ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

যত যত্নই নিন, একটা দৈর্ঘ্যের পর চুল আর বাড়ে না কেন? 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের বেশি চুল না বাড়ার পেছনে থাকতে পারে জিনগত বৈশিষ্ট্য ও চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিচক্র । ছবি: সংগৃহীত

অনেকেরই স্বপ্ন কোমর ছোঁয়া লম্বা, ঘন ও ঝলমলে চুল। সেই আশায় নিয়মিত তেল, চুলের পরিচর্যা, কন্ডিশনার ব্যবহার থেকে শুরু করে আগা ফাটা চুল ছেঁটে ফেলাও চলে। তবু দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পর যেন চুল আর লম্বাই হচ্ছে না। তাহলে কি সত্যিই চুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে?

আসলে বিষয়টি তা নয়। চুলের গোড়া থেকে নতুন চুল তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায় না। তবে চুল কতটা লম্বা হতে পারবে, তার পেছনে কাজ করে শরীরের স্বাভাবিক কিছু জৈবিক কারণ।

চুল কতটা লম্বা হবে, নির্ধারণ করে জিন

চুলের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য নির্ধারণে জিনগত বৈশিষ্ট্যের বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রতিটি চুলের গোড়ার একটি নির্দিষ্ট বৃদ্ধির সময় থাকে। এই সময় যত দীর্ঘ হবে, চুল তত বেশি সময় ধরে বাড়তে পারবে।

কারও চুলের বৃদ্ধির সময় কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা আরও দীর্ঘ হয়। তাই একইভাবে চুলের যত্ন নিলেও সবার চুল সমান লম্বা হবে, এমন নয়।

আরও পড়ুন

চুলেরও রয়েছে নিজস্ব বৃদ্ধির চক্র

চুল সাধারণত তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়—বৃদ্ধির পর্যায়, পরিবর্তনের পর্যায় এবং বিশ্রামের পর্যায়।

বৃদ্ধির পর্যায়ে চুল লম্বা হতে থাকে। এই সময় শেষ হলে চুলের বৃদ্ধি থেমে যায়। পরে পুরোনো চুল ঝরে পড়ে এবং নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের পর চুল আর লম্বা হচ্ছে না মনে হলেও, চুলের স্বাভাবিক চক্র চলতেই থাকে।

হরমোন ও পুষ্টির ঘাটতিও হতে পারে কারণ

জিনগত কারণের পাশাপাশি শরীরের হরমোনের ভারসাম্যও চুলের বৃদ্ধি ও চুল পড়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পর শরীরের পরিবর্তন, ঋতুচক্র বন্ধ হওয়ার সময় কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপ—এসব কারণেও চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে।

এছাড়া শরীরে আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-বারো, বায়োটিন বা প্রোটিনের ঘাটতি থাকলেও চুলের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাহলে চুল লম্বা রাখার উপায় কী?

জিনগতভাবে নির্ধারিত চুলের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য বদলানো সম্ভব নয়। তবে চুল যাতে ভেঙে গিয়ে আগেই ছোট হয়ে না যায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।

পর্যাপ্ত প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত তাপ দিয়ে চুল সাজানো এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে। মাথার ত্বকে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার এবং সময়মতো আগা ফাটা অংশ ছেঁটে ফেলাও চুলের যত্নে সহায়ক।

তাই চুল বাড়ছে না মনে হলেই কোনো অলৌকিক তেল বা শ্যাম্পুর ওপর ভরসা না করে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্র, জিনগত বৈশিষ্ট্য, পুষ্টি এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়াই বেশি জরুরি।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
গর্ভাবস্থায় অনেক নারী হঠাৎ কিছু বিষয় ভুলে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন।
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই অনেকের মনে পড়ে ইসবগুলের ভুসির কথা। পানিতে মিশিয়ে খাওয়া পরিচিত এই খাবারটি দীর্ঘদিন ধরে পেট পরিষ্কার রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ইসবগুলের উপকারিতা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
বয়সের ছাপ কমানো থেকে শুরু করে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন কারণে বোটক্স ব্যবহার করা হয়।
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
রাতে বিছানায় শুয়ে আছেন, কিন্তু পায়ে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে।
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
শিয়ালের মাংস খেলে বাতের ব্যথা সারে, তক্ষক খেলে হাঁপানি থেকে যৌনক্ষমতা নানা রোগের চিকিৎসা হয়, আবার জোঁকের তেল নাকি সারিয়ে দেয় বাত-ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে এমন নানা লোকবিশ্বাস। তবে এসব দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা?
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
আরও পড়ুন
কেরাটিন ছাড়াই ৩ পরিচর্যায় চুল করুন মসৃণ-ঝকঝকে 
হাতে সময় কম? এই সহজ উপায়ে ফিরবে চুলের জেল্লা
চুলে সাবান ব্যবহার করলে কী হয়
চুলের জেল্লা ফেরাতে তেল মাখুন ঠিক সময়ে