
অনেকেরই স্বপ্ন কোমর ছোঁয়া লম্বা, ঘন ও ঝলমলে চুল। সেই আশায় নিয়মিত তেল, চুলের পরিচর্যা, কন্ডিশনার ব্যবহার থেকে শুরু করে আগা ফাটা চুল ছেঁটে ফেলাও চলে। তবু দেখা যায়, একটি নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্যের পর যেন চুল আর লম্বাই হচ্ছে না। তাহলে কি সত্যিই চুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে?
আসলে বিষয়টি তা নয়। চুলের গোড়া থেকে নতুন চুল তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায় না। তবে চুল কতটা লম্বা হতে পারবে, তার পেছনে কাজ করে শরীরের স্বাভাবিক কিছু জৈবিক কারণ।
চুল কতটা লম্বা হবে, নির্ধারণ করে জিন
চুলের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য নির্ধারণে জিনগত বৈশিষ্ট্যের বড় ভূমিকা রয়েছে। প্রতিটি চুলের গোড়ার একটি নির্দিষ্ট বৃদ্ধির সময় থাকে। এই সময় যত দীর্ঘ হবে, চুল তত বেশি সময় ধরে বাড়তে পারবে।
কারও চুলের বৃদ্ধির সময় কয়েক বছর স্থায়ী হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা আরও দীর্ঘ হয়। তাই একইভাবে চুলের যত্ন নিলেও সবার চুল সমান লম্বা হবে, এমন নয়।
চুলেরও রয়েছে নিজস্ব বৃদ্ধির চক্র
চুল সাধারণত তিনটি পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়—বৃদ্ধির পর্যায়, পরিবর্তনের পর্যায় এবং বিশ্রামের পর্যায়।
বৃদ্ধির পর্যায়ে চুল লম্বা হতে থাকে। এই সময় শেষ হলে চুলের বৃদ্ধি থেমে যায়। পরে পুরোনো চুল ঝরে পড়ে এবং নতুন চুল গজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের পর চুল আর লম্বা হচ্ছে না মনে হলেও, চুলের স্বাভাবিক চক্র চলতেই থাকে।
হরমোন ও পুষ্টির ঘাটতিও হতে পারে কারণ
জিনগত কারণের পাশাপাশি শরীরের হরমোনের ভারসাম্যও চুলের বৃদ্ধি ও চুল পড়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পর শরীরের পরিবর্তন, ঋতুচক্র বন্ধ হওয়ার সময় কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপ—এসব কারণেও চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রে পরিবর্তন আসতে পারে।
এছাড়া শরীরে আয়রন, জিঙ্ক, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-বারো, বায়োটিন বা প্রোটিনের ঘাটতি থাকলেও চুলের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাহলে চুল লম্বা রাখার উপায় কী?
জিনগতভাবে নির্ধারিত চুলের সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য বদলানো সম্ভব নয়। তবে চুল যাতে ভেঙে গিয়ে আগেই ছোট হয়ে না যায়, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি।
পর্যাপ্ত প্রোটিন ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত তাপ দিয়ে চুল সাজানো এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার এড়িয়ে চলা উপকারী হতে পারে। মাথার ত্বকে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার এবং সময়মতো আগা ফাটা অংশ ছেঁটে ফেলাও চুলের যত্নে সহায়ক।
তাই চুল বাড়ছে না মনে হলেই কোনো অলৌকিক তেল বা শ্যাম্পুর ওপর ভরসা না করে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্র, জিনগত বৈশিষ্ট্য, পুষ্টি এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়াই বেশি জরুরি।
আরটিভি/জেএমএ




