
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবার, শরীরচর্চা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা জরুরি। এ সময় অনেকেই করলা, জাম ও নিমের রস খাওয়ার পরামর্শ দেন। প্রশ্ন হলো, এই তিন উপাদানের রস কি সত্যিই মাত্র সাত দিনে রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে?
করলার রস কি উপকারী?
করলায় রয়েছে চারানটিন, ভিসিন ও পলিপেপটাইড-পি নামের কিছু উপাদান। এগুলো শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছু গবেষণায় করলা খাওয়ার সঙ্গে রক্তে শর্করার মাত্রা কমার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে শুধু করলার রস খেলেই সবার রক্তে শর্করা একইভাবে কমবে, এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
জামের ভূমিকা কী?
জামে রয়েছে জাম্বোলিন ও এলাজিক অ্যাসিডের মতো উপাদান। এগুলো শ্বেতসার ভেঙে সাধারণ শর্করায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সহায়তা করতে পারে।
ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে কিছুটা ভূমিকা রাখতে পারে। তবে জাম বা জামের রস ডায়াবেটিসের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
নিমের রস কতটা কার্যকর?
নিম পাতায় রয়েছে বিভিন্ন উপকারী উপাদান, যা প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ চাপ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু গবেষণায় নিমের নির্যাস ইনসুলিনের কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রক্রিয়ায় সহায়ক হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে নিমের রস খেলেই দ্রুত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, এমন প্রমাণ নেই।
তাহলে কি ৭ দিনে সুগার কমবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, করলা-জাম-নিমের রস খেলেই সাত দিনে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে— এমন দাবি করা ঠিক নয়।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে নির্ভর করে—
১. কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন
২. নিয়মিত শরীরচর্চা করছেন কি না
৩. কতদিন ধরে ডায়াবেটিস রয়েছে
৪. অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা আছে কি না
৫. কোন ধরনের ওষুধ গ্রহণ করছেন
এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ১২৬ বা তার বেশি হলে তা ডায়াবেটিসের সীমার মধ্যে পড়ে। তাই মাত্রা ১৫০-এর কাছাকাছি হলে শুধু ভেষজ রসের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
ডায়াবেটিসের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ বা পরিবর্তন করাও ঠিক নয়। করলা, জাম বা নিমের মতো ভেষজ উপাদান খাদ্যতালিকায় রাখতে চাইলে চিকিৎসককে জানিয়ে নেওয়া ভালো।
আরটিভি/জেএমএ


