা নির্ভর করে প্রমাণ, আইন এবং সংশ্লিষ্ট আদালত বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অপ্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা না দিয়ে নিজের চুপ থাকার অধিকার ব্যবহার করতে চাইলে তা স্পষ্টভাবে জানানো যেতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা ভুয়া নথি দেখানো যাবে না।

৩. অবৈধ কিছু বা মদ্যপানের তথ্য স্বেচ্ছায় বলা

পুলিশ কখনো জিজ্ঞাসা করতে পারে, ‘আপনি জানেন কেন আপনাকে থামানো হয়েছে?’ অথবা ‘আপনি কি মদ পান করেছেন?’

এ ধরনের প্রশ্নের উত্তরে অপ্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। সাধারণ পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে চালক ও যাত্রীর চুপ থাকার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। তবে পরিচয়, ড্রাইভিং সংক্রান্ত কাগজপত্র, মদ বা মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালানোর তদন্ত এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে।

বিশেষ করে মদ বা মাদক গ্রহণ করে গাড়ি চালানোর অভিযোগ গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। গ্রেপ্তার, ফৌজদারি মামলা কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স স্থগিত হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

কিছু অস্থায়ী ভিসাধারীর ক্ষেত্রে অভিবাসন বা ভিসা নিয়েও জটিলতা দেখা দিতে পারে।

৪. পুলিশের সঙ্গে তর্ক বা হঠাৎ নড়াচড়া

পুলিশ অফিসারের সঙ্গে তর্কে জড়ানো, শারীরিক প্রতিরোধ করা, পালানোর চেষ্টা কিংবা হঠাৎ পকেট বা গ্লাভ বক্সে হাত দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।

পুলিশ গাড়ি থামালে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামান। সম্ভব হলে ইঞ্জিন বন্ধ করুন, জানালা আংশিক নামিয়ে হাত স্টিয়ারিংয়ের ওপর রাখুন।

লাইসেন্স বা গাড়ির কাগজপত্র যদি গ্লাভ বক্সে থাকে, তাহলে হঠাৎ হাত না বাড়িয়ে আগে পুলিশকে জানান। যেমন বলতে পারেন, ‘আমার লাইসেন্স গ্লাভ বক্সে আছে, আমি কি সেটি বের করতে পারি?’

নিজের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে মনে হলে কী করবেন?

ঘটনার সময় পুলিশের সঙ্গে ঝামেলায় না জড়িয়ে পরিস্থিতি শান্তভাবে সামলানোই সবচেয়ে নিরাপদ। পরে প্রয়োজন হলে ঘটনার সময় ও স্থান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম বা ব্যাজ নম্বর এবং প্যাট্রোল গাড়ির নম্বর লিখে রাখতে পারেন।

জনসমক্ষে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তার কার্যক্রম ভিডিও বা ছবি ধারণের সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে। তবে রেকর্ড করার সময় পুলিশি কাজে শারীরিক বাধা সৃষ্টি করা বা বৈধ নির্দেশ অমান্য করা যাবে না।

টিকিট পেলে কী করবেন?

ট্রাফিক টিকিট পেলে সেটিতে দেওয়া নির্দেশনা ভালোভাবে পড়ুন। টিকিটের ধরন এবং কোন এলাকায় এটি দেওয়া হয়েছে, তার ওপর পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ভর করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ট্রাফিক আইন ও পুলিশি প্রক্রিয়ায় পার্থক্য রয়েছে। তাই সব পরিস্থিতিতে একই নিয়ম প্রযোজ্য—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—পুলিশ গাড়ি থামালে শান্ত থাকুন, প্রয়োজনীয় ড্রাইভিং নথি দেখান, মিথ্যা তথ্য দেবেন না এবং নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকুন।

সূত্র: আমেরিকা বাংলা


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
কর্মীদের যাতায়াতের কষ্ট দেখে বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দিলেন মালিক
প্রদর্শনীতে হঠাৎ ‘অদ্ভুত গাড়ি’ দেখে চোখ আটকে যায় মানুষের!
যুক্তরাষ্ট্রে ৪ বিলিয়ন ডলারের কারখানা গড়ছে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অডি’
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন